বাউফল কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৪২৫ জন কৃষককে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় উপজেলা নির্বাচন অফিস মাঠে এ উপকরণ বিতরণ করা হয়।

আরো পড়ুন : বাউফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এইচএম সামীম, উপজেলা কৃষি অফিসার অনিরুদ্ধ দাস, উপজেলা উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. রেদাওয়ান তালুকদার, উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম এবং মো. মিলন হোসেন প্রমুখ।’

আরো পড়ুন : একসঙ্গে ৩ ছেলে সন্তানের জন্ম দিলেন গৃহবধূ



কলাপাড়াতে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ

পটু্য়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মহিপুর ইউনিয়নের বিপীনপুর গ্রাম। বছর পাঁচেক আগেও এ মৌসুমে এ গ্রামে প্রচুর পরিমাণে বোরো ধানসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ হতো। কিন্তু জমিতে লবণাক্ততা বাড়ায় বিগত দিনের তুলনায় কমে যায় ফলন। এতে অনেকটা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন কৃষক। পরে এই অবস্থার উত্তরণ ঘটান ১৫ জন কৃষক।
কৃষক খোকন সিকদারের নেতৃত্বে এই ১৫ জন কৃষক ২৮ বিঘা জমিতে চাষ করেন সূর্যমুখী ফুলের। বর্তমানে তাদের আবাদকৃত জমি ছেয়ে গেছে সূর্যমুখী ফুলের হলুদ আভায়। বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।

শুধু বিপীনপুরের কৃষকরাই নয় এই উপজেলার সহস্রাধিক কৃষক প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন সূর্যমুখী ফুলের। উপজেলা হিসেবে দেশের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে কলাপাড়ায়। আর এসব ফুলের বীজ দিয়ে ১০ লাখ টন ভোজ্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন।

মহিপুরের বিপীনপুর গ্রামের কৃষক খোকন সরদার জানান, ৫ বছর আগেও আমরা এখানে লাউ, শশা, সিম ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করতাম। কিন্তু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়ি। পরে আমরা কৃষকরা একত্রিত হয়ে সূর্যমূখী ফুলের আবাদ শুরু করি। গত বছরও করেছিলাম। আমাদের বেশ ভালো ফলন হয়েছে। আমরা অনেক খুশি। আমাদের বীজ ও সার দিয়ে সহায়তা করেছে ব্র্যাক।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ৫২৩ ডায়রিয়া রোগী

অপর কৃষক নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সাইদুল ইসলাম বলেন, জমিতে লবণের পরিমাণ বেড়েছে। তাই বোরো বাদ দিয়ে আমি একাই ১০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এখন তেলের দামটা ভালো পেলেই আমরা পুষিয়ে উঠতে পারবো।

কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, অনেক কৃষক দলবদ্ধভাবে অনেক বেশি জমিতে আবার অনেক কৃষক সীমিত পরিসরে কম জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করছে। আমাদের কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে অধিকাংশ স্থানেই বাম্পার ফলন হয়েছে। আর আমাদের উপজেলায় দেশের অন্যান্য উপজেলার চেয়ে সবচেয়ে বেশি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। আমরা ১০ লাখ টন ভোজ্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আশা করছি আগামী বছর এই এলাকায় আরো বেশি পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হবে।




ঢাকাসহ ৪ বিভাগে তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা




সূর্যমুখী চাষে সফলতার মুখ দেখছেন উপকূলের হাজারও কৃষক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল কলাপাড়া উপজেলার মাঠে প্রান্তরে এ যেন হলুদের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ বিলের পর বিল যেদিকে তাকাই সেদিকে শুধু হলুদ গালিচার মতো সূর্যমুখী খেত। কম খরচে অধিক ফলন ও লাভবান হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছে এ উপজেলার কৃষকরা। ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বিকল্প পদ্ধতি ও অধিক লাভের আশায় দিন দিন এটি চাষ বাড়ছে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় সূর্যমুখী খেত পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে উপকূলের হাজারও কৃষক। ভালো ফলন ঘরে তোলার আশায় পরিচর্যার কোনো কমতি নেই তাদের মাঝে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর মোট ১৯৫০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইসান-৩৩, বারি সূর্যমুখী-১ ও বারি সূর্যমুখী-২ জাতের ফুলের চাষ বেশি করেছে কৃষকরা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ১২’শ হেক্টর জমিতে এ ফুলের চাষ বেশি হয়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় কমবেশি এ সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে বলে কৃষি অফিস নিশ্চিত করেছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ধর্ষণের শিকার চতুর্থ শ্রেনী‌তে পড়ুয়া শিশু

কৃষকরা জানান, তাদের প্রতি বিঘা জমিতে ১৩ থেকে ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন ভালো হবে। এতে তারা সুর্যমূখীর বিচি প্রতি মণ ৩৫’শ টাকার ওপরে বিক্রি করতে পারবেন। তবে স্থানীয়ভাবে এ বীজ থেকে তৈল উৎপাদনের সুযোগ থাকলে আরও লাভবান হওয়া যেত বলে একাধিক সূর্যমুখী চাষিরা জানান।

লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়া পাড়া গ্রামের কৃষক সোহরাফ জানান, বর্তমানে তার খেতের ফলন খুব ভালো হয়েছে। শুরুতে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলেও কৃষি অফিসের পরামর্শে তা ঠিক হয়ে গেছে। এ বছর তিনি ১০ একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ফসল উঠলে পাঁচ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

কুয়াকাটা পৌরসভার তুলাতলী এলাকার কৃষক জয়নাল আকন বলেন, আমি এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর আমাদের সূর্যমুখী ফলন খুবই ভালো। সঠিকভাবে সার ওষুধ ও কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো ফলনের আশা করছি আমরা। তবে বৃষ্টি হলে আরও ভালো ফলন হতো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.চিন্ময় হাওলাদার বলেন, সূর্যমুখী ফুলের তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এ তেলের ব্যবহার বাড়ানো গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

আরো পড়ুন : ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে জঙ্গলে নিয়ে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, কৃষকদের আমরা বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক দিয়ে সহযোগিতা করেছি। কৃষকরা সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছে। গত বছর ৭২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হলেও এ বছর তা অনেক বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর উপজেলায় মোট ১৯৫০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। আমরা কৃষি প্রণোদনার আওতায় ২৪’শ কৃষককে ১ কেজি করে সূর্যমুখীর বীজ ও পর্যাপ্ত পরিমাণ সার দিয়েছি। আগামীতে আরও বেশি জমি এ চাষাবাদের আওতায় আনা হবে।




মিরসরাইয়ে লাউয়ের জোড়া ৮ টাকা!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কৃষকেরা প্রতি পিস লাউ ৪ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারছেন না। একজোড়া লাউ মাত্র ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই ক্ষোভে অনেক কৃষক লাউ গাছ কেটে ফেলেছে। বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে না পেরে বাজারে ফেলে যাচ্ছেন অনেকে। চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার কৃষকেরা।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার প্রায় ৩০০ একর জমিতে লাউ চাষ করা হয়। গ্রীষ্মকালীন সময়ে অনেক কৃষক লাউ চাষ করে বেশ লাভবান হলেও এবার রমজান মাস শুরু হওয়ায় লাউয়ের চাহিদা কমে যায়। এতে করে ভোক্তারা আগের মতো লাউ ক্রয় না করায় চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে চাষিদের।

জানা গেছে, লাউ চাষ করতে সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক, মাচা তৈরিসহ অনেকটা টাকা খরচ করতে হয়। প্রথম দিকে প্রতিপিস দেড়-দুই কেজি ওজনের একটি লাউ বিক্রি করেছেন ৪০-৪৫ টাকায়। মাঝামাঝি সময়ে বিক্রি করেছেন ২৫-৩৫ টাকা প্রতি পিস। শেষ সময়ে রমজান শুরুর সময় থেকে প্রতিপিস লাউ ৩-৫ টাকা বিক্রি করেছেন।

খৈয়াছড়া এলাকার কৃষক আকতার হোসেন, গত মঙ্গলবার জমি থেকে ১৫৫ পিস লাউ তুলেছিলেন। লাউ তুলতে শ্রমিক খরচ হয় ৩৫০ টাকা। বাড়ি থেকে বড়তাকিয়া বাজারে নিতে ভ্যানভাড়া খরচ হয়েছে ১৫০ টাকা। বাজারের হাসিল দিয়েছেন ৭০ টাকা। তার মোট খরচ হয়েছে ৫৭০ টাকা। আকতার বলেন, লাউয়ের মাচায় এখনো ৩০০ পিস লাউ ঝুলে আছে। এগুলো তুলে বিক্রি না করলে মাচা ভেঙে ক্ষতির মুখে পড়ব। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এত কম দামে লাউ বিক্রি হয়নি। এবার পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী কেউ লাউ কিনছে না। ফলে পানির দরে লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, এবার উপজেলায় ৩০০ একর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। মৌসুমে শুরুতে লাউয়ের দাম ভালো ছিল। শীত কমে যাওয়ার কারণে লাউয়ের চাহিদা কমে গেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে লাউয়ের উৎপাদন হয়েছে। তবে অন্যান্য জিনিসপত্রের যে দাম কৃষক সে তুলনায় এখন লাউয়ের একেবারে দাম পাচ্ছে না।




চৈত্রেও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া : কাল থেকে দেশব্যাপী দাবদাহ শুরুর সম্ভাবনা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মাঝ চৈত্র পেরুলেও প্রকৃতিতে তাপদগ্ধ নিদাঘের রুদ্ররূপ প্রকট হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের ষড়্ঋতুর চক্র এলোমেলো করে দিচ্ছে। কাঠফাটা তাতানো রোদ্দুরে মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির হওয়ার বদলে এখন মেঘলা আবহাওয়া, বৃষ্টিবাদল, সকালে কুয়াশা, দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা। শীতার্ত আমেজ ঘিরে আছে এখনো। এবছর আবহাওয়ার খেয়ালি আচরণে চৈত্র যেন পেয়েছে নতুন রূপ। সারা দেশে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ৩২-এর মধ্যে ওঠানামা করছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে বিরূপ আবহাওয়ার কবলে পড়েছে দেশ। গত কিছু দিন যাবত্ রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা কমছে। রাতের শেষ দিকে গায়ে জড়াতে হচ্ছে কাঁথা। আবার ভোর পেরিয়ে সকাল হতেই বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে। দুপুরের দিকে তাপমাত্রা বেশ উষ্ণ থাকছে, আবার বিকাল থেকে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাচ্ছে। রাজধানীর বাইরের পঞ্চগড়ে বর্তমানে ১৪ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। অর্থাত্ এখনো সেখানে শীতকালীন আবহাওয়া বিরাজ করছে। যদিও ঐ এলাকায়  এখন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকার কথা ৩২-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই পরিস্থিতির মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরো দুই দিন ঝড়-বৃষ্টি চলার পর গরম বাড়বে। আজ শনিবার রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। আর কাল রবিবার থেকে বাড়তে পারে দিন ও রাতের দুই সময়েই তাপমাত্রা। রবিবার থেকে তাপমাত্রা বেড়ে দেশের দুই-এক জায়গায় দাবদাহ হতে পারে। তবে এখনই তীব্র তাপের অসহনীয় অবস্থা হবে না।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, চৈত্র মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে। প্রতি বছরই সবসময় এটাই দেখা যায়। এখন সেই অবস্থার বদল দেখা যাচ্ছে। তাপমাত্রা বেশ কম। তিনি বলেন, গত কয়েক দিন উত্তরাঞ্চলের আবহাওয়া ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আছে। এপ্রিল মাসের ৫ থেকে ৭ তারিখের দিকে দাবদাহ বাড়বে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ শনিবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এছাড়া আগামীকাল রবিবার ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।




পটুয়াখালীতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপজেলার টিয়াখালীতে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় সূর্যমুখী চাষ ও বাজারজাতকরন বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মার্চ) বেলা বারোটায় পশ্চিম টিয়াখালী গ্রামে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করে আর্ন্তজার্তিক ধান ইনস্টিউট (ইরি)।

ইরি’র এআরডিও (এগ্রিকালচারাল রিচার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট অফিসার) মানিক দেবনাথ সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিধি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি গবেষনা ইনস্টিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খাইরুল বাশার।

আরো পড়ুন : চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য

বক্তারা, গুনগত ও মানসম্পন্ন তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোসহ পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনার পরামর্শ দেন। স্বল্প মেয়াদী ধান চাষের পাশাপাশি তেল জাতীয় ফসল সূর্যমুখী, বাদাম, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য উসাহিত করেন।

এসময় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল প্রদর্শনসহ ফসল চাষের আর্থিক সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন।, ফসল চাষে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উত্তর ঠিয়াখালী গ্রামের কৃষক জামাল হাওলাদার বলেন, আমন ধানের পরে এসব জমি পতিত পড়ে থাকত। ইরির পরামর্শ ও সহযোগিতায় সেই জমিতে বাদাম, সরিষা, আলু চাষ করেছি। এখন সূর্যমুখী ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায়।

একই গ্রামের কৃষক খলিল মৃধা, সাইফুল ইসলাম বলেন, ধান চাষ করে সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরাতো। এখন বারো মাস সবজি চাষে আর্থিক সাবলম্বীতা ফিরে পাচ্ছি।

আরো পড়ুন : বাউফলে পুরোনো মরিচা পড়া লোহা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

আর্ন্তজার্তিক ধান ইনস্টিউট (ইরি) এগ্রিকালচারাল রিচার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট অফিসার) মানিক দেবনাথ বলেন, পটুয়াখালী জেলার মাঠিতে লবনাক্ততা বেশি। তাই ফসলের সঠিক জাত ও সময় নির্বাচন করে কৃষকদের চাষের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এরমাধ্যমে এক ফসলী এসব জি কে চার ফসলে রূপান্তর করা হচ্ছে।




বেগুন চাষে কৃষকের বাজিমাত ভোলার মফিজ

বরিশাল অফিস:: ভোলার লালমোহন উপজেলায় বেগুন চাষে আশানুরূপ ফলন পেয়ে খুশি মো. মফিজ নামে এক কৃষক। উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের পাঙাশিয়া এলাকায় ১৭৬ শতাংশ জমিতে এ বছর জমি লিজ নিয়ে তৃপ্তি জাতের বেগুন চাষ করেছেন তিনি। বাজারে এ জাতের বেগুনের চাহিদা থাকায় লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বেগুন চাষি কৃষক মো. মফিজের। তার ক্ষেতের গাছগুলো এখন বেগুনে পরিপূর্ণ।

বেগুন চাষি মফিজ জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে আমি কৃষি চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। গত কয়েক বছর ধরে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি মৌসুমে বেগুনের চাষ করছি। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ক্ষেতে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ক্ষেতের গাছগুলোতে বর্তমানে ব্যাপক পরিমাণে বেগুন রয়েছে। গত ১০ দিন আগ থেকে বেগুন তোলা শুরু করেছি। এরইমধ্যে ক্ষেত থেকে তিনবার বেগুন তুলেছি। এসব বেগুন লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন আড়তে পাইকারি বিক্রি করি। বর্তমানে বেগুনের বাজার দর কিছুটা কম। তবুও গড়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে আড়তে এসব বেগুন বিক্রি করছি।

তিনি আরো জানান, আগামী দেড় মাসের মতো ক্ষেতে ফলন থাকবে। আশা করছি ক্ষেতের সব ফসল সাড়ে চার লাখ টাকার মতো বিক্রি করতে পারবো। তবে ক্ষেতের সব ফসল বিক্রি করা পর্যন্ত অন্তত সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো খরচ হবে। খরচের মধ্যে রয়েছে- জমি লিজ, জমি প্রস্তুত, কীটনাশক ও শ্রমিকসহ অন্যান্য ব্যয়। এ বছর বাজারে বেগুনের দাম কিছুটা কম। দাম আরেকটু বেশি হলে অধিক লাভবান হতে পারতাম। তারপরও ক্ষেতের সব ফসল বিক্রি শেষে যা লাভ হবে তা নিয়েই খুশি থাকবো।

পাঙাশিয়া এলাকার সুমন ও তপন অধিকারী নামে অন্য দুই কৃষক বলেন, আমাদের এলাকায় কৃষকরা বেগুন চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছে মফিজ মিয়ার। তার ক্ষেতে অনেক ফলন রয়েছে। বাজারে দাম একটু কম হলেও মফিজ মিয়া তার ক্ষেতের বেগুন বিক্রি করে মোটামুটি ভালোই লাভবান হবেন। আগামীতে আমরাও বেগুন চাষের কথা ভাবছি। কারণ ঠিকমতো পরিচর্যা করলে বেগুনের অনেক ভালো ফলন পাওয়া যায়। আর বাজারেও বেগুনের চাহিদা থাকে।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা টুটুল চন্দ্র সাহা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা প্রত্যেক কৃষকের খোঁজ-খবর রাখার চেষ্টা করি। আমরা চাই কৃষকরা যেন চাষাবাদ করে কোনোভাবে ক্ষতির সম্মুখীন না হন। এছাড়া কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা কৃষকদের নতুন বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। এ জন্য তাদের পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি। লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় কৃষকদের সফলতার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।




বরিশালে সরিষা ফুলের মধুতে লাভবান চাষিরা

বরিশাল অফিস:: মাঠের পর মাঠ সরিষা ক্ষেত। মধু চাষিরাও ব্যস্ত ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহে। বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রায় সব ফসলের মাঠেই দেখা গেছে এমন চিত্র। এসব মাঠ থেকে মধু চাষিরা খাঁচা পদ্ধতিতে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এতে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে সরিষা চাষি ও মৌচাষি দুজনেই।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু চাষের কারণে পরাগায়ন ঘটছে ফসলের। এতে সরিষারও ফলন ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ লাভজনক ব্যবসা হিসেবে দেখা দিয়েছে। মধু বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এ বছরই জেলায় প্রথম এত বড় পরিসরে সরিষা আবাদ হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করছেন এক খামারি। টাঙ্গাইল জেলা থেকে খবর পেয়ে সরিষা ক্ষেতের পাশে করেছেন মধু সংগ্রহের খামার।

টাঙ্গাইল থেকে আসা মধু চাষি মো. আয়নাল হক  বলেন, ‘১০৫টি বাক্সে ৮ শতাধিক চাক বসিয়েছি। এখান থেকে এরই মধ্যে ১৫ দিনে ৭ মণ মধু আহরণ করেছি। বাকি সময়টাতে আরও ৫ মণ মধু আহরণের আশা করছি। প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। স্থানীয়রা ও আশপাশের এলাকার লোকজন সরাসরি ক্ষেত থেকে মধু কিনে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদা মিটিয়ে এই মধু দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছি।’

মধু কিনতে আসা সাব্বির বলেন, ‘এভাবে কখনো মধু আহরণ দেখিনি। সরাসরি মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে মেশিনের মাধ্যমে তা প্রস্তুত করে দিচ্ছেন। এখানে ভেজালের কোনো সুযোগ নেই। তাই নিজের চোখে দেখে মধু কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

আরেক ক্রেতা জুবায়ের বলেন, ‘সরাসরি ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা মধু নিচ্ছি। এখানে কোনো ভেজাল করার মতো কিছু নেই। সবকিছু চোখের সামনেই দেখছি। তাই নির্দ্বিধায় কিনে নিচ্ছি। এছাড়া দামও অন্যান্য জায়গার তুলনায় কম।’

উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের কৃষক এনায়েত করিম বলেন, ‘শুধু এই গ্রাম নয়, উপজেলার সব গ্রামেই শত একর জমিতে হলুদের সমারোহ। আবাদ ভালো দেখে মাঠের পর মাঠ সরিষার আবাদ। কোনো মাঠে হলুদ ফুলে ভরে গেছে আবার কোনোটায় সরিষার দানা চলে এসেছে। ক্ষেতের পাশেই মধু চাষের কারণে প্রতিবারের চেয়ে এবার ২০ শতাংশ ফলন বেশি হয়েছে।’

আরেক কৃষক টিটু বলেন, ‘এবার পুরো মাঠজুড়ে বিনা সরিষা-১১ আবাদ করেছেন। প্রতি বছর এর আবাদ সীমিত হলেও এ বছর বিনা সরিষা-১১ এর ফলন আশা জাগিয়েছে লাভবান হওয়ার। তাছাড়া এ বছর ক্ষেতের পাশেই মধু চাষ শুরু করায় ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। অল্প জীবনকালের এই সরিষা আবাদে খুশি কৃষকরা।’

বরিশাল বিনা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন বলেন, ‘মৌমাছি বসন্তের সময়টুকুতে ফুলের মৌ-রস সংগ্রহ করতে গিয়ে পরাগায়ন ঘটায়। এতে আবাদ যেমন বেড়েছে, তেমনই অর্থনৈতিকভাবে দুজনই লাভবান হচ্ছেন। জেলায় এ বছর ৫০০ হেক্টর জমিতে বিনা সরিষা-১১ এর আবাদ হয়েছে। প্রতি একরে ১৫-১৬ মণ সরিষা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।




টকটকে লাল ও সুস্বাদু রাঙ্গাবালীর ‘রাঙা তরমুজ’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

তরমুজের নগরী খ্যাত পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালীর রাঙা তরমুজের কদর দেশের সব জায়গাতেই। তাই, প্রতিদিন ক্ষেত থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এখানকার ‘রাঙা তরমুজ’ টকটকে লাল ও অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এখানকার তরমুজের সুনাম দেশেজুড়ে।

রাঙ্গাবালীর এক তরমুজ মাঠে সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠ ভরা শুধু তরমুজ আর তরমুজ। মাঠের পর মাঠজুড়ে তরমুজ ক্ষেত। দেখতে পাওয়া যায়, কৃষকরা ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে স্তূপ করে রাখছেন ক্ষেতের বা পার্শ্ববর্তী সড়কের পাশে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে ভিড় করছেন সেখানে। তারা তরমুজ কিনছেন। সেই তরমুজ তারা লঞ্চ, ট্রলার, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলায় কিংবা রাজধানী শহর ঢাকায়। রাঙ্গাবালীতে তরমুজকে ঘিরে চলছে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ।
রবি মৌসুমের এ ফসলটির চাহিদা দেশের সর্বত্র। তরমুজ চাষ লাভজনক হওয়ায় চাষিদের মধ্যে আগ্রহও বেড়েছে। পটুয়াখালীর এ উপজেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে তরমুজ চাষ। এবার ফলন কম হলেও দাম ভালো পাওয়ায় পরিপক্ব হওয়ার আগেই বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তরমুজ।

চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে তরমুজের চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় ছোট তরমুজ বাজারজাত করছেন চাষিরা। এতে ফলন কিছুটা কমে যাচ্ছে এবং বাজারে তরমুজের দামও কমছে।

তরমুজ চাষি ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, প্রথম দিকে তরমুজের দাম খুবই ভালো ছিল।
এ বছর তরমুজের দাম ভালো। তবে ফলন ভালো হয়নি। যে কারণে তরমুজ চাষিদের আশানুরূপ লাভ হবে না।
তিনি আরো বলেন, কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ পেলে রাঙ্গাবালীতে তরমুজের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

আড়ৎদাররা বলেন, রাঙ্গা তরমুজের সুনাম রয়েছে সারা দেশে। কিন্তু বেশি দামের আশায় প্রধান মৌসুমের আগেই বাজারে উঠে আসছে অপরিপক্ব তরমুজ।

উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল বলেন, তরমুজ পরিপক্ব হওয়ার আগেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তরমুজ বাজারজাত শুরু করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, রাঙ্গাবালী কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।

আরো পড়ুন : ২ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি