বরিশালে লাখ টাকার ফসল লুটপাটের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :: পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে অতিরিক্ত জমি দাবী করা মামলায় আদালত থেকে রায় বঞ্চিত হওয়া সহ পুলিশ সুপার নিকট ও বিভিন্নস্থানে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হয় । যা প্রতিটি অভিযোগ তদন্তে প্রমানিত না হওয়ায় খারিজ হয়ে যাওয়ার জেড় হিসাবে সৎভাই অহিদ রাঢ়ির ৫ বছরের জন্য লিজ নেওয়া দেড় একর জমির ঘেড় থেকে মাছ চাষ ও কৃষি চাষাবাদ ফসল জোড় পূর্বক বিভিন্ন লোকজন নিয়ে এসে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মিষ্টি কুমড়া প্রকাশ্য দিবালোকে ঘেড় থেকে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী আবদুল মোতালেব রাঢ়ির বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল জেলা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড গাগুরিয়া আননুর জামে মসজিদ সংলগ্ম অহিদ রাঢ়ির ঘেড়ে।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয় লোকজন সহ অহিদ রাঢ়ি বলেন ২৩ সালের অক্টোবর মাসে পিডিবিতে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার সেলিম ও তার নিকটতম আত্বিয় সৌদি মিশনে থাকা র‌্যাব সদস্য বাবুলের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ৫ বছরের জন্য দেড় একর সম্পত্তি লিজ নিয়ে অহিদ রাঢ়ি একটি মাছের ঘেড় সহ ঘেড়ের চারপাশে কৃষি ফসলাধী চাষাবাদ
করেন।

সৎভাই মামলাবাজখ্যাত মোতালেব রাঢ়ির নেতৃত্বে স্ত্রী,পুত্র,কন্যা,জামাই ও কিছু ভাড়াকরা লোকজন নিয়ে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে অহিদ রাঢ়ি বরিশালে থাকার সুযোগে তার ঘেড়ে লুটপাঠ চালায়।

এসময় ঘেড়ের খেতে থাকা প্রায় লক্ষাধিক বড় বড় মিষ্টি কুমড়া কেটে নিয়ে যায়। এসময় অহিদ রাঢ়ির স্ত্রী ও বাড়ির লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদেরকে হাতে থাকা দা নিয়ে মোতালেব তেড়ে আসলে ভয়তে তারা বাড়ির ভিতর চলে যায়।

ঘেড় সংলগ্ম আননুর জামে মসজিদের ইমাম মাওঃ আবুল হাসান বলেন,শুক্রবার সকাল থেকে ১০টার মধ্যে আব্দুল মোতালেব রাঢ়ি লোকজন নিয়ে এসে ঘেড়ে হামলা চালিয়ে ফসলাদী কেটে নিয়ে যায়। কেন অহিদের ঘেড়ের ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছেন তা জানতে চাইলে মোতালেব বলেন আমার জমির ফসল আমি কেটে নিচ্ছি

একই এলাকার ইলিয়াস বেপারী বলেন অহিদের যে ঘেড় থেকে লক্ষাধিক টাকার ফসল কেটে নিয়ে গেছে মোতালেব। ঐ জমি অহিদ র‌্যাব সদস্য বাবুল ও ইঞ্জিনিয়ার সেলিমের কাছ থেকে লিজ নিয়ে ঘেড় তৈরী করে সেই ফসল কেটে নিয়ে যায় মামলাবাজ মোতালেব সহ তার দলবল।

এব্যাপারে উক্ত এলাকার উকিলবাজারে বসে মোতালেব রাঢ়ির কাছে অহিদের ঘেড়ে লুঠপাট করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি মামলায় রায় পেয়েছি সেই কারনে আমার জমি থেকে সামান্ন কয়টা মিষ্টি কুমড়া কেটে আনছি আমি কোন লুঠপাট করি নাই। তবে লোকজন ঘেড়ের পাশে থাকা আমার জমির ফসল কেটে আনার কথা অকপটে স্বিকার করেন।

উল্লেখ্য পৈত্তিক বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে আবদুল মোতালেবের সৎভাই অহিদ রাঢ়ির
বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন উক্ত মামলায় বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ ভোগ দখলীয় জমিতে থাকার কারনে বিবাদী অহিদ রাঢ়ির বিরুদ্ধে স্থাপিত প্রসিডিং চুরান্ত গেল
না এবং উভয়পক্ষদ্বয়কে তাদের দখলীয় সম্পত্তিতে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে থাকার জন্য আদেশ দিয়ে এবং মামলাটি নিস্পত্তি করে দেন বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহ্ মোঃ রফিকুল ইসলাম।

উক্ত আদেশ পেয়ে মামলাবাজ আবদুল মোতালেব রাঢ়ি মনে করেন আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে বলে নিজ এলাকায় প্রচার করে বেড়ান। অন্যদিকে মামলার বিবাদী অহিদ রাঢ়ি নিজ ভোগ দখলীয় জমির পাশে ২৩ সালের অক্টোবর মাসে দেড় একর জমি ৫বছরের লিজ নিয়ে ঘেড় সহ কৃষি ফসলাদী চাষাবাদ করেন। এব্যাপারে অহিদ রাঢ়ি বলেন আমার সেই লিজের ঘেড়ের থাকা মোতালেব দলবল নিয়ে লক্ষাদিক টাকার ফসল কেটে নিয়ে গেছে আমি আদালতে ২/১দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি বলে জানান।




বরিশালে ফসল উৎপাদন করে  ঘরে বসেই বিক্রি, কম খরচে বেশি লাভ

এস এল টি তুহিন বরিশাল:: উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বরিশালে সয়াবিন চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত বীজ রোপণ এবং ওষুধ-কীটনাশক না লাগায় এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

চাষিরা বলছেন, প্রতি বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় সয়াবিন চাষ বাড়লেও তেল উৎপাদন হচ্ছে না। পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে ঘরে বসেই বিক্রি করা যায়। এতে অন্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে যে পরিমাণ সয়াবিন উৎপাদিত হয়, তা দিয়ে পশুখাদ্যের চাহিদাও পূরণ হয় না। তেল উৎপাদনে যেতে হলে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বাড়াতে হবে। তবে ঘরে বসেই বিক্রি করে ভালো লাভ হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। ভালো ফলন এবং লাভের আশায় ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বরিশালে সয়াবিন চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বরিশালে সয়াবিন চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের

দিন দিন জেলায় সয়াবিন চাষ বাড়ছে জানিয়ে বরিশালের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চলতি বছর সদরের শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ছয় গ্রামের ১৩০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এর সঙ্গে জড়িত ২১৫ চাষি ও তাদের পরিবারের সদস্য। আগে এসব জমিতে মুগ ডাল চাষ হতো। কিন্তু যেভাবে পরিশ্রম করতেন সেভাবে লাভ হতো না চাষিদের। এ কারণে সয়াবিন চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। কারণ সয়াবিন চাষে তেমন খরচ নেই। গরু-ছাগলে খায় না। পোকাও আক্রমণ করে না। বিক্রিতে ঝামেলা নেই। ঘরে বসেই বিক্রি হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশি। এজন্য দিন দিন বাড়ছে চাষাবাদ।’

এক বিঘা জমি চাষ, বীজ রোপণ, সার এবং ওষুধে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে এই কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিপরীতে ১০-১২ মণ সয়াবিন পাওয়া যায়। ১৪০০-১৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে ২০ হাজার টাকার মতো লাভ হয়। অন্য ফসলে এত লাভ হয় না। জমিতে বীজ রোপণের তিন-চার মাসের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। এরপর ফলন বাড়ি নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নেন।’

শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কৃষক জাকির মীর, কামরুল শরীফ ও গোলাম মোর্শেদসহ একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, আগে ওসব জমিতে মুগ ডাল চাষ করতেন। কিন্তু তেমন লাভ হয় না। এর মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে খরচ তোলাও যায় না। কিন্তু সয়াবিন চাষ অধিক লাভজনক। এ কারণে যার যতটুকু জমি আছে, তাতে চাষ করেছেন। আগামী মে মাসে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। বিক্রি করতে পাইকারদের কাছে যেতে হয় না। পাইকাররা লোক পাঠিয়ে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে সয়াবিন কিনে নিয়ে যান। এতে পরিবহন খরচ বেঁচে যায়।

বরিশাল জেলায় ২৮ হাজার ৫০ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বরিশাল জেলায় ২৮ হাজার ৫০ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে

চাষাবাদ বাড়ার কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, অন্য ফসল চাষ করলে গরু-ছাগল ও পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে সময় দিতে হয়। কিন্তু সয়াবিন নিয়ে সে চিন্তা নেই। গরু-ছাগল সয়াবিন গাছ খায় না। পোকা আক্রমণ করে না। এমনকি অন্যান্য ফসলে নিড়ানি দিতে হয়। সয়াবিনে দিতে হয় না। পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার এবং ওষুধ ফ্রি দেওয়ায় চাষাবাদে খরচ কম হয়। এতে লাভের পরিমাণ বেশি থাকছে। এসব কারণে সয়াবিন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা।

বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন বরিশাল জেলায় উৎপাদন হয় বলে জানালেন বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. শওকত ওসমান। তিনি বলেন, ‘এবার জেলায় ২৮ হাজার ৫০ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এটি পূরণ হবে। এরপর ভোলায় ১১ হাজার হেক্টর জমির বিপরীতে ১৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, পিরোজপুরে ১০ হেক্টর জমির বিপরীতে ১০ মেট্রিক টন, ঝালকাঠিতে ১৪ হেক্টর জমির বিপরীতে ১৮ মেট্রিক টন, পটুয়াখালীতে ১৫ হেক্টর জমির বিপরীতে ২৭ মেট্রিক টন, বরগুনায় পাঁচ হেক্টর জমির বিপরীতে সাত মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।’

এই পরিমাণ সয়াবিন থেকে তেল উৎপাদন সম্ভব নয় উল্লেখ করে শওকত ওসমান বলেন, ‘এগুলো পশুখাদ্যের জন্য ব্যবসায়ীরা কেনেন। পশুখাদ্যের জন্য যে পরিমাণ প্রয়োজন, তাও উৎপাদন হচ্ছে না। তবে প্রতি বছর উৎপাদন বাড়ছে। বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার পাঁচ গুণ উৎপাদন সম্ভব হলে তেল উৎপাদন করা যাবে। সে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছি আমরা।




বম্বে মরিচ চাষ করে পটুয়াখালীর গাজী হেমায়েত উদ্দিনের লাখ টাকা আয়

বরিশাল অফিস :: গাজী হেমায়েত উদ্দিন (৩০) স্নাতকোত্তর পাস করার পর চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে কৃষিকাজে জড়িয়েছেন, পেয়েছেন সাফল্যও। চলতি বছর তিনি শুধু বম্বে মরিচ চাষ করে উপার্জন করেছেন প্রায় তিন লাখ টাকা। মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে বছরব্যাপী বম্বে মরিচ চাষ করে এমন সাফল্য পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া সবজি চাষ করে তাঁর আয় প্রায় ১০ লাখ টাকা।

শুধু হেমায়েত নন, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের কৃষকদের দিন ফিরেছে বম্বে মরিচ ও সবজি চাষ করে। অথচ কয়েক বছর আগেও আমন ধান ছিল এ অঞ্চলের একমাত্র ফসল।

জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে কলাপাড়া উপজেলার পাখিমারা গ্রামে হেমায়েতের বাড়ি। বাড়ির পাশেই পৈতৃকসূত্রে পাওয়া জমিতে হেমায়েত গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। ওই খামারে গিয়ে সম্প্রতি দেখা যায়, ৩৫ শতাংশ জমিতে বম্বে মরিচের গাছ। পুরো খেতজুড়ে তিনি পলিথিনের ছাউনি দিয়েছেন, যাতে অতিবর্ষণ বা অধিক তাপে মরিচগাছের ক্ষতি না হয়।

হেমায়েত বলেন, দেশে চাকরির অভাব। তাই তিনি স্নাতকোত্তর পাস করার পর স্বাবলম্বী হওয়ার চিন্তা করেন। তিনি ধনে, লালশাক, পালংশাক, মুলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মিষ্টি আলু, তরমুজসহ বছরব্যাপী মৌসুমভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করেন। বর্ষাকালে পানিতে খেত যেন তলিয়ে না যায়, সে জন্য মাটি দিয়ে উঁচু করে খেত করেছেন। তিনি ২ বছর ধরে ৩৫ শতাংশ জমিতে বম্বে মরিচ চাষ করেন। বাজারে প্রচুর চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় মরিচ থেকে ভালো লাভ হয়েছে তাঁর।

শুধু হেমায়েত নন, তাঁর কলেজপড়ুয়া অপর দুই ভাই মাহফুজ গাজী ও আবদুল্লাহ গাজীও সবজি চাষ করে আর্থিকভাবে সফল হয়েছেন। তাঁদের সাফল্য দেখে এলাকার আরও ১৪-১৫ জন কৃষক বম্বে মরিচ উৎপাদন করছেন।

একই এলাকার কৃষক জাকির বলেন, তিনি তরমুজসহ মৌসুমভিত্তিক সব ধরনের সবজি চাষ করেন। তবে বম্বে মরিচ চাষ করে অধিক লাভবান হয়েছেন। গ্রামে উৎপাদিত বম্বে মরিচ স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেন। সুগন্ধিযুক্ত হওয়ায় তাঁদের উৎপাদিত বম্বে মরিচের চাহিদা বেশি। প্রতিটি বম্বে মরিচ ২ থেকে ৩ টাকা এবং প্রতি কেজি মরিচ ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন।

জাকির আরও বলেন, বম্বে মরিচ ছাড়াও পাখিমারা, কুমিরমারাসহ আশপাশের ১৫টি গ্রামে প্রচুর পরিমাণে মৌসুমি শাকসবজির খেত আছে। এসব সবজি কলাপাড়া উপজেলা শহরের চাহিদা মিটিয়ে পটুয়াখালী, বরিশাল, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্ধারমানিক নদের একটি শাখানদী বা খাল নীলগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পাখিমারা এলাকায় এটি পাখিমারা খাল এবং কুমিরমারা এলাকায় কুমিরমারা খাল নামে পরিচিত। এই খালের পানির লবণাক্ততার কারণে নীলগঞ্জে একসময় একটিমাত্র ফসল হতো। ২০০৫ সালে স্থানীয় কৃষকেরা সারা বছর ফসল চাষের জন্য খালের পানি সংরক্ষণে চারটি অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করেন এবং এই প্রচেষ্টার ফলে তাঁরা মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করতে সক্ষম হন। এরপর ধীরে ধীরে ১৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার কৃষক আমন ধানসহ সবজি চাষে সাফল্য পেতে শুরু করেন।

এলাকার কৃষক আবুল হোসেন জানান, একসময় উচ্চ লবণাক্ততার কারণে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামে শুধু আমন ধানের চাষ হতো। তবে এখন এ এলাকায় বছরজুড়ে রাসায়নিকমুক্ত সবজির চাষ হচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আর এম সাইফুল্লাহ জানান, নীলগঞ্জের কয়েকটি গ্রামে সুগন্ধিযুক্ত বম্বে মরিচের উৎপাদন হয় এবং বছরব্যাপী উৎপাদন হওয়ায় এ মরিচের চাহিদা ও দাম ভালো। গ্রামের কৃষকেরা বছরব্যাপী শাকসবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তাঁরা কৃষকদের পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। ওই এলাকায় বম্বে মরিচসহ প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ টন সবজি উৎপাদিত হচ্ছে, এর মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।




রাঙ্গাবালীতে তরমুজ চাষিদের স্বপ্নভঙ্গ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

ধু-ধু বালুচরে সবুজের সমোরহ। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠজুড়ে কৃষকের নয়নজুরানো হাসি। বুকবাঁধা স্বপ্ন নিয়ে মাঠে তরমুজের বীজ বুনেছেন চাষিরা। প্রত্যাশা ছিল বুনিত বীজের ফলন ভালো হবে। এতে করে দুঃখ বিমোচন হবে। কিন্তু সেই আশার আলো ফিকে হয়ে গেছে ফসলের মাঠে নির্ণয় না করা অজানা রোগে। বাসা বেঁধেছে জানা-অজানা ক্ষতিকর পোকাও। রোগ ধরে পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ, অথচ কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। খেই হারিয়ে তবুও ধারদেনা আর ঋণ নিয়ে উচ্চ ফলনশীল ফসল তরমুজ আবাদ করছেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চাষিরা। সিজনের মধ্যাংশে কোনো কোনো চাষির স্বপ্ন মারা গিয়েও যেন পুঁজি তোলার হাতছানি দিচ্ছে। আর অনেকে হয়েছেন সর্বস্বান্ত। দুশ্চিন্তা মাথায় তুলতে হবে তরমুজের সিজন ফুরালে। কেননা তখনই তাগাদা বাড়বে ঋণের টাকার।

উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নে সবার আগে তরমুজ ফলনের আশায় প্রতি বছর এ এলাকার চাষিরা কম-বেশি জমি অনাবাদি রাখেন। তবে এ পন্থা থেকে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে কৃষকদের বিমুখ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। যার অন্যতম বার্তা হলো একই জমিতে প্রতি বছর উচ্চ ফলনশীল ফসল তরমুজ আবাদ না করা, কীটনাশক আর সার ব্যবহারের পরিমাণ কমানো। কৃষি দফতর কীটনাশক আর বালাইনাশক ব্যবহারে পরিমিত মাত্রা বেঁধে দিলেও সেটি পাত্তা দেন না অনেকে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২১ সাল থেকে তরমুজের গাছ মারা যাওয়া শুরু হলেও এর ভয়াবহতা বেড়েছে ২০২২, ২৩ ও ২৪ সালে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আট হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত তরমুজ যেখানে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা, সেখানে চলতি অর্থবছরে আবাদ হয়েছে পাঁচ হাজার ৬০০ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকূল আর বাজারদর ভালো থাকলে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে এ উপজেলায়।

আক্রান্ত গাছ ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হলে সেখানকার বৈজ্ঞানিকরা ‘গামি স্টেম ব্লাইট, ঢলে পড়া ও বাড নেক্রসিস ভাইরাস’ নামের রোগ চিহ্নিত করেছেন। এ সমস্যা সমাধানে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তরমুজচাষিরা বলছেন, বীজ বপনের পরে দেড় থেকে দুই হাত প্রসারিত হওয়ার পরে গাছের মাথা হলুদ হয়ে যেত। এরপর ফল এলে গাছ মারা যায়। তাই দাদন, ধারদেনা ও ঋণের টাকা পরিশোধের দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন অধিকাংশ চাষি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছর শুরুর দিকে তরমুজগাছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের দেয়া পরামর্শ কৃষকদের মাঝে প্রচার করছি।

বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র কুণ্ডু বলেন, যে কৃষক হাইব্রিড বীজ দিয়ে তরমুজ আবাদ করবে তার বীজ রাখা যাবে না। একই জমিতে বারবার তরমুজ আবাদ করায় মাটিসহ তিন ধরনের সমস্যায় গাছ মারা যাচ্ছে। এ জন্য যে জমিতে রোগ দেখা দেয়, সে জমিতে পরবর্তী দুই বছর দানাদার জাতীয় ফসল চাষ করতে হবে।

 




বাংলার শষ্য ভান্ডার’ খ্যাত বরিশালে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেই প্রায় ১২ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃাষ অঞ্চলে ফসল আবাদ ও উৎপাদনে নানা বৈচিত্র কৃষকদের সাথে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তবে এখনো প্রকৃতির রুদ্ররোষের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই করেই এ অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের জীবন কাটে। অতীতে বরিশাল অঞ্চলে কৃষি ব্যবস্থা বলতে শুধু ধান’কে বোঝালেও কালের বিবর্তনে সেখানে গম, ভুট্টা, ডাল সহ নানা দানাদার খাদ্য ফসল সহ তরমুজ ও সূর্যমুখীর মত অপ্রচলিত রসালো ও তেল জাতীয় ফসল স্থান করে নিচ্ছে। ফলে কৃষিতে নানা বৈচিত্রের মত কৃষকের ভাগ্যেরও ক্রমে পরিবর্তন ঘটছে। বিশে^র শতাধিক দেশে বাংলাদেশের যে কৃষিপণ্য রপ্তানী হচ্ছে, সেখানে বরিশালের অবদানও অপরিসীম। এ অঞ্চলে শুধু দানাদার খাদ্য উৎপাদনের পরিমান এখন প্রায় ৫০ লাখ টন।


‘বরিশালের বালাম চাল’এর খ্যাতী এ উপমহাদেশ জুড়েই ছিল অনেকের মুখে। নানা প্রবন্ধ ও কবিতা সহ শিল্পীর গানেও এ কথা উঠে এসেছে বার বার। সেই বরিশালের কৃষি ব্যবস্থায় নানা ফল ও ফসল উৎপাদনেও বৈচিত্র এসেছে। এমনকি ‘মাচান পদ্ধতি’ এবং ‘সারজন পদ্ধতি’ সহ নানা আধুনিক লাগসই প্রযুক্তিতে বরিশাল অঞ্চলে শাক-সবজি সহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির চারা বীজ সারা দেশে বিক্রী হচ্ছে। প্রায় ১৮ লাখ টন চাল উৎপদনের লক্ষ্য নিয়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার হেক্টরে বোরো আবাদও প্রায় শেষের পথে। বিদায়ী ‘খরিপ-২’ মৌসুমে তিন দফার প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে প্রায় ২৩ লাখ টন আমন চাল ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বরিশালের কৃষিযোদ্ধারা। দেশে উৎপাদিত আউশের প্রায় ৬০ ভাগের উৎপাদন এ অঞ্চলে।

 


সারা দেশে উৎপাদিত মুগ ডালের ৮০ ভাগ ও খেশারী ডালের ৪০ ভাগ এ অঞ্চলে আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। মিষ্টি আলুর প্রায় ৬০ ভাগই আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল অঞ্চলে। এমনকি গম আবাদেও বরিশাল কৃষি অঞ্চল ক্রমে সৃমদ্ধ হচ্ছে। সারা দেশে আবাদকৃত তরমুজের ৮০ ভাগেরও বেশী আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল অঞ্চলে। গত রবি মৌসুমে দেশে আবাদকৃত ৭৫ হাজার হেক্টরের ৬৪ হাজার হেক্টর তরমুজের আবাদ হয় বরিশাল কৃষি অঞ্চলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্ত-ডিএই’র মতে, গত বছর প্রায় ৩০ লাখ টনের মত তরমুজের উৎপাদন হয় শুধু বরিশালেই।

কৃষি উৎপাদনের ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি’ উন্নতজাতের ডাল ফসল ও তেল ফসল সহ বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ফলনশীর জাত উদ্ভাবন করেছে। এমনকি ‘বারি আম-১১’ নামের বারমাসী নতুন জাতের আম-উদ্ভাবন করেছে কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট। যার আবাদ ও উৎপাদনও ক্রমশ বাড়ছে বরিশালে। ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বরিশালের ১২ মাসী আম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন কৃষিবীদরা।

আটঘর-কুড়িয়ানা সহ ভিমরুলী এলাকার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর অন্তত ৩০ হাজার টন পেয়ারা এখন দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে পাশর্বর্তী দেশের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাতেও যাচ্ছে। বরিশালের অমড়া’র সুখ্যাতিও দীর্ঘদিনের। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ‘বরিশালের আমড়া’ বাজার করে নিয়েছে।

সাম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সুমিষ্ট মাল্টার চাষ ও উৎপাদন হতে শুরু করেছে। যার চারা-কলম সরবরাহ হচ্ছে বরিশালের বানরীপাড়া ও নেছারাবাদ থেকে। এমনকি সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে বরিশালে প্রায় ১০ হাজার টন মাল্টার উৎপাদন হয়েছে। সাম্প্রতিককালে বরিশাল অঞ্চলে সীমিত আকারে স্ট্রবেরী’ এবং ‘ক্যাপসিকাম’এর সফল আবাদের আশাব্যঞ্জক সম্প্রসারণ ঘটছে।

চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ হেক্টর জমিতে ডাল, তেলবীজ ও মসলা জাতীয় ফসল সহ বিভিন্ন ধরনের রবি ফসল আবাদের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন কৃষিযোদ্ধারা। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে প্রায় ১৫ লাখ টন শীতকালীন শাক-সবজি উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া ৬০ হাজার হেক্টরে ১.৬০ লাখ টন গম, ১৪ হাজার হেক্টরে মিষ্টি আলু, ১০ হাজার হেক্টরে গোল আলু, ১২ হাজার হেক্টরে ভুট্টা, আড়াই হাাজার হেক্টরে আখ, সাড়ে ৬ হাজার হেক্টরে শশা-ক্ষিরাই ও মর্মা ছাড়াও প্রায় দেড় হাজার হেক্টরে ফুট আবাদের লক্ষ্য অর্র্জনে কাজ শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি যোদ্ধারা।

এমনকি বরিশাল অঞ্চলে এবার প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টরে মসলা জাতীয় ফসলেরও আবাদ হচ্ছে। যার মধ্যে মরিচই আবাদ হচ্ছে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টরে। সারা দেশে আবাদ ও উৎপাদনের ৩৫ ভাগ পেয়াজের উৎপাদন বরিশাল কৃষি অঞ্চলে। পাশাপাশি রসুন ছাড়াও ধনিয়া,আদা,কালোজিরা ও হলুদেরও আবাদ হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ‘বারি’ উদ্ভাবিত পেয়াজ ও রসুন সহ অন্য সব ধরনের ফসলের উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার সহ আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।


একই সাথে ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উন্নত জাত ও উচ্চ ফলনশীল সব ধরনের ফসলের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগকেও কাজে লাগানোর পরামর্র্শ দিয়েছেন কৃষিবীদরা। এ লক্ষে ডিএই’র জেলা থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দায়িত্ব পালনে সমন্বিত ও আন্তরিকতাপূর্ণ কর্মকান্ডের বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।

 




কুয়াকাটার বাজারে আগাম তরমুজ, বিক্রি হচ্ছে ক্ষেত থেকেই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই উঁচু জায়গাগুলোতে তরমুজের আগাম চাষ শুরু করেন কৃষকরা। আর তাই ইতোমধ্যে বাজারে চলে এসেছে আগাম তরমুজ। কৃষকরা ক্ষেত থেকেই তরমুজ খুচরা বিক্রি শুরু করেছেন। আগাম তরমুজে ভালো দাম পেয়ে সন্তুষ্ট কৃষকরা।

সোমবার (৪ মার্চ) পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ঢাকা কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বালুর মাঠ ঘুরে দেখা যায়, উৎপাদিত আগাম তরমুজের রমরমা বিক্রি চলছে। তরমুজ কিনতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ভিড় করছেন কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরাও। গরম শুরু হতে না হতেই তরমুজ পেয়ে খুশি সাধারণ ক্রেতারা। সাইজ অনুযায়ী পিস প্রতি তরমুজ ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার কলাপাড়ায় আগাম তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। আর চাহিদা বেশি থাকায় মৌসুমের শুরুতেই ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন বেপারীরা। একইসঙ্গে বাম্পার ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় তরমুজকে ঘিরে নতুন স্বপ্নে বিভোর চাষি ও বেপারীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষেতগুলো এখন তরমুজে সয়লাব। দ্রুত বাজার ধরতে চলছে দিনরাতের পরিচর্যা। অনুকূল পরিবেশ কাজে লাগিয়ে অধিক মুনাফার আশা করছেন চাষিরা।

কুয়াকাটার আলীপুরের কৃষক মনির হোসেন বলেন, এবছর ২৫ একর জমিতে আগাম তরমুজ এর চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত আমাদের প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। প্রতিদিন ৮ জন কৃষক কাজ করছে আমাদের তরমুজ খেতে। এ বছর ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি। ইতোমধ্যে গাছে পরিপূর্ণ ফল চলে এসেছে এবং ক্ষেতেই খুচরো বিক্রি শুরু করে দিয়েছি। এক সপ্তাহের মধ্যেই পাইকারি বিক্রি শুরু করব আমরা। যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে ৫০ লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

তরমুজ কিনতে আসা পর্যটক মাওলানা হাসান মাহমুব বলেন, আমরা পার্শ্ববর্তী উপজেলায় তাবলীগ জামাতে এসেছি। মূলত কুয়াকাটা এক সাথী ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ল ক্ষেতের পাশেই তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। যদিও এখনো তরমুজের পরিপূর্ণ সিজন শুরু হয়নি, তাই খাওয়ার জন্যই মূলত নেমেছি।

তরমুজ কিনতে আসা স্থানীয় যুবক আলী হায়দার বলেন, বাজারে প্রথম তরমুজ আসায় আমি কিনতে এসেছি। আর এখানে একদম ক্ষেতের পাশেই বিক্রি করা হচ্ছে, স্থানীদের পাশাপাশি কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরাও এখান থেকে তরমুজ সংগ্রহ করছে। গরম শুরু হতে না হতেই তরমুজ খেতে পেরে ভালোই লাগছে। আর দামও নাগালের মধ্যেই আছে।

এ বিষয় কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার আরাফাত হোসেন বলেন, এ বছর উপজেলায় মোট ১৩২৩ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ফলন মোটামুটি ভালো। কিন্তু কিছুদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। তবে বর্তমানে গাছে যে পরিমাণ ফল ধরেছে তাতে আমরা আশা করছি কৃষকরা ভালো দামে তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন। ইতোমধ্যে বাজারে আগাম তরমুজ বিক্রি শুরু হয়ে গেছে।




বিপন্ন উপকূলের বন্যপ্রাণী

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস আজ
পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

আজ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস। জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলো প্রতি বছর ৩ মার্চ এ দিবসটি পালন করে থাকে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে আশঙ্কাজনকভাবে কমছে বন্যপ্রাণী। বনভূমি উজাড় হওয়ার ফলে এসব প্রাণী লোকালয়ে প্রবেশ করায় পিটুনিতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এ ছাড়া নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বিপন্ন হচ্ছে উপকূলের বন্যপ্রাণীও।

২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৬৮তম সাধারণ অধিবেশনে এই দিনটিকে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৪ সালে প্রথম এ দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের বন্যপ্রাণী এবং উদ্ভিদকুলের প্রতি গণসচেতনতা বাড়ানো দিবসের মূল লক্ষ্য।

একটা সময় অহরহ বন্যপ্রাণীর দেখা মিললেও এখন আর মেলে না। শোনা যায় না বসন্তে কোকিলের কুহু ধ্বনি। পচা আর মরা কোনো প্রাণী খেতে শকুন কিংবা কাক আসে না। এমনকি এসব বন্যপ্রাণী এখন বিলুপ্তির পথে।

ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে প্রায় তিনশ প্রজাতির বন্যপ্রাণী। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শখানেক। প্রকৃতির প্রতি মানুষের নৃশংসতা, পরিবেশদূষণ ও পরিবর্তিত জলবায়ুর কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, সময়ের সঙ্গে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ প্রাণী বিলুপ্ত হতে পারে।

ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট বাংলাদেশ (ডব্লিউটিবি) ও দ্য ওয়ার্ল্ড কনজারভেশন ইউনিয়ন (আইইউসিএন) বাংলাদেশ শাখার এক জরিপে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে দেশের প্রায় দেড়শ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, মেরুদণ্ডী প্রাণীর ১৩টি, ৪৭ প্রজাতির দেশি পাখি, ৮ প্রজাতির উভচর ও ৬৩ প্রজাতির সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী প্রাণীর ১০টি মিলিয়ে প্রায় তিনশ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া বিপন্ন ৪৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। একইভাবে বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে ১০৬ প্রজাতির নলবাহী উদ্ভিদ। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যপ্রাণীর ব্যাপক বিনাশ চলছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী শিকার, বাসস্থান দখল করে হোটেল, মোটেল এবং রিসোর্ট নির্মাণ, খাদ্যাভাবসহ নানা কারণেই বন্যপ্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে।

পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীরা বলছেন, খাদ্য আর বাসস্থানের সংকট প্রকট হওয়ায় বন্যপ্রাণীর এমন সংকট দেখা দিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন, নিষ্ঠুরভাবে বন উজাড়, নদীর নাব্য হ্রাস, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পাখি শিকারিদের ফাঁদে উপকূল থেকে বন্যপ্রাণীর আশঙ্কাজনকভাবে বিলুপ্তি ঘটছে।

অ্যানিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা শাখার সদস্য মিরাজ মিজু বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া নানা স্থাপনা নির্মাণ, বন কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় বন উজাড় হওয়াও বন্যপ্রাণী কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, উপকূল থেকে প্রতি বছরই কমছে বন্যপ্রাণী। তবে আমরা সচেতন হলে বিলুপ্তর পরিমাণ কমে আসবে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উপকূলীয় বন বিভাগ) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আধুনিক নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আশঙ্কাজনকভাবে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি কমছে, আমরা বন উজাড় থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছি সব সময়।




বম্বে মরিচ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন গাজী হেমায়েত উদ্দিনের

প্রথমে তিনি শুরু করেন বম্বে মরিচের চাষ। এতেই সাফল্য এসে ধরা দেয় তাকে। চলতি বছর তিনি শুধু বম্বে মরিচ চাষ করেই উপার্জন করেছেন প্রায় তিন লাখ টাকা। মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে বম্বে মরিচ চাষ করে সারা বছর তিনি মরিচ বিক্রি করেন। এ ছাড়াও তিনি এ বছর মৌসুমি সবজি চাষ করে আয় করেন ১০ লাখ টাকারও বেশি।

বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামে হেমায়েত উদ্দিনের বাড়ি। বাড়ির পাশেই পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। সম্প্রতি সরেজমিন ওই খামারে গিয়ে দেখা গেছে, তিনি মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে বম্বে মরিচের চাষ করেছেন। পুরো মরিচ ক্ষেতজুড়ে তিনি পলিথিনের ছাউনি দিয়ে ঢেকে রেখেছেন যাতে অতিবর্ষণ বা অধিক তাপমাত্রায় মরিচ গাছের কোনো ক্ষতি না হয়। তিনি সার্বক্ষণিক তার খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন।

পাখিমারা এলাকায় এটি ‘পাখিমারা খাল’ এবং কুমিরমারা এলাকায় ‘কুমিরমারা খাল’ নামে পরিচিত। এই খালের পানি লবণাক্ততার কারণে নীলগঞ্জে এক সময় একটি মাত্র ফসল হতো। ২০০৫ সালে স্থানীয় কৃষকরা সারা বছর ফসল চাষের জন্য খালের বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণের জন্য পরামর্শ করতে একত্রিত হন। তারা খালের উপর চারটি অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করেন। পরে এই বাঁধের কারণেই তারা মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করতে সক্ষম হন। এভাবে ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার কৃষক আমন ধান চাষের পাশাপাশি সবজি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেতে শুরু করেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, আমরা কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় কারিগড়ি সহায়তা দিয়ে থাকি। এখানে প্রতি বছর ১০-১৫ টন সবজি উৎপাদন হয়, যার অর্থনৈতিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা।




উপজেলা পরিষদ চত্বরে সবজি চাষে সাড়া ফেলেছেন ইউএনও

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

গ্রামীণ আবহ আর টাটকা ফল-সবজির জুড়ি নেই বাগানের। তাইতো উপজেলা পরিষদের বাউন্ডারির মধ্যে বাগান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিত্যক্ত ও পতিত জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি ও সূর্যমুখির চাষ করেছেন তিনি।

বাগান করে ইউএনও যেমন মনে আনন্দ পাচ্ছেন, তেমনি বিশুদ্ধ শাক-সবজি ও ফল পাচ্ছেন। বাগানে এমন কিছু সবজি গাছ আছে যেগুলোতে সারা বছরই সবজি ধরে। ফলে পরিষদের আঙ্গিনায় চাষ করা বিষমুক্ত সবজি দিয়ে অতিথি আপ্যায়নও করছেন।
অফিসের কাজের ফাঁকে সময় বের করে ইউএনও নিজেই সবজি বাগানের পরিচর্যা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল এক ইঞ্চি জমিও খালি বা অনাবাদি রাখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তার পরিষদের বাউন্ডারির ভেতরে পতিত জমিতে সবজি চাষের এ উদ্যোগ নেন তিনি।

উপজেলা পরিষদ চত্বরের চারদিকে ইটে ঘেরা বাসভবনের পরিত্যক্ত ও পতিত জমিতে শোভা পাচ্ছে সূর্যমুখী, শশা, বেগুন, ঢ্যাঁড়শ, চিচিংগা, লাল শাক, পুঁই শাক ও ডাটা শাকসহ নানা জাতের সবজি।
ইউএনওর বাসভবনসহ পরিষদ চত্বরের অন্তত ১০টি স্থানে রয়েছে, যেখানে হরেক রকম সবজি বাগান করা হয়েছে। এসব সবজি চাষে ব্যবহার করা হয়নি কোনো ধরনের কীটনাশক। শুধু জৈব সার ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত শাক-সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান উপজেলায় কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা, সুশীল ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সবুজ মানেই সতেজতা। সবুজ মানেই প্রশান্তি। সুন্দর এই গ্রামে সবুজের উপস্থিতি যেন অনেকখানি প্রশান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। ছাত্রজীবন থেকেই কৃষির প্রতি ভালোবাসার টানে বিভিন্ন গাছপালা লাগিয়েছি। রাঙ্গাবালীতে যোগদানের পর থেকে চেষ্টা করি বাগান তৈরি করার।
তিনি সবাইকে সৃষ্টিশীলতা ও নান্দনিকতা চর্চার আহ্বান জানান।




কলাপাড়ায় বিলুপ্তির পথে মহিষ পালন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): একটা সময় গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে পারিবারিক খামারে মহিষ পালতে দেখা যেত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিলে দেখা যেত মহিষের পাল। দলবেঁধে খাওয়া আর বিলকে মাতিয়ে রাখাই ছিল মহিষের কাজ। গ্রামের মধ্যে যাদের জমি বেশি থাকত তাদের মহিষও বেশি থাকত। মহিষের দুধ আর মাংসের জন্য লালন-পালন করত তখনকার কৃষকরা। হালচাষের জন্য ছিল মহিষের আলাদা কদর।

সময়ের পরিবর্তনে এখন আর চোখেই পড়ে না মহিষ পালন। দলবেঁধে ঘুরতে দেখা যায় না বিলে। বর্ষা মৌসুমে হালচাষে নেই মহিষের উপস্থিতি। দুধ আর মাংসের জন্য বিখ্যাত হলেও এখন আর নেই এসবের সহজলভ্যতা। হারিয়ে যেতে বসছে ঐতিহ্যের মহিষ পালন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবারে বাবা-দাদার পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। একদিকে মহিষের খাদ্য সংকট অন্যদিকে গ্রামগঞ্জের খাল দখলে পানি না থাকায় একেবারে হারিয়ে যেতে বসেছে মহিষ পালন।

কৃষকরা জানান, একটা সময় আমরা বিলে মহিষ ছেড়ে দিয়ে লালন-পালন করতাম। পুরো খালে বিলে পানি আর ঘাসে পরিপূর্ণ থাকত। রোগ বালাই কম হতো। বিশেষ করে হালচাষ করার প্রধান মাধ্যম ছিল মহিষ। সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা হালচাষ করা যেত। তখনকার সময় পাওয়ার টিলার ছিল না। খরচ লাগত কম হালচাষে। এখন আর মহিষ দিয়ে কেউ হালচাষ করে না। আমরা যারা মহিষ পালন করি তারা খুব কষ্টে আছি। খাবার, পানি, চিকিৎসা সব মিলিয়েই সংকট। হয়তো কয়েক বছর পর কেউ মহিষ পালন করবে না।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকির হাওলাদার বলেন, আমাদের একটা সময় ৬০ থেকে ৭০টি মহিষ ছিল। এ গ্রামে অনেকেই মহিষ পালন করত। এখন আমাদের পরিবারে ২০টির মতো মহিষ আছে। খাবার, পানির অভাবের কারণে মহিষ পালন করা যায় না। মহিষের খাবার কিনে খাওয়ানো সম্ভব নয়। প্রতিদিন ২ মণ খাবার ও ১ মণ পানির প্রয়োজন হয়। এখন আর মহিষ দিয়ে হালচাষ হয় না। সব মিলিয়ে বিলুপ্তপ্রায় এ মহিষ জাতটি।

পশু চিকিৎসক আবু সাইদ জানান, নীলগঞ্জ ইউনিয়নে হাতে গোনা ৩-৪টা পরিবারে দেখা যায় মহিষ পালন। তবে খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সহজলভ্য হলে আগ্রহ বাড়ত কৃষকদের।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল হক সরদার বলেন, মহিষ পালন একেবারে কমে যাচ্ছে ধারণা ভুল। কলাপাড়া উপজেলায় দুটি উৎপাদন গ্রুপ আছে। প্রত্যেক গ্রুপে ৪০ জন সদস্য আছে। কলাপাড়া উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার মহিষ আছে যা পারিবারিক খামারে বেড়ে উঠছে। তবে খাদ্য সংকট আছে। আমরা মুজিব কিল্লায় ও পরিত্যক্ত জঙ্গলে ঘাস উৎপাদন করা যায় কিনা এটার ব্যপারে পদক্ষেপ নেব।