ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, লোকসানের শঙ্কায় বরগুনার বাঙ্গি চাষিরা

বরিশাল অফিস:: বরগুনায় নদীর মাঝে জেগে ওঠা সবুজে ঘেরা একটি চর মাঝেরচর। চতুর্দিক থেকে নদীবেষ্টিত এ চরটিতে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষের বসবাস। এখানকার প্রায় সকলেরই আয়ের প্রধান উৎস কৃষি কাজ। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঠিক পরামর্শের অভাবে এবার লোকসানের ঝুঁকিতে রয়েছেন এই এলাকার বাঙ্গি চাষিরা।

সরেজমিনে বরগুনার মাঝেরচর ঘুরে দেখা যায়, শীত মৌসুমের বিভিন্ন ফসল উৎপাদন শেষে এখন মাঠজুড়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন তরমুজ, বাঙ্গি, মরিচ, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি আবাদে। তবে এর মধ্যে বাঙ্গি চাষির সংখ্যাই বেশি। নারী ও পুরুষ সমানভাবে কাজ করছেন প্রত্যেকটি বাঙ্গির ক্ষেতে। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ করেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ না পেয়ে সঠিক কীটনাশক ব্যবহার করতে না পারায় লোকসানের শঙ্কা করছেন মাঝেরচর এলাকার বেশির ভাগ বাঙ্গি চাষি।

ইসুফ কবিরাজ নামে এক চাষি  বলেন, রোগে আক্রান্ত হয়ে গাছের পাতা লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের পোকা আক্রমণ করেছে। পোকা দমন করতে পারিনি। এতে গাছের ফুল ও ফল মরে যাচ্ছে। সঠিক কোনো ওষুধ পাইনি আমরা, যে যা বলে তাই ব্যবহার করি। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয় না। দুই লাখ টাকা খরচ করে এখন এক লাখ টাকাও বিক্রি করতে পারবো না।

চাষিদের সঙ্গে বাঙ্গি চাষে সহযোগিতায় মাঠে কাজ করছেন জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, আমারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার দেনা করে কৃষি কাজ করি। আমদের একটাই আসা থাকে উৎপাদন ভালো হলে ফসল বিক্রি করে সকল ধার দেনা পরিশোধ করবো। কিন্তু আমাদের কৃষিতে এখন লোকসান হয়। সরকারি বেসরকারি কোনো সহযোগিতা আমরা পাই না। এমনকি কোনো প্রকার সার ও কীটনাশকও আমরা পাই না।

মাঝেরচরের আরেক বাসিন্দা মো. রিয়াজ হোসেন দুই একর জমিতে এবার বাঙ্গি চাষ করেছেন। তিনি  বলেন, আমরা বাঙ্গি চাষে কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে কোনো সহযোগিতা পাই না। এমনকি কৃষি অফিস থেকেও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় আমাদের কৃষকদের কৃষি কাজে অনেক সমস্যা হয়। আমরা অফিস চিনি না আর সরকারি কোনো অফিসারও আমাদের কাছে আসেন না। বাঙ্গি চাষে যে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় তা আমাদের কাছে না থাকায় গাছ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রত্যেকটি গাছে এখন ফল থাকার কথা থাকলে তেমন কোনো ফল নেই। আমাদের এখান থেকে প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার বাঙ্গি বিক্রি হলেও সঠিক কোনো ওষুধ আমরা পাই না। এ কারণে আমাদের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন কীটনাশকের ডিলার থেকে যখন যা পাই তখন তা ব্যবহার করি।

মো. কালু নামে এক শ্রমিক  বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফল অনেক কম। গত বছর আমরা মাঠ থেকে ব্যাপক পরিমাণ ফল সংগ্রহের কাজ করেছি। যা এ বছর নেই। এবার গাছে ফল হলেও বড় হওয়ার আগে তা মরে যায়।

কৃষকদের উৎপাদিত এসব বাঙ্গি কিনতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাঝেরচরে ভিড় করছেন পাইকাররা। তবে সাইজ ও মান ভালো না হওয়ায় কম দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাঙ্গি চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় জানিয়ে বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলম  বলেন, বরগুনাতে গত বছরের তুলনায় এ বছর বাঙ্গির আবাদ কিছুটা কম। কৃষি অধিদপ্তর এ ফসলকে উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণে কৃষকদেরকে আমরা সব সময়ই বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করি। এছাড়া এ ফসলের আবাদ ও যত্ন নেওয়া অন্য সব ফসলের থেকে একটু কঠিন। আমাদের কারিগরি দিকসহ প্রকল্পের আওতায় যে কোনো সহযোগিতা যেমন সার ওষুধসহ যা থাকে তা আমরা সবসময়ই কৃষকদের দিয়ে থাকি।

বরগুনার মাঝেরচর নামক এ চরটিতে ২০০৫ সাল থেকে মানুষের বসবাস শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় সিডরে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ও ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন এখানকার বাসিন্দারা। পরে জেলা প্রশাসনের সহোযোগিতায় আবারও ঘরবাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন মাঝের চরের বাসিন্দারা।




ঝালকাঠিতে স্বর্ণালি আভা ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

বরিশাল অফিস:: ঝালকাঠিতে যদিও আমের ফলন কম তারপরও গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। প্রায় সব জায়গায় চোখে পড়ছে মুকুলে ছেয়ে যাওয়া অসংখ্য আম গাছগুলো। এভাবে ফাগুনে গাছে-গাছে প্রস্ফূটিত আমের মুকুল সর্বত্র ছড়াচ্ছে স্বর্ণালি আভা।

এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। আগুন ঝরা ফাগুনে গাছে গাছে জেগে উঠছে সবুজ পাতা। প্রকৃতির পালা বদলে সারা দেশের ন্যায় ঝলকাঠির প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমগাছগুলোতে মুকুলের মিষ্টি সুবাসে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি।

 

আম বাগানের মালিকরা বলছেন, মাঘের মাঝামাঝিতে গাছে মুকুল দেখে তারা বুঝেছেন, আমের মৌসুম এসে গেছে। গাছগুলোর যত্ন নিতে পরিশ্রম শুরু করে দিয়েছেন। ভালো ফলনের আশায় গাছে পরিচর্যায় এখনো ব্যস্ত তারা। সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে ছোট গাছ কিংবা বড় গাছেও দেখা মিলেছে মুকুল ও প্রায় সব জাতের আমগাছেই মুকুল এসেছে। যার সৌন্দর্য চোখ জুড়ানো। আমগাছের শাখাগুলো ভরা উজ্জ্বল সোনালি মুকুল যেন আকাশের বুকে ডানা মেলে দিয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসরাত জাহান মিলি জানান, জেলায় এ বছর ২৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। ফজলী, রুপালি, হিমসাগর, ব্যানানা, কাঁচা মিঠা, লকনা, আশ্বিনাসহ দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের আম চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ঝালকাঠিতে আমের বাম্পার ফলন হবে।

নলছিটিত উপজেলার আম চাষি মিন্টু মৃধা ও ছাইফুল ইসলাম পৃথক পৃথকভাবে জানান, এ বছর তাদের বাগানে প্রচুর পরিমাণে আমের মুকুল ধরেছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তারা লক্ষাধিক টাকা লাভবান হবেন। ঝালকাঠির জেলায় মুকুলে ছেয়ে যাওয়া আমগাছগুলো আলাদা শোভা ছড়িয়েছে। সবুজ পাতার কিনার ছাঁপিয়ে ওঠা মুকুলের সোনালি রেণু যেন ফুলশয্যা সাজিয়ে স্বাগত জানিয়েছে বসন্তকে।




বরগুনায় বিএডিসি ম্যানেজারের দাপট, কোটি টাকার ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা

বরিশাল অফিস:: বরগুনার তালতলীতে তরমুজ ক্ষেতে পানি সেচ দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। এতে কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে কয়েক কোটি টাকা। এ বিষয়ে থানা ও ইউএনও অফিসে বারবার অভিযোগ দিলেও তোয়াক্কা করছেন না বিএডিসি ম্যানেজার ফারুক মোল্লা।

জানা যায়, উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া এলাকায় গত (২০১৯-২০) অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সমিতির মাধ্যমে সেচ প্রকল্প চালু করা হয়। সেখানে স্থানীয় ফারুক মোল্লাকে ওই সমিতির ম্যানেজার করা হলে সেচ প্রকল্পগুলো নিজের বলে দাবি করেন তিনি । এ সেচ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ২০ হেক্টর জমি রয়েছে। তবে ফারুক মোল্লার সঙ্গে কৃষকের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে কৃষকদের পানি দিচ্ছেন না তিনি। যার ফলে কাঙ্ক্ষিত ফসল ফলতে পাড়ছে না কৃষকরা। এতে প্রতি বছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো, আমন ও তরমুজ চাষিরা । এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেও তার কোনো সমাধান পাচ্ছে না স্থানীয় চাষিরা।

পরে স্থানীয় কৃষকরা থানায় অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশের সাথেও খারাপ ব্যবহার করেন তিনি। উপায় না পেয়ে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসাররের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফারুক মোল্লাকে শুনানির জন্য নোটিশ করেন ইউএনও। গত ৩ মার্চ শুনানির তারিখ থাকলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে না আসার কথা জানিয়ে দেয় সে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ফারুক মোল্লাকে ইএনও অফিসে ডাকা হয়। গত ৪ মার্চ ইউএনও অফিসে শুনানি হলে সেখানে ফারুক মোল্লা তরমুজ চাষের জন্য কৃষকদের সেচের পানি দিবেন বলে অঙ্গীকার করেন । বিএডিসি ম্যানেজারের দাপট, কোটি টাকার ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা সবজি গ্রামের জনপ্রতিনিধিসহ সবাই কি চাষি, সরেজমিন যা দেখা গেল

তবে পরের দিনই দেখা গেল তার উল্টো চিত্র। ফারুক মোল্লা কৃষকদের পানি না দিয়ে উল্টো কৃষকদের বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় তরমুজ চাষি নজরুল বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষের জন্য সেচের অভাবে কষ্টে আছি। তিনি বলেন, সাবেক ইউএনও কাওসার সাহেব, এস.এম সাদিক তানভীর স্যার বারবার আমাদের পানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং প্রতিবছর অস্থায়ীভাবে ব্যাপারটি সমাধান হয়েছে। নতুন ইউএনও আসলেই নতুনভাবে ঝামেলা করেন ফারুক মোল্লা। সাবেক এক সচিব এর প্রভাব দেখিয়ে তিনি আমাদের সেচের পানি দিচ্ছে না।

কালাম নামে আরেক কৃষক জানান, সময় মতো সেচের পানি না পেলে আমরা প্রায় কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হব। বর্তমান ইউএনও স্যারের কাছে আমরা অভিযোগ দিয়েছি। তিনিও বারবার উদ্যোগ নিয়েও তাদের খামখেয়ালির কারণে কিছু করতে পারছে না। উল্টো বর্তমান ইউএনও স্যার ন্যায়ের পক্ষে কথা বলায় তাকে নিয়ে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

এদিকে ফারুক মোল্লা অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন, বিএডিসির পানির সেচ নষ্ট হওয়ার কারণে আমাদের পুকুরে পানি উঠে পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে মাছ মারা যাচ্ছে। এ কারণে পানি সেচ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মোসাদ্দেক জানান, সেচ প্রকল্প দেওয়া হয়েছে জমিতে পানি সরবারহ করার জন্য। স্থানীয় বিরোধ নিয়ে ওই সেচের ম্যানেজার জমিতে সঠিকভাবে পানি দিচ্ছে না বলে অনেক অভিযোগ আছে আমাদের কাছে। গত ৩/৪ বছর ধরে এমন অভিযোগ আসতেছে বলে জানতে পেরেছি। এগুলো অস্থায়ীভাবে সমাধানও হয়েছে। এ বিষয় অভিযুক্ত ফারুক মোল্লার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি যদি পানি না দেয় তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, কবিরাজপাড়া এলাকার বিএডিসি সেচের পানি কৃষকদের না দেওয়ার একটি অভিযোগ পাওয়া যায়। এ জন্য শুনানিও করেছি। সেখানে ফারুক মোল্লা কৃষকদের পানি দেবেন মর্মে স্বীকার করেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কৃষকদের পানি দিচ্ছে না। এ বিষয়ে উপজেলা সেচ কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।




পটুয়াখালীতে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

বরিশাল অফিস::  পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয়, ডোবা ও বিল-ঝিলে পানি কমে যাওয়ার ফলে পলো দিয়ে মাছ শিকারের মহা উৎসব। বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে অংশ নেয়। চরহোসনাবাদ খালে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় থেকেই পেশাদার ও অপেশাদার জেলেরা মাছ ধরার পলো নিয়ে খালে ঝাপিয়ে পড়েছে।

জানা যায়, উপজেলার মাছের ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত আলীপুরা, বাঁশবাড়িয়া, রনগোপালদী, চরবোরহান, দশমিনা, বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নসহ চরাঞ্চল এখন মাছ শূন্য হয়ে গেছে। উল্লিখিত এলাকায় বোয়াল, মাগুর, শিং, কৈ, টেংরা, শোল, টাকি, পুটি, গজার, চাপিলা, খৈইলশা, পাবদা, আইড়, চিংড়ি, মলা, বাইন, বেলে সহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বিশেষ করে নদীর মাছ হিসাবে পরিচিত পোয়া, ইলিশ,আইড়, রিটা যার দেখা এখন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সর্বত্র নিষিদ্ধ ঘোষিত জালের অবাধ ব্যবহার, কৃষি জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার, বর্ষাকালে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছ সহ পোনা নিধন, শুষ্ক মৌসুমে মাছ ধরার প্রবণতা এবং মাছের বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাওয়াসহ প্রভৃতি কারণে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ফসল হিসাবে পরিচিত মৎস্য সম্পদ আজ বিলুপ্ত হতে চলছে।

এছাড়া মাছের প্রজনন মৌসুম ও পোনা মাছের বৃদ্ধিকালীন সময় অবাধে ছোট-বড় মাছ ধরা এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় মৎস্য সম্পদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বিগত ২০বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই। চাষকৃত মাছের কাছে দেশী প্রজাতির মাছ টিকতে না পেরে হারিয়ে যাচ্ছে। মাছ না থাকায় পলো উৎসব এখন আর আগের মত জমছে না।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের রাকিব হোসেন ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হারুন, লাল মিয়া এবং সেলিম হোসেন বলেন, তাদের বাড়ির পাশেই বিশাল বড় বিল। বর্ষা মৌসুমে টানাজাল পেতে বিল থেকে মাছ ধরেন। বিলের জল কোমর কিংবা হাঁটু সমান নেমে এলে গ্রামের মানুষ দলবেঁধে পলো নিয়ে মাছ ধরতে নেমে পড়েন। এ সময় আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ আসেন।

তিনি আরও বলেন, সব দেশি প্রজাতির মাছ। অতি সুস্বাদু। পলো বাওয়ার দিন একেক জন গড়ে ৫ থেকে ১০ কেজি মাছ ধরেন। পেশাদার শিকারিরা আধা মণ থেকে এক মণ মাছ শিকার করেন।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো মাছ ধরায় কেউ বাধা দেয় না। গ্রামের মানুষেরা দলে দলে এসে বিলের পারে বসেন। গল্পগুজব করেন। এরপর সবাই একসঙ্গে নেমে পড়েন। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছেন, পলো দিয়ে মাছ ধরার বিরাট এ উৎসব হয়।

উপজেলা সদর ইউনিয়নের এইচ এম ফোরকান বলেন, এক সময় তাদের এলাকার বিলে প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। বড় বড় বোয়াল, রুই, কাতলা পলোর নিচে আটকা পড়ত। তখন পাশের পলোওয়ালাও মাছটা তুলতে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতেন। মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্যও ছিল অতি চমৎকার। প্রায় সবাই কোনো না কোনো পেয়ে আছি।

এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, নদীর পানি মিষ্টি। বর্ষা মৌসুমে এই পানি খাল বিলে প্রবেশ করে বিধায় এখানে প্রচুর দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। তবে এক শ্রেণির কৃষক নদীতে পাট পচান এবং ফসলি জমিতে বিষ দেন। এ কারণে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষমতা কমে গেছে।

দেশি মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিটি খাল, বিলসহ জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ রক্ষার্থে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।




বরিশালে ৩ লাখ ৯১ হাজার হেক্টরে বোরো আবাদ সম্পন্ন

বরিশাল অফিস:: কয়েক দফার ‘কোল্ড ইনজুরী’ সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এযাবতকালের সর্বাধিক প্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার হেক্টরে বোরো আবাদ সম্পন্ন করলেন বরিশাল কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা। যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর বেশী। ফলে সমাপ্তপ্রায় রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে বোরো ধান থেকে যে প্রায় ১৭ লাখ ৬৮ হাজার টন চাল পাবার লক্ষ্য স্থির করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়, নির্বিঘেœ ঘরে তুলতে পারলে উৎপাদন ১৮ লাখ টনের মাইলফলক ছুঁতে পারে বলে আশা করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা। গত ১৫ মার্চ ছিল বোরো আবাদের শেষ দিন।

চলতি রবি মৌসুমে দফায় দফায় মৃদু থেকে মাঝারী শৈত্য প্রবাহে ‘কোল্ড ইনজুরী’র শিকার হলেও কৃষষকরা নানা লাগসই প্রযুক্তি অনুসরণ করে বেশীরভাগ বোরো বীজতলা রক্ষা করতে সক্ষম হন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী বীজতলা তৈরীর ফলে সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে ১৫ মার্চের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত বোরো আবাদ সম্পন্ন করেছেন কৃষকরা।

যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবার আগে বিপর্যয়ের শিকার হয় বরিশাল অঞ্চলের কৃষি সহ খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি। অথচ কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে কৃষির কোন বিকল্প নেই। অপরদিকে সার ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি কৃষক ও কৃষি অর্থনীতির জন্য ইতোমধ্যে যথেষ্ট নাজুক পরিস্থিতি তৈরী করেছে। দু,বছর আগে রবি মৌসুমেই ডিজেলে প্রায় ৩০ ভাগ মূল্য বৃদ্ধি বোরো আবাদ ও উৎপাদনে নতুন সংকট তৈরী করে। এরপরে দু দফায় সারের মূল্যবৃদ্ধিও নতুন সংকট তৈরী করেছে।

চলতি রবি মৌসুমে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি মাত্র ৭৫ পয়সা হ্রাস করা হলেও তা বোরো সেচাবাদে তেমন কোন ইতিবাচক প্রভাব ফেলছেনা। সার,বীজ, সেচব্যায় ও কৃষি শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির ফলে এবারো বরিশাল অঞ্চলে এক মণ বোরো ধানের উৎপাদন ব্যায় হাজার টাকা অতিক্রম করবে বলে মনে করছেন কৃষিবীদরা। বিগত রবি মৌসুমে ধান কাটার পরে বিক্রী করে উৎপাদন ব্যায় তুলতে পারেননি সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক।

কারণ দেনার দায়ে এঅঞ্চলের বেশীরভাগ কৃষকদের মাঠে থেকেই মাড়াই করে ধান বিক্রী করতে হয়। ফলে আগাম এ ধান বিক্রীতে ফড়িয়াদের সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়ার কোন বিকল্প থাকছেনা।

অপরদিকে এবারো বরিশাল অঞ্চলে ৩.৮৪ লাখ হেক্টরে সেচাবাদকৃত বোরো ধানের অন্তত ৭৫ ভাগ সেচ ব্যবস্থাই ডিজেল চালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সারা দেশের তুলনায় বরিশাল অঞ্চলে বোরো উৎপাদন ব্যায় অন্তত ২৫ ভাগ বেশী। দেশে সেচাবাদে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ওপর ২০০২ সাল থেকে সরকার ২০ ভাগ ভর্তুকি দিলেও ডিজেলের ক্ষেত্রে তা এখনো অনুপস্থিত। মিল মালিকদের নিয়োজিত ফড়িয়া সিন্ডিকেটের কারণে এ অঞ্চলে ধানের দামে কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।

সেচ ব্যায় সারা বিশে^র মধ্যে বেশী হওয়ায় উৎপাদন ব্যায়ের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকদের জীবনমানের কোন উন্নতি হচ্ছেনা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের দেশে সেচ ব্যায় এখনো ধান উৎপদন ব্যায়ের প্রায় ২৮-৩০%। অথচ আমাদের নিকট প্রতিবেশী ভারতের মরুময় পাঞ্জাবে সেচ ব্যায় মোট উৎপাদন ব্যায়ের মাত্র ১৩%। যা থাইল্যান্ডে ৮% ও ভিয়েতনামে মাত্র ৬% ।

অপরদিকে প্রতিবছরই খরিপ-১, খরিপ-২ ও রবি মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’,‘অশণি’ ও ‘সিত্রাং’এর মত ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করেই ধান সহ সব ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে কৃষিযোদ্ধাদের। এমনকি গত অক্টোবরে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’র পরে নভেম্বরে আরেক ঝড় ‘মিধিলি’ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের উৎপাদনে যথেষ্ট বিরূপ প্রভাব ফেলে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখার চোখ রাঙানীতেও আতংকে ছিল বরিশাল অঞ্চলের কৃষকরা।

একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকদের ক্ষতির সাথে দু:শ্চিন্তাকে বৃদ্ধি করে চললেও বরিশাল কৃষি অঞ্চলে এবার ৩টি মৌসুমে দানাদার খাদ্য ফসল উৎপাদন ৫০ লাখ টন অতিক্রম করবে বলে আশাবাদী মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা। ইতোমধ্যে ১.৬০ লাখ টন উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের কর্তণও শুরু হয়েছে। আউশের আবাদও শুরু হয়েছে। ফলে প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত এ অঞ্চলে এবার নির্বিঘেœ বোরো ধান ঘরে উঠলে খাদ্য উদ্বৃত্তের পরিমান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।

বিগত খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯৩ হেক্টরে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কৃষি যোদ্ধারা ৮ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৫ হেক্টরে আমন আবাদ সম্পন্ন করেন। যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর অতিরিক্ত। তবে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা একের পর এক ঘূর্ণিঝড় বারবারই বিপর্যয় ডেকে আনলেও সব বাঁধা অতিক্রম করে বিগত মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় ২৩ লাখ টন আমন চাল ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বরিশালের কৃষকরা। যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ হাজার টন অতিরিক্ত।

সমাপ্ত প্রায় রবি মৌসুমে দেশে ৫০ লাখ ৪০ হাজার ৪শ হেক্টরে বোরো আবাদ লক্ষমাত্রা অতিক্রম করায় ২ কোটি ২২ লাখ ৬৭ হাজার টন চাল উৎপাদনে দৃড় আশাবাদী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর-ডিএই সহ কৃষি মন্ত্রণালয়। যা হবে এযাবতকালের সর্বোচ্চ।




ভাঙন আতঙ্কে আগুনমুখা নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আগুনমুখা নদীর ভাটা জোয়ারের পানির তোরে দীর্ঘ দিন ধরে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নটি ভাঙন কবলিত।

নদীভাঙনে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের তিনের একাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙন হতে বিচ্ছিন্ন এ চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন রক্ষায় কার্যত কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নেই। তার পরেও ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে আগুনমুখা নদী হতে প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলন। নদীর যে অংশে সারি সারি ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়, সে পথ ধরে প্রতিনিয়ত উচ্চপদস্ত কর্মকর্তার পদচারণ রয়েছে। তবুও যেন দেখেও দেখছেন না ওই চক্রের কর্মকাণ্ড। এখনই বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে যেকোনো সময় শুরু হতে পারে ভাঙন।

উপজেলা ভূমি অফিস জানায়, রাঙ্গাবালীর ডিগ্রি নদীতে নতুন বালু মহাল ঘোষণা করা হবে। এটি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বালু মহাল নেই। নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে আগুনমুখা নদী পড়েনি।

জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলাধীন গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার মধ্যে প্রবহমান আগুনমুখা নদীতে প্রায় দেড় মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর পেছনে কাজ করছে প্রভাবশালী একটি চক্র। সকালে রাঙ্গাবালীর অংশে তো রাতে গালাচিপার অংশে বালু উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয় ৫-৮টা ড্রেজার মেশিন।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি এক দিন গিয়েছিলাম। যেয়ে দেখছি রাঙ্গাবালীর সীমানায়। ইউএনও রাঙ্গাবালীকে বলেছি। জানতে পারলাম রাতে নাকি আমার এখানে বসে। অভিযানে যাব। যদি পাই, শাস্তি পেয়ে যাবে।’

স্থানীয়রা বলেছেন, দিন রাত মিলিয়ে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। এর ফলে কৃষি জমি ও নদী ভাঙনের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। এ ছাড়াও নদীর যে অংশে বালু তোলা হচ্ছে সেখানেও দীর্ঘ একটি চর জেগেছে। যেখানে বন বিভাগের ম্যানগ্রোভ নতুন বাগান করা হয়েছে। অবৈধ এ বালু সিন্ডিকেট বন্ধ করা না হলে আমরা উভয়ই ক্ষতির মধ্যে পড়ব। কিন্তু উপকৃত হচ্ছে অসাধু কিছু প্রভাবশালী মানুষ।

রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা অমিতাভ বসু বলেন, বালু উত্তোলন করলে বাগানের ক্ষতি হবে। কিন্তু বালু উত্তোলনে আমরা বাধা দিতে পারব না। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারকে জানাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি, অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ব্যবস্থা নিবো।

 




পটুয়াখালীর বাউফলের চরাঞ্চলে আবাদ হচ্ছে শসা

বরিশাল অফিস:: পটুয়াখালীর বাউফলের চরাঞ্চলে প্রায় ৩২ হেক্টর জমিতে শসা আবাদ হয়েছে। এ বছর উৎপাদনও ভালো হয়েছে। এসব শসা পাইকারদের হাত ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। ক্ষেতে প্রতি কেজি শসা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা দরে। আর উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে শসা ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে অন্যান্য শাকসবজির দামও। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের চর কালাইয়া, শৌলার চর, চর ফেডারেশন, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব, চর মিয়াজান, চর ব্যারেট, ধানদীর চর ও ধুলিয়া ইউনিয়নের চর বাসুদেব পাশাসহ উপজলোর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩২ হেক্টর জমিতে এ বছর শসার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া শসা চাষের অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে।

সরেজমিনে চর শৌলা এলাকায় দেখা যায়, পাইকারি বিক্রির জন্য ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরা হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব শসা কিনে নিয়ে যাবেন। ট্রাকে করে এসব শসা দেশের বিভিন্ন মোকামে চলে যাবে বলে জানান কৃষকরা।

মো. জাহাঙ্গীর মাঝি নামে এক কৃষক জানান, প্রায় দুই একর জমিতে শসা আবাদ করেছেন। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছে। শসা আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। রমজানের আগে তিনি প্রায় ৪০০ মণ শসা বিক্রি করেছেন। তখন ১৫-২০ টাকা দরে শসা বিক্রি করলেও রমজানের শুরুতে প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা দরে। কয়েক দিনে প্রায় ১২০ মণ শসা বিক্রি করেছেন। ঢাকা বরিশাল থেকে বিভিন্ন পাইকার এসে শসা নিয়ে যান।

হাসেম মিয়া নামে আরেকজন জানান, রমজানের আগে দাম কম থাকলেও শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বেড়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা ক্ষেত থেকে শসা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শসা বিক্রিতে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না।

সম্প্রতি উপজেলার বড় কাঁচাবাজার কালাইয়া বন্দর ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শসা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। যা রমজান শুরুর আগে ছিল ২৫-৩০ টাকা। দুই দিনের ব্যবধানে শসার দাম দুই-তিনগুণ বেড়ে গেছে। আর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তাদের পাইকারি কেনা বেশি, তাই খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।

মো. শুভ নামে এক বিক্রেতা জানান, রোজার আগে শসার পাইকারি দাম ছিল ১৫-২০ টাকা। রোজা শুরুর পর থেকে ৫০-৫৫ টাকা হয়ে গেছে। যার কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, কেজিপ্রতি বিভিন্ন সবজি ও তরকারির দামও বেড়েছে। ৩০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, ৪০ টাকার করলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, ৩০ টাকার গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। তবে টমেটো ও মিষ্টি কুমড়ার দাম কিছুটা সহনীয় রয়েছে। ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে টমেটো ও মিষ্টি কুমড়া। রাতারাতি সবজি ও তরকারির দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। এর জন্য প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন তারা।

আনোয়ার হাওলাদার নামে এক ক্রেতা বলেন, রোজার আগে শসার কেজি ছিল ২৫ টাকা। সেই শসা এখন ৮০ টাকা। শসা তো আমাদের দেশে উৎপাদন হয়। এমনকি বাউফলেই প্রচুর শসা উৎপাদন হয়। তাহলে রাতারাতি দাম কীভাবে বাড়ল, কারা বাড়াল? প্রশাসনের বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়েছে। প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটারিং করা।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন, ‘অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।




কেজিতে তরমুজ বেচায় চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পিস হিসাবে কিনে কেজিতে বিক্রি করার দায়ে পটুয়াখালীর হেতালিয়া বাধঘাট ও পুরানো বাজারে চার তরমুজ বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে।

একই অভিযানে বাধঘাট এলাকায় জ্বালানি তেল মাপে কম দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পটুয়াখালী পৌরসভার স্যানিটারি পরিদর্শক শারমিন সুলতানা বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং তরমুজ বিক্রির ব্যাপারে প্রতারণা কমাতে  করতে বাজার মনিটরিং ও অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এরই অংশ হিসেবে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এদিন সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহকারী পরিচালক শাহ শোয়াইব মিয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

 




পটুয়াখালীতে ৩০ টাকার তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়

৩০ টাকার তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

‘তরমুজের মৌসুম সবেমাত্র শুরু হয়েছে। এখনো ভালোভাবে বাজারে আসতে শুরু করেনি। আগাম জাতের তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে তাই দাম একটু বেশি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে কিনছেন। আমরাও আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি।’

পটুয়াখালীতে আগাম জাতের তরমুজ বাজারে এসেছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইফতারি পণ্য হিসেবে রসালো ও সুমিষ্ট এ ফলের ব্যাপক কদরও আছে। ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন। আকারভেদে প্রতি কেজি তরমুজ ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মৌসুমের শুরুতে ও রমজানে এ ফলের উচ্চমূল্যের কারণে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রেতা। পটুয়াখালীতে তরমুজ চাষ প্রচুর পরিমাণে হলেও এখন তা ক্রেতাদের হাতের নাগালে নেই।

পটুয়াখালী শহরের উপকণ্ঠের কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে হেতালিয়া বাঁধঘাটে ও পটুয়াখালী নিউমার্কেট এলাকায় দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন।

হেতালিয়া বাঁধঘাট বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী বশির গাজী বলেন, ‘আমরা আড়ত থেকে গড় দামে পিস হিসেবে তরমুজ কিনে আনি। কিন্তু কেজি দরে বিক্রি না করলে আমাদের লোকসান হয়।’
কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রতিটি তরমুজের গড় মূল্য পড়েছে ৩৫০ টাকার বেশি। এর মধ্যে ৪-৫ কেজি ওজনের ছোট আকারের, ৭-৮ কেজি ওজনের মাঝারি ও ৯ কেজির ওপরে বড় আকারের তরমুজ আছে। গড় মূল্য হিসেবে প্রতিটি তরমুজ কমপক্ষে ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়।

তিনি আরও জানান, ছোট আকারের তরমুজ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, মাঝারি আকারের ২৫০-৩০০ টাকা ও বড় আকারের ৪০০ টাকার বেশি চাইলে ক্রেতারা কিনতে চান না। তবে কেজি হিসেবে বিক্রি করতে পারলে অনেক ক্রেতা কিনেন।

পাশের দোকানদার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তরমুজের মৌসুম সবেমাত্র শুরু হয়েছে। এখনো ভালোভাবে বাজারে আসতে শুরু করেনি। আগাম জাতের তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে তাই দাম একটু বেশি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে কিনছেন। আমরাও আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি।’

হেতালিয়া বাঁধঘাট বাজারে তরমুজ কিনতে আসা সদর উপজেলার মৌকরণ গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ‘ইফতারে চাহিদা থাকায় তরমুজ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম নাগালের বাইরে।’

অপর ক্রেতা কালিকাপুর এলাকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘পটুয়াখালীতে অনেক তরমুজ হয়। এত দামে আমাদের কেন তরমুজ কিনতে হবে তা দেখা উচিত।’

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রমজানে বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে তরমুজের বাজারদর নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয় কোনোভাবেই কেজি দরে খুচরা বাজারে তরমুজ বিক্রি করা যাবে না। যেহেতু ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে কেনেন তাই খুচরা পর্যায়েও পিস হিসেবে বিক্রি করতে হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনাও দেন। কিন্তু ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই খুচরা বাজারে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।

পটুয়াখালী ভোক্তা অধিকার দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শোয়াইব মিয়া জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পটুয়াখালীর কয়েকটি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। তরমুজ ব্যবসায়ীদেরকে কেজি দরে বিক্রি না করে পিস হিসেবে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষক ও বাজারে খুচরা পর্যায়ে তরমুজের দামের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বিস্তর ফারাক। পাইকারি ব্যবসায়ীরা তরমুজ চাষিদের কাছ থেকে প্রতি ১০০ তরমুজ ৩০-৩৫ হাজার টাকায় কিনে আনেন। সে হিসেবে প্রতিটি তরমুজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। বাজারে তা ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার জাহাজমারা চরের তরমুজ চাষি জুলহাস মিয়া বলেন, ‘এ বছর তিন বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। চার দিন আগে ২৫০ পিস তরমুজ পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। খুচরা বাজারে ওই তরমুজ কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।’
উদাহরণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, ‘পটুয়াখালীতে ৩০ টাকার তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়।’

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ২২ হাজার ৩৯৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।
এ বছর জেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজ আবাদ হয়েছে গলাচিপা উপজেলায় আট হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়াও, রাঙ্গাবালীতে পাঁচ হাজার ৯৪৩ হেক্টর, বাউফলে তিন হাজার ৩৮০ হেক্টর, কলাপাড়ায় এক হাজার ৫৮০ হেক্টর, দশমিনায় এক হাজার ৫২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৭০৫ হেক্টর, দুমকিতে ২৫০ হেক্টর ও মির্জাগঞ্জে ৬৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।




ভোলায় কাউন্সিলর থেকে উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান

বরিশাল অফিস :: মো. মনিরুজ্জামান মনির। ২০০২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছিলেন ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি ঐ ওয়ার্ডেরই স্থায়ী বাসিন্দা। কাউন্সিলর থাকাকালীন আন্তরিকতার সঙ্গে দিয়েছেন মানুষকে সেবা। এবার তিনি নিজে উদ্যোক্তা হয়ে গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শাওন বাজার এলাকায় তার খামারটি। যেখানে রয়েছে বিভিন্ন জাতের গরু। তার খামারটির নাম রেখেছেন ‘নবনী এগ্রো ফার্ম’।

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এক সময় লালমোহন পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলাম। তখন নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থেকে সেবা করার। গত ৮ মাস আগে আমার মেজো ভাই বিশিষ্ট ঠিকাদার রাশেদুজ্জামান পিটারের অনুপ্রেরণায় শুরু করি গরুর খামার। শুরুতে খামারে মাত্র ১৭টি গরু ছিলো। বর্তমানে গরুর সংখ্যা ৫১টি। যেখানে রয়েছে- অস্ট্রেলিয়ান, শাহিওয়াল এবং দেশীয় জাতের গরু। যার মধ্যে ১২টি গাভী এবং ৩৯টি ষাঁড়। এসব ষাঁড়ের মধ্যে ২৫টিকে এ বছরের কোরবানিতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, খামারের গরুগুলোকে খাওয়ার জন্য বয়লার, ভুসি, খড়-কুটা ও ঘাস দেওয়া হয়। গরুর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিদিন চারজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। প্রতি মাসে গরুর খাবার ব্যয় ও শ্রমিকদের মজুরি বাবদ অন্তত আড়াই লাখ টাকার মতো খরচ হচ্ছে। এ বছরের কোরবানিতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার গরু বিক্রি করার আশা করছি। সেখান থেকে খরচ বাদে আট থেকে দশ লাখ টাকার মতো লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই উদ্যোক্তা বলেন, সরকারিভাবে বিনাসুদে ঋণ পেলে অনেক সুবিধা হতো। বিনাসুদে ঋণ পেলে খামার আরো সম্প্রসারণ করতে পারতাম। একইসঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার অসংখ্য বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো। তাই সরকারের কাছে আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের জন্য বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

মনিরুজ্জামানের খামারের শ্রমিক মো. কুদ্দুস, হেলাল ও মিলন বলেন, আমরা শুরু থেকেই এই গরুর খামারে কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গরুগুলোর পরিচর্যা করাসহ নিয়মিত খাবার দিই। এ জন্য খামারের মালিক মনির মিয়া আমাদের নিয়মিত বেতন দেন। যা দিয়ে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুন্দরভাবে সংসার চালাতে পারছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা সবসময় খামারিদের পাশে রয়েছি। খামারিদের যেকোনো সমস্যায় তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মনিরুজ্জামান নামে ঐ ব্যক্তি নতুন করে গরুর খামার দিয়েছেন। আমরা তার খামারটিও নিয়মিত পরিদর্শন করছি। তার যেকোনো সমস্যায় তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করছি। এছাড়া নতুন করেও যদি কেউ খামার করতে আগ্রহী হয় তার পাশেও সবসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ থাকবে।