হঠাৎ তরমুজের দরপতন, বিপাকে কৃষকেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীতে প্রচুর তরমুজ থাকলেও ক্রেতার অভাবে একেবারেই দাম নেই। পচনশীল হওয়ায় পানির দামেই পাইকারদের কাছে অনেকে ছেড়ে দিচ্ছেন তরমুজ। ফলে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের।

কৃষকেরা জানান, তরমুজের এখন যা পাইকারি দাম তাতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, পরিবহন খরচই উঠছে না। তরমুজ বিক্রি করে গাড়ি ভাড়ার খরচ দিয়ে পকেট শূন্য।

হঠাৎ দরপতন হওয়ার কারণ হিসেবে পটুয়াখালী চরবিশ্বাস এর কৃষক শামীম পালোয়ান জানান, ব্যাপারীরা যারা ক্ষেত কিনে রেখেছিলেন তারা গত দুই দিন বৈরি আবহাওয়ার কারণে অপরিপক্ক  সহ সব তরমুজ কেটে বাজারে নিয়ে গেছেন। বাজারে তরমুজ সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা নেই। কাঁচা থাকার কারণে ক্রেতারা তরমুজ কিনছেন না।

আরো পড়ুন :বাজারে এসেই জাটকা হয়ে যাচ্ছে ‘চাপিলা মাছ’

ফরহাদ নামের আরেক কৃষক জানান, ক্ষেতে এখনো ৪০ থেকে ৫০ ভাগ তরমুজ রয়েছে। দাম কমে যাওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে। এক ট্রাক তরমুজ কয়েকদিন আগেও বিক্রি করছি ৭/৮ লাখ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ২/৩ লাখ টাকা। ক্ষেতের তরমুজ ৪/৫ দিনের মধ্যে পেকে যাবে। তখন তরমুজ সরবরাহ আরো বাড়বে। তখনো দাম কম থাকলে কৃষকেরা পকেটের টাকা গচ্চা দিয়ে তরমুজ নিয়ে বাজারে হয়তো যাবেন না। তখন ক্ষেতেই ক্ষেতেই পঁচে যাবে।

কৃষকেরা জানান, সবচেয়ে ভালো মানের ৮-১২ কেজি ওজনের ১০০টি তরমুজ পাইকারি বিক্রি ছিল ৪ হাজার টাকা, যা এখন কমে হয়েছে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, পটুয়াখালীতে এবার আগাম তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও শেষ মুহূর্তে দাম হঠাৎ কমে যাওয়ায় চরম হতাশ কৃষকেরা। নিদারুণ কষ্ট- রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এবং নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে উৎপাদিত এ ফসলের মূল্যপতন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন তারা।

আরো পড়ুন : দুমকিতে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা



পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বন দিবস পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

“উদ্ভাবনায় বন, সম্ভাবনায় বন” শ্লোগান নিয়ে পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বন দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও উপকূলীয় বন বিভাগের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও সামাজিক বনায়নে উপকার ভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয় এবং এর মাধ্যমে দিবসটিকে পালন করা হয়েছে।

উপ বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ ওবায়দুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ তারিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয় প্রমুখ।

আলোচনা শেষে সামাজিক বনায়নে উপকার ভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারী দিকের কথা তুলে ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে প্রত্যেককে অন্তত একটি করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা রোপণ করার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০১৩ সালের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে জাতিসংঘভুক্ত অন্যান্য দেশের ন্যয় বাংলাদেশেও প্রতি বছর ২১ মার্চ আন্তর্জাতিক বন দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।




কারণ ছাড়াই ট্রাকভাড়া দ্বিগুণ – বাড়তে পারে তরমুজের দাম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

দেশের বিভিন্ন সেক্টরে বেড়েছে অসাধুদের দৌরত্ম। এবার কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করেই তরমুজ পরিবহন করা ট্রাকের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে ২২-২৫ হাজার টাকায় প্রতিটি ট্রাক চলাচল করলেও এ সপ্তাহে নেওয়া হচ্ছে ৪৫-৫০ হাজার টাকা। এ অবস্থায় ট্রাকমালিকদের কাছ জিম্মি হয়ে পড়েছেন পটুয়াখালী জেলার তরমুজ চাষি ও ব্যাপারীরা। এতে আরেক দফা দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে তরমুজের।

সারাদেশে যে পরিমাণ তরমুজের চাহিদা রয়েছে তার বড় একটি অংশ পটুয়াখালীর কৃষকরা উৎপাদন করে থাকেন। এ বছর রমজানকে কেন্দ্র করে কৃষকরা তরমুজের আগাম আবাদ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভালো।

তবে এবার তরমুজ চাষিরা অনেকটাই জিম্মি ট্রাকমালিকদের কাছে। রমজানের শুরুর দিকে পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় যে ট্রাক ভাড়া ছিল তার তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে তরমুজের উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে পরিবহন বাবদ বড় একটি অংক যুক্ত হচ্ছে। ফলে তরমুজের দাম আরও বাড়ছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার আমি ৮ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়া ট্রাকভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ১৫ মার্চ যে ট্রাকভাড়া ছিল ২৮ হাজার টাকা, ৬ দিনের ব্যবধানে তা এখন ৪০ হাজার টাকা হয়েছে। আমার প্রশ্ন, কীভাবে ৬ দিনের ব্যবধানে ১২ হাজার টাকা ভাড়া বেড়ে যায়?’

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম বলেন, বিষয়টি আমরা খোঁজ নিচ্ছি। কৃষকদের কাছ থেকে যাতে বেশি ভাড়া আদায় করা না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এক ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক বলেন, ‘সব জিনিসপত্রের দাম বেশি, তেলের দাম বেশি। ট্রিপ দিয়ে এলে দুই তিন হাজার টাকার বেশি থাকে না। ট্রাকচালকরা এতো কম রেটে গাড়ি চালাইতে চায় না। সেজন্য ভাড়া বাড়ছে। আর এখন তো ট্রাকই পাই না। যে যেভাবে পারছে চুক্তি করে মাল নিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, জেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজ উৎপাদন হয় কলাপাড়া, গলাচিপা এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায়। বিগত বছরগুলোতে তরমুজ পরিবহনে নৌপথ ব্যবহার করলেও পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এসব এলাকার কৃষকরা সড়কপথেই বেশিরভাগ তরমুজ পরিবহন করছেন।

 




সুন্দরবনে গাছের প্রজাতি নির্ণয়ে জরিপ শুরু

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও সংখ্যা নির্ণয়ে শুরু হয়েছে জরিপ। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় এই গাছ জরিপের কাজ। এ কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করবে বন বিভাগ।

সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ম্যানগ্রোভ বনের ৪ হাজার ১৪২ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটারের স্থলভাগে কত প্রজাতির ও কি পরিমাণ গাছপালা রয়েছে তা জানতে এই জরিপ চালানো হচ্ছে। বন বিভাগের তথ্যমতে ১৯০৩ সালের গবেষণায় সুন্দরবনে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুর, কাঁকড়া, কেওড়া, ধুন্দল, বাইন, খলসি, আমুর, সিংড়াসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড ছিল। ১৯৮৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে অরণ্য ও গুল্ম প্রজাতির সংখ্যা কমে তা দাঁড়ায় ৬৬ প্রজাতিতে। ১৯৯৭ সালের জরিপে সুন্দরবনে মাত্র ৪৮ প্রজাতির উদ্ভিদ ছিল। এরপর ২০১৪-১৫ সালের সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে গাছের প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪টিতে। এর মধ্যে ৫৪ প্রজাতির গাছ, ২৮ প্রজাতির লতাপাতা, ১৩ প্রজাতির গাছড়া, ২২ প্রজাতির গুল্ম, ১৩ প্রজাতির ফার্ন, ১২ প্রজাতির অর্কিড, ৩ প্রজাতির পরজীবী উদ্ভিদ, ২ প্রজাতির পাম, ২৮ প্রজাতির ঘাস ও ৯ প্রজাতির ছত্রাক উদ্ভিদ রয়েছে সুন্দরবনে। বর্তমানে সুন্দরবনে এসব উদ্ভিদের মধ্যে ৭০ শতাংশই হচ্ছে সুন্দরী, গেওয়া ও গরান গাছ।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, বাংলাদেশের সমগ্র সুন্দরবনের স্থলভাগে কত প্রজাতির ও কি পরিমাণ গাছপালা রয়েছে তা জানতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এই বনভূমির গাছ জরিপের কাজ। বন বিভাগের বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আগামী তিন মাসের মধ্যে এই জরিপ কাজ শেষ করবে।

 




তরমুজে সয়লাব বরিশালের বাজার

বরিশাল অফিস :: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মৌসুম শুরুর আগেই বরিশালের বাজার রসালো ফল তরমুজে সয়লাব হয়ে গেছে। তবে বাড়তি মুনাফা নিতে অপরিপক্ব তরমুজই বিক্রি হচ্ছে বেশি। তরমুজের দাম নিয়েও চলছে টালবাহানা। খেত থেকে পাইকাররা ঠিকা কিনলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। কৃষক আগেভাগে তরমুজের চাষাবাদ করে বাড়তি দামের আশা করছে।

আর পাইকারা (মধ্যস্বত্বভোগী) তাদের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে তরমুজ ক্ষেত ক্রয় করে তার সুফল ভোগ করছেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর চৈত্রের মাঝারী বর্ষণে তরমুজ চাষীদের কপাল পোড়ায় এবার বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ প্রায় ৩০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। গত বছর ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এবার ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। ফলে উৎপাদনও গত বছরের ২৭ লাখ টন থেকে এবার ২০ লাখ টনে নেমে আসার শঙ্কা করেছেন কৃষিবিদরা। সূত্রমতে, গত এক দশকেরও বেশী সময় ধরে সারাদেশের ৭০ ভাগ তরমুজের আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল অঞ্চলে। গত বছর সারাদেশে আবাদকৃত ৯২ হাজার হেক্টরের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলেই ৬৫ হাজার হেক্টরে তরমুজ চাষ হয়েছিলো।

 

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষক ইমরান হোসেন এবার প্রায় ১৩০ একর জমিতে আগাম তরমুজ আবাদ করেছেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। ১০ রমজান থেকে তিনি তার খেতের তরমুজ বাজারজাত করবেন। এতে লাভবান হওয়ার আশা করছেন ইমরান। পটুয়াখালীর বাউফল থেকে ট্রলারযোগে গত ২০ মার্চ সকালে ১৭শ’টি তরমুজ নিয়ে বরিশাল নগরীর ফলের আড়তে এসেছেন কৃষক খোকন হাওলাদার। ১৬০ টাকা প্রতিটি করে ১০০ পিস তরমুজের দর উঠেছে ১৬ হাজার টাকা। তার চাহিদা ছিলো ২০ হাজার টাকা। খোকন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী আড়ৎদার দাম না বলায় আমি চরম হতাশ। কারণ সার, ওষুধ ও শ্রমিকের খরচ মিটিয়ে ভালো দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পরতে হবে।

বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড হাওলাদার ফল ভান্ডারের স্বত্বাধীকারি মনির হোসেন হাওলাদার বুধবার ( ২০ মার্চ) দুপুরে বলেন, এবছর সব কিছুর দাম বেশি। তাই তরমুজেরও দাম বেড়েছে। চৈত্রের শেষদিকে তরমুজের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। নগরীর চৌমাথা বাজার এলাকার ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ঠিকা এবং কেজি দরে। নগরীর সব জায়গাতেই মৌসুমী রসালো ফল তরমুজ একইভাবে বিক্রি হচ্ছে। যা কিনে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা।

 

তরমুজ ক্রয় করতে আসা বরিশালের একটি বেসরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রমজান আলী বলেন, একটি মাঝারি তরমুজ ক্রয় করে হলে চার থেকে পাঁচশ’ টাকা লাগে। তিনি আরও বলেন, আমার বাবা-দাদারাও কোনোদিন কেজিতে তরমুজ কিনে খায়নি। আমাকে কিনতে হচ্ছে। তাই সাধ থাকলেও সাধ্য না থাকায় মৌসুমী ফল খেতে আগ্রহ হারাতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা গৃহিনী মমতাজ বেগম বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আসার আগে আমি ৮০ টাকা কেজি দরে তরমুজ ক্রয় করেছি। তখন কেজি দরে তরমুজ বিক্রিতে আপত্তি জানালে ব্যবসায়ীরা আমার কাছে তরমুজ বিক্রি করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। কিন্তু যখন ম্যাজিষ্ট্রেট আসে তখন তরমুজ মাপার মিটারের দাড়িপাল্লা লুকিয়ে রেখে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করা হয়। ম্যাজিষ্ট্রেট চলে গেলে আবার সেই আগের অবস্থায় কেজি দরে বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসেনর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান করে সতর্ক করলেও বাস্তবে মানছে না কেউ। তবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিংবা ফলের দাম বেশি রাখা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বাজার নজরদারির অংশহিসেবে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা এবং সতর্ক করা হয়েছে ।

চলতি মৌসুমে আবাদ ৩০ ভাগ হ্রাস :: গত বছর চৈত্রের মাঝারী বর্ষণে তরমুজ চাষীদের কপাল পোড়ায় এবার বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ প্রায় ৩০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। ফলে গতবার চাষ হওয়া ৬৬ হাজার হেক্টর থেকে চলতি মৌসুমে ৪৬ হাজার হেক্টরে নেমেছে। ফলে উৎপাদনও গত বছরের ২৭ লাখ টন থেকে এবার ২০ লাখ টনে নেমে আসার শঙ্কা করেছেন কৃষিবিদরা।

সূত্রে জানা গেছে, উৎপত্তিস্থল আফ্রিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে সুমিষ্ট রসালো ফল তরমুজ বাংলাদেশের নদীবহুল বরিশাল অঞ্চলে ইতোমধ্যে অর্থকরী ফসলের তালিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরী করেছে। সারাবিশ্বসহ দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশেই তরমুজের আবাদ হলেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এর আবাদ ও উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। যার সিংহভাগ অর্জনই বরিশালের কৃষি যোদ্ধাদের। বেলে দো-আঁশ থেকে এটেল দো-আঁশ পর্যন্ত সবধরনের মাটিতে তরমুজের চাষ হচ্ছে। এমনকি নদ-নদীবহুল বরিশলের নোনা পানিমুক্ত চরাঞ্চলের পলি মাটিতে তরমুজের ভাল ফলন হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে অকাল বর্ষণ ও অব্যাহত অনাবৃষ্টিসহ আবহাওয়ার খেয়ালী আচরণ বিরুপ পরিস্থিতি তৈরী করছে। গতবছর টানা প্রায় পাঁচ মাস পরে মার্চের মধ্যভাগ থেকে কয়েক দফা হালকা থেকে মাঝারী ও ভারি বর্ষণে জমিতে পানি জমে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয় তরমুজ খেত। অনেক এলাকার চাষীরা মাঠ থেকে তরমুজ উত্তোলনই করতে পারেননি। কিছু এলাকার নিমজ্জিত তরমুজ উত্তোলন করে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের পাইকারি বাজারে নিয়ে আসা হলেও তাতে পচন ধরায় নগরীর জেলখালসহ কীর্তনখোলা নদীতে তরমুজগুলো ফেলে দিয়েছিলেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা। ওইসময় চাষীদের অনেক কষ্টের হাজার হাজার টন তরমুজ ভোক্তার পরিবর্তে নদী ও খালে ভেসেছে। ফলে আরো একবার ভাগ্যবিপর্যয় ঘটে বরিশালের তরমুজ চাষীদের। পাশাপাশি মধ্যস্থভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণে মাঠ থেকে কৃষকরা অনেক কমমূল্যে তরমুজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় এবার দেশের ৭০ ভাগ তরমুজের যোগান দেওয়া বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ প্রায় ৩০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এবছর রাঙ্গাবালীসহ সংলগ্ন এলাকায় তরমুজ বাগানে একধরনের মড়ক লেগেছে। এতে করে গাছের ডগার রঙ বিবর্ণ হয়ে কখনো পচন শুরু হয়। সাথে ফলের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়ে অকালে ঝড়ে যাচ্ছে।

সূত্রের দাবি, একই জমিতে অব্যাহত তরমুজ আবাদের ফলে এ ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। প্রতি তিন বছর অন্তর ফসল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাঠপর্যায়ের কৃষিকর্মী বা ব্লক সুপারভাইজাররা নিবিড় পর্যবেক্ষন ও সুপারিশ করলেও চাষীরা কর্ণপাত না করার কারণেই ফসল বিপর্যয় হচ্ছে। কৃষি ও পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে তরমুজে যথেষ্ট পরিমান ভিটামিন-এ, রিবোফ্লাভিন, থায়ামিন ও পেপটিন বিদ্যমান রয়েছে। চীনা ভেষজবীদদের মতে তরমুজের রস রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। পাকা তরমুজের রসালো শাস স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হবার পাশাপাশি তা অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক ও তৃষ্ণা নিবারক। উন্নত বিশ্বে তরমুজ দিয়ে নানাধরনের সরবত, জ্যাম, সিরাপ ও জেলি পর্যন্ত তৈরী হচ্ছে। তবে বরিশালসহ সারাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫-৪০ লাখ টন তরমুজ উৎপাদন হলেও তা প্রক্রিয়াজাত করে কোনধরনের খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুতের উদ্যোগ নেই। বরিশালে দীর্ঘদিন থেকে একটি ‘কৃষি ও মৎস্য ভিত্তিক রফতানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা’ প্রতিষ্ঠার দাবী সাধারণ মানুষের। এঅঞ্চলের ইলিশ ছাড়াও উন্নতমানের পেয়ারা ও তরমুজসহ অন্যান্য ফল এবং ফসলকে কেন্দ্র করে একটি রফতানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রতিষ্ঠিত হলে তা আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় যথেষ্ট ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী অর্থনীতিবীদরা।




হাত ঘুরলেই তরমুজের দাম লাগামহীন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

একজন কৃষক সাত থেকে দশ কেজির একটা তরমুজের দাম পান সর্বোচ্চ ২৭০ টাকা। ঢাকায় আনতে পরিবহন খরচ তরমুজ প্রতি সর্বোচ্চ ত্রিশ টাকা। এরপর তিন দফা হাত বদলে, সেই তরমুজ ক্রেতাদের কিনতে হয় ছয় থেকে সাতশ’ টাকায়।

কৃষকের কাছ থেকে পিস হিসেবে কেনা তরমুজ রাজধানীর বাজারে আসতেই বিক্রি হয় কেজি দরে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলা তরমুজের আগাম ফলন এবার বেশ ভালো।রোজার চাহিদাকে মাথায় রেখে কৃষকরা এই তরমুজ ফলিয়েছেন ।

দেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা রাঙ্গাবালিতে ছয় থেকে দশ কেজির একটি তরমুজে কৃষক দাম পাচ্ছেন সর্বোচ্চ আড়াইশ থেকে ২৭০ টাকা। তিন থেকে পাঁচ কেজির তরমুজে পাচ্ছেন ১৫০ টাকা। ঢাকায় আনতে তরমুজ প্রতি খরচ সর্বোচ্চ ৩০ টাকা। কিন্তু কৃষকের কাছ থেকে শ’ দরে কেনা তরমুজ ঢাকায় বিক্রি হয় কেজি দরে। মূলত কারসাজির উদ্দেশ্যেই কেজিতে বিক্রির ফন্দি।

আড়তগুলোতেও তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি হিসেবে। ছয় কেজির নিচের তরমুজ আড়তে দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। ছয় কেজির বেশি হলে কেজি প্রতি দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আড়ত আর কুলির খরচ প্রতি পিসে সাত টাকা। লাগামছাড়া এই দাম আবার নিজেরাই ঠিক করেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা ।

আড়ত মালিকদের দাবি, কারসাজি হয় ফুতপাতের দোকানে। ফুটপাতে সেই তরমুজের কেজি হয়ে যাচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি পচে যাওয়া আর চাঁদাবাজির কারনেই দাম বেশি।




এবার বরিশালে তরমুজের আবাদ ৩০ ভাগ হ্রাস পেল

বরিশাল অফিস:; গত বছর চৈত্রের মাঝারী বর্ষণে তরমুজ চাষীদের কপাল পোড়ায় এবার বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ প্রায় ৩০ ভাগ হ্রাস পেয়ে প্রায় ৬৬ হাজার হেক্টর থেকে ৪৬ হাজার হেক্টরে নেমেছে। উৎপাদনও গত বছরের ২৭ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনের নিচে হ্রাস পাবার আশংকা করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদগন। ফলে বরিশালে কৃষি নিয়ে অনেক ভাল খবরের মাঝে এ দুঃসংবাদটি এ অঞ্চলের কৃষি-অর্থনীতিতে যথেষ্ঠ বিরূপ পরিস্থিতি তৈরী করতে যাচ্ছে। গত এক দশকেরও বেশী সময় ধরে সারা দেশে প্রায় ৭০ ভাগ তরমুজের আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল অঞ্চলে। গত বছর সারাদেশে আবাদকৃত ৯২ হাজার হেক্টরের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলেই ৬৫ হাজার হেক্টরে তরমুজের চাষ হয়।

উৎপত্তিস্থল আফ্রিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে সুমিষ্ট রসালো ফল তরমুজ বাংলাদেশের নদীবহুল বরিশাল অঞ্চলে ইতোমধ্যে অর্থকরি ফসলের তালিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরী করেছে। সারা বিশ্ব সহ দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশেই তরমুজের আবাদ হলেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এর আবাদ ও উৎপাদনে ব্যপক সফলতা অর্জন করেছে। যার সিংহভাগ অর্জনই বরিশালের কৃষি যোদ্ধাদের। বেলে দো-আঁশ থেকে এটেল দো-আঁশ পর্যন্ত সব ধরনের মাটিতে তরমুজের চাষ হচ্ছে। এমনকি নদ-নদীবহুল বরিশলের নোনা পানিমূক্ত চরাঞ্চলের পলি মাটিতে তরমুজের ভাল ফলন হচ্ছে।

কিন্তু সাম্প্রতিককালে অকাল বর্ষণ ও লাগাতর অনাবৃষ্টি সহ আবহাওয়ার খেয়ালী আচরন বিরূপ পরিস্থিতি তৈরী করছে। গতবছর টানা প্রায় ৫ মাস পরে মার্চের মধ্যভাগে থেকে কয়েক দফা হালকা থেকে মাঝারী ও ভারি বর্ষণে জমিতে পানি জমে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয় তরমুজ বাগান। অনেক এলাকার চাষীরা মাঠ থেকে তরমুজ উত্তোলনই করতে পারেননি। কিছু এলাকার নিমজ্জিত তরমুজ উত্তোলন করে বরিশালের পোর্ট রোডের পাইকারি বাজারে নিয়ে এলেও তাতে পচন ধরায় সংলগ্ন জেলখাল সহ কির্তনখোলা নদীতে ফেলে দেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা। চাষীদের অনেক কষ্টের হাজার হাজর টন তরমুজ ভোক্তার পরিবর্তে নদী ও খালে ভেসেছে। ফলে আরো একবার ভাগ্যবিপর্যয় ঘটে বরিশালের তরমুজ চাষীদের।

পাশপাশি ফরিয়া সিন্ডিকেটের কারণে মাঠে থেকে কৃষকরা অনেক কমমূল্যে তরমুজ বিক্রী করতে বাধ্য হওয়ায় এবার দেশের ৭০ ভাগ তরমুজের যোগান দেয়া বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ প্রায় ৩০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। পাশপাশি রাংগাবালী ও সংলগ্ন এলাকায় ইতোমধ্যে তরমুজ বাগানে এক ধরনের মড়ক লেগেছে। এতেকরে গাছের ডগার রঙ বিবর্ণ হয়ে কখনো পচন শুরু হয়। সাথে ফলের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়ে অকালে ঝড়ে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি’ বরিশাল কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার মতে একই জমিতে লাগাতর তরমুজ আবাদের ফলে এধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। প্রতি তিন বছর অন্তর ফসল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাঠ পর্যায়ের কৃষিকর্মী বা ব্লক সুপারভাইজারদের নিবিড় পর্যবেক্ষন ও সুপারিশের আলোকেই ফসল নির্ধারনের পরামর্শ দেন তিনি।

বর্ষজীবী, দিবস দৈর্ঘ, নিরপেক্ষ ও লতানো প্রকৃতির কুমড়া পরিবারের গাছ থেকে সুমিষ্ট রসালো ফল তরমুজ উৎপাদন হয়ে থাকে। মুলত ৫.৫ থেকে ৭.০ পিএইচ মাত্রার জমি সুমিষ্ট তরমুজ আবাদ ও উৎপাদনের জন্য উপযোগী হলেও কোন অবস্থাতেই তা অতিরিক্ত লবনাক্ততা সহ্য করতে পারেনা। পাশাপাশি খরা প্রতিরোধক ফসল তরমুজ অপেক্ষাকৃত শুষ্ক পরিবেশে বড় হয়ে উঠলেও লাগাতর বৃষ্টির অভাবে এর উৎপাদন ব্যাহত হবারও আশংকা থাকে। ফলে আবাদ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত ৩-৪টি সেচ প্রয়োগ করতে হলেও অতি বর্ষণ এর গাছ ও ফলকে বিনষ্ট করে।

‘বারি’র বিজ্ঞানীগন ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল ও সুমিষ্ট তরমুজের জাত উদ্ভাবন করেছেন। গত বছর বরিশালে তরমুজের হেক্টর প্রতি গড় ফলন প্রায় ৪২ টনের মত বলে ডিএই জানালেও ‘বারি’ নির্দেশিত সুষম সার প্রয়োগ সহ আবাদ কৌশল অনুসরন করলে তা সহজেই ৫০ টনে উন্নীত করা সম্ভব বলেও মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীগন।

মৌমাছির সাহায্যে পরাগায়িত হয়ে এ ফলের উৎপাদন নিশ্চিত হলেও সদুর অতীত থেকে ‘পতেঙ্গা’ ও ‘গোয়ালন্দ’ জাতের কালচে এবং নীলাভ গোলাকৃতির তরমুজের আবাদ হত। তবে তার মিষ্টতা বর্তমান প্রজন্মর চেয়ে অনেক কম ছিল। অধীক ফলন, মিষ্টতায় পরিপূর্ণ আধুনিক রসালো জাতের তরমুজের জনপ্রিয়তা সারা বিশে^ও ক্রমে বাড়ছে। এ অঞ্চলে ইউরোপীয়, প্রাচ্য ও গ্রীষ্ম মন্ডলীয় ‘টপইল্ড, গ্লোরী, কঙ্গো, চার্লসটনÑগ্রে, ইমিরিয়েল, জুবলী, সুপার ডেলিকেট, সুপার বেবী, সুইট ফেস্টিবল ও ফ্লোরিডা জয়েন্ট’ নামের একাধীক উন্নত জাতের তরমুজের আবাদ হচ্ছে।

কৃষি ও পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে তরমুজে যথেষ্ট পরিমান ভিটামিন-এ, রিবোফ্লাভিন, থায়ামিন ও পেপটিন বিদ্যমান রয়েছে। চীনা ভেষজবীদদের মতে তরমুজের রস রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। পাকা তরমুজের রসালো শাস স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হবার পাশাপাশি তা অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক ও তৃষ্ঞা নিবারক। উন্নত বিশ্বে তরমুজ দিয়ে নানা ধরনের সরবত, জ্যাম,সিরাপ, গুড় ছাড়াও এ্যালকহল পর্যন্ত তৈরী হচ্ছে। এমনকি সইট্রেন শ্রেণীর তরমুজ দিয়ে জেলীও তৈরী হচ্ছে।


তবে বরিশাল সহ সারা দেশ প্রতি বছর শীত মৌসুমেই প্রায় ৩৫-৪০ লাখ টন তরমুজ উৎপাদন হলেও তা প্রক্রিয়াজাত করে কোন ধরনের খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুতের উদ্যোগ নেই। বরিশালে দীর্ঘদিনই একটি ‘কৃষি ও মৎস ভিত্তিক রফতানী প্রক্রিয়াকরন এলাকা’ প্রতিষ্ঠার দাবী সাধারন মানুষের। এঅঞ্চলের ইলিশ ছাড়াও উন্নতমানের পেয়ারা ও তরমুজ সহ অন্যন্য ফল ও ফসলকে কেন্দ্র করে একটি রফতানী প্রক্রিয়াকরন এলাকা প্রতিষ্ঠিত হলে তা আর্থ-সামাজিক ব্যাবস্থায় যথেষ্ঠ ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী অর্থনীতিবীদগন।

তবে গত বছর ২৭ লাখ টন থেকে এবারো বরিশাল অঞ্চলে অন্তত ২০ লাখ টন উৎপাদনের পরে কয়েক হাত ঘুরে ভোক্তার কাছে পৌছতে শুরু করলেও মাঠের ৬০-৭০ টাকার তরমুজ দুশ টাকার ওপরে বিক্রী হচ্ছে। কৃষকের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না।
ফলে ‘যারা আবাদ ও উৎপাদন করে, অভাব তাদেরই তাড়া করে, আর টাকা যায় মধ্যসত্ব ভোগীদেরই ঘরে’।




কলাপাড়ায় তরমুজ ক্ষেতে পাইকারদের হুমড়ি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ইবাদতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। তবে তেজদীপ্ত রোদেলা আবহাওয়ায় সংযমী হতে একটু বেশিই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন রোজদাররা। ফলে দিন শেষে ইফতারিতে পিপাসা মেটাতে হরেক রকম অয়োজন করে থাকেন অনেকেই। এর মধ্যে জনপ্রিয়তার তালিকায় অন্যতম হচ্ছে জিভে জল আনা রসালো তরমুজ।

তবে সম্প্রতি রোজাকে কেন্দ্র করে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষেতে গিয়ে ইফতারির এই অনুষঙ্গের খোঁজ করছেন বড় ক্রেতারা। ফলে তরমুজ চাষিদের মাঠে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন পাইকাররা।

চলমান মাহে রমজানে মিষ্টি স্বাদের রসালো তরমুজের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। তাই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিস্তীর্ণ তরমুজ আবাদের মাঠজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আর তরমুজ মৌসুমেই রমজান থাকায় বেশ দামও হাঁকাতে পারছেন চাষিরা। তবে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পাইকারদের ভিড়ে এক প্রকার তরমুজশূণ্য স্থানীয় বাজারগুলো।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রোদের তীব্রতা উপেক্ষা করে চাষিদের ক্ষেত থেকেই তরমুজ ট্রাকে তুলে নিচ্ছেন পাইকাররা। আর অর্থের বিনিময়ে এই কাজে সহায়তা করছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।

উপজেলার টিয়াখালী ইউপির দক্ষিণ টিয়াখালী গ্রামের তরমুজ ক্ষেতে কথা হয় চাষি রুহুল গাজীর সঙ্গে। তিনি জানান, তিনটি ক্ষেতে মোট ৪১ একর জমিতে বিট ফ্যামিলি এবং ড্রাগন প্রজাতির তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এই মৌসুমে উৎপাদন ব্যয় বাবদ দৈনিক ১০ জন শ্রমিক দিয়ে ৪৬ লাখ টাকা খরচ করেছেন এই চাষি। ফলে সাড়ে চার মাসে ঘাম ঝরানো সঠিক পরিচর্যায় পরিপক্ক ফসল পেয়েছেন তিনি। এখন তিনটি ক্ষেত বিক্রি করেছেন ৭১ লাখ টাকায়। কোনো রোগবালাই না থাকায় রমজানের মধ্যে বেশ বাজার মূল্য পেয়েছেন বলে জানান এই উদ্যোক্তা।

ভোলা থেকে এই চাষির তরমুজ কিনতে আসা পাইকার মাসুম বিল্লাহ জানান, ৪৬ লাখ টাকায় রুহুল গাজীর ২৫ একরের একটি ক্ষেত কিনেছেন তিনি। আরো চাহিদা থাকলেও তরমুজ সঙ্কটে নিতে পারেননি। তবে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বাদ দিয়েও ৬ লাখ টাকা লাভ হবে তার।

এছাড়া রসালো এই মৌসুমি ফল কিনতে আগত পাইকাররা বিভিন্ন কৃষকের ক্ষেতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন বলে জানান বিনিয়োগকারী।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৩শ ২৩ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন চাষিরা। তবে এর মধ্যে ধানখালী, বালীয়াতলী ও টিয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি তরমুজের ফলন হয়েছে।

এবছর কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি তরমুজ চাষে স্থানীয় সরকারের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

 




অবহেলায় বিলুপ্তির পথে গ্রাম-গঞ্জে জন্মানো ভাটিফুল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে রাস্তার পাশে, জঙ্গলে জন্মানো বনজুঁই বা ভাটিফুল সহজেই মানুষের নজর কাড়ে।

ঋতুরাজ বসন্তের শুরু থেকেই ঝোপ-ঝাড়ে, জঙ্গলে, রাস্তার ধারে নিজের সুন্দর রূপ ছড়িয়ে থাকে ভাটিফুল। ভাঁট গ্রাম বাংলার চিরচেনা বনফুল।

স্থানভেদে এটির নাম ভাটি ফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, ঘণ্টাকর্ণ থাকলেও এ অঞ্চলে ‘ভাটি ফুল’ নামেই পরিচিত।

সনাতন ধর্মালম্বীরা ভাটি পূজায় এই ফুল ব্যবহার করে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্লোরোডেনড্রাম ভিসকোসাম, ভারবেনাসেই গণের এই ফুল ল্যামিয়াসেই পরিবারভুক্ত। এটি ইনফরচুনাটাম প্রজাতির এবং বাংলাদেশের আদি ফুল। ভাটিফুল দেশজ গুল্মজাতীয় বুনোফুল। ছোট আকৃতির নরম শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট ঝোপ জাতীয় গাছে তোড়ার মতো ভাটিফুল ফোটে।

ফুলের রং সাদা। পাঁচটি পাপড়ি। প্রতিটি ফুলের অভ্যন্তরে বেগুনি রঙের ঢেউ যেন ব্রাশ দিয়ে টেনে দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে সাদা বেশ দীর্ঘ কয়েকটি মঞ্জরি। রাতে ভাটিফুল গন্ধ ছড়ায়। ভাটিফুল ঔষধি উদ্ভিদ। এর পাতা কবিরাজরা অ্যাজমা, টিউমার ও সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা জ্বর, চর্মরোগ ও বিছার হুল ফোটানোতে এর পাতা, ফুল, ফল ও মূল ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করেন। জেলার গ্রামাঞ্চলের সর্বত্রই ভাটিফুলের কম বেশি দেখা মেলে। তবে অচাষকৃত বহু বিলুপ্ত উদ্ভিদের মতোন ভাটিফুলও বিলুপ্তির পথে।




কেজিতে তরমুজ বিক্রি হয় জানে না চাষি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

ঢাকা শহরে তরমুজের কেজি ৭০-৮০ টাকা। রমজানে চাহিদা থাকায় দাম অনেকটা বাড়তি। তবে প্রান্তিক কৃষকের অনেকে জানেনই না, তরমুজ কেজি দরে বিক্রি হয়। তারা পিস হিসেবে বিক্রি করেন। এরপর যতবার তরমুজ হাত বদল হয় ততবারই দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ভোক্তার কাছে এসে ঠেকে কেজিতে। যার দাম কৃষকের কাছে অকল্পনীয়।

দেশে তরমুজ চাষে সুনাম রয়েছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার। দেশের বাজারে সরবরাহকৃত তরমুজের বড় একটি অংশ আসে এই এক উপজেলা থেকে। উপজেলার প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে তরমুজ চাষ, ব্যবসা, বহনের সঙ্গে জড়িত।

উপজেলার কয়েকজন প্রান্তিক তরমুজ চাষিরা জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকাকে তরমুজ কেজিতে বিক্রি হয়—এ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তারা শুরু থেকেই তরমুজ পিস হিসেবে বেচা-কেনা করে আসছেন। ঢাকায় তরমুজের কেজি কত সে সম্পর্কে কেউ কেউ সংবাদ মাধ্যম থেকে জানলেও অনেকের অজানা।

তরমুজ চাষিরা জানিয়েছেন, দুইভাবে তরমুজ বিক্রি করেন তারা। প্রথমত ক্ষেত চুক্তি, এতে পুরো ক্ষেতের তরমুজ অনুমান করে একসঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে মূল চাষির ব্যয়ের সঙ্গে লাভ ধরে দাম নির্ধারণ করে তারা। বিক্রির পর ব্যবসায়ীরা তাদের সময়-সুযোগ অনুযায়ী ক্ষেত থেকে তরমুজ নিয়ে যান।
দ্বিতীয়ত, ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে শ হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ ক্ষেত্রে ওজন ও আকার অনুযায়ী ক্যটাগরি নির্ধারণ করা হয়।

তরমুজ চাষি শাখাওয়াত, সিরাজসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আনুমানিক পাঁচ কেজি ওজনের একটি তরমুজ তারা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন। এদিকে ঢাকায় ৮০ টাকা কেজি হলে তরমুজটির দাম হয় ৪০০ টাকা। মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরাই এই লাভ করছেন। প্রান্তিক চাষিরা সামান্য লাভেই তরমুজ বিক্রি করছেন।
তাদের দাবি, শহরে দাম এতো বেশি হলে তরমুজের বাজারে বিরুপ প্রতিক্রীয়া হবে। যার প্রভাব পড়বে ক্ষেতের তরমুজে। ভোক্তা তরমুজ কেনা বন্ধ বা কমিয়ে দিলে মাঠে অবিক্রিত তরমুজ নষ্ট হবে বলে ধারণা তাদের। অথবা লসে বিক্রি করতে হবে চাষিদের।

উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৭ থেকে ১০ কেজির একটি তরমুজ পিস হিসেবে সর্বোচ্চ ২৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন চাষিরা। আর ছোট তরমুজ (পাঁচ কেজির নিচে) ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষিদের কাছ থেকে কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে কিনছেন ব্যবসায়ীরা।
রাঙ্গাবালী থেকে তরমুজ ট্রলারে নেওয়া হয় গলাচিপা উপজেলায়। এতে প্রতি পিস তরমুজে খরচ হয় পাঁচ টাকা। সেখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় নেওয়া হয় তরমুজ।

আড়ৎদার, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি বড় ট্রাকে বড় সাইজের (৭-১০ কেজি) ২৫০০ পিসের মতো তরমুজ ধরে। আর তরমুজ মাঝারি ও ছোট মিলে তিন থেক সাড়ে তিন হাজার তরমুজ নেওয়া যায়। এতে ট্রাক প্রতি খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এতে গড়ে তরমুজ প্রতি প্রায় ১০০ টাকা খরচ হয় বলে জানিয়েছেন তারা।

ট্রাকচালক ইমরান শেখ বলেন, ‘আমাদের তেল এবং টোল খরচেই চলে যায় টাকা। এর বাইরেও টুকটাক খরচ আছে। পথে বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে টাকা তোলা হয়। সব মিলিয়ে মালিকের তেমন কিছু থাকে না।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এই মৌসুমে রাঙ্গাবালী উপজেলায় ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং অনুকূলে পরিবেশ থাকলে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদনের আশা ব্যক্ত করেছিল কৃষি বিভাগ। তবে পোকার আক্রমন এবং রোগের কারণে প্রায় ৩৫ হেক্টরের মত তরমুজের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেক্ষেত্রে উৎপাদন ও আবাদ কম হওয়ায় ৩৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে ধারণা।
উপজেলার কাউখালী এলাকায় প্রায় ১৩ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন ছোট বাইশদিয়ার চাষি মিথেল হাওলাদার। শুরুতেই জমি সমস্যায় তার প্রায় ৩ হেক্টর জমির গাছ মরে গেছে। সব সমস্যার পরেও যা ফলন হয়েছে তাতেও লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মিথেল হাওলাদার বলেন, ‘তরমুজ চাষে কখনও কপাল খোলে কখনও পথে বসতে হয়। তবুও আমরা থেমে থাকি না। এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি তবুও লাভের আশায় আছি। কিন্তু শুনেছি ঢাকায় তরমুজ কেজি হিসেবে বিক্রি হয়, দামও অনেক। তরমুজকে যদি মানুষের সাধ্যের বাইরে নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা তবে এর ওপর থেকে ভোক্তা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে বড় ক্ষতি হবে আমাদের। মাঠের তরমুজ নিয়ে পথে বসতে হবে আমাদের।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাঙ্গাবালীতে আসা আড়ৎদার ও তাদের প্রতিনিধিদের দাবি, তারা ঠিক দামে বিক্রি করলেও কারসাজি হয় খুচরা বাজারে। এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫-৩০ টন তরমুজ হয়ে থাকে। কৃষকরা তরমুজ পিস হিসাবে বা সমগ্র ক্ষেতের তরমুজ একত্রে বিক্রি করে দেয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় প্রতি কেজি তরমুজের দাম ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম কৃষক পায়। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে ক্রয়কৃত তরমুজ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকে। এর চাপ পড়ে ভোক্তাদের ওপর।’