বরিশালে হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে খামারের মুরগি

বরিশাল অফিস:: বৈশাখের তাপদাহে গত কয়েক দিনে হিটস্ট্রোকে বরিশাল জেলার ১ হাজার ৬০৮টি পোল্ট্রি খামারে ৫ সহস্রাধিক ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালী মুরগি মারা গেছে।

বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন পোল্ট্রি খামার মালিকদের সংগঠনের নেতা কালাম শিকদার। এ কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খামারিরা।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী চলতি মাসের গত সাত দিনে বরিশালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। এ কারণে বরিশাল জেলার ৬১৭টি ব্রয়লার মুরগির খামার, লেয়ার মুরগির ৫৩৫টি, সোনালী মুরগির ৪৫৬টি খামারের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে হিটস্ট্রোকে বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন খামারে ৫ সহস্রাধিক মুরগি মারা গেছে। এর মধ্যে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার মোস্তফা পোল্ট্রি ফিডের ৫০০ মুরগি, সিকদার পোল্ট্রি ফিডের ২০০, শহিদ পোল্ট্রি ফিডের ১০০ মুরগিসহ জেলার বিভিন্ন খামারে হিটস্ট্রোকে মুরগি মারা গেছে। তবে খুচরা ও পাইকারী বাজারে মুরগির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু ক্রেতা কম।

নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার খামারী মোস্তফা জানান, প্রচণ্ড গরমে তারসহ আশপাশের খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে হিটস্ট্রোকে ৫০০ মুরগি মারা গেছে। যে মুরগিগুলো বেঁচে রয়েছে তাও অসুস্থ।

বরিশাল বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের পরিচালক ডা. আবু সুফিয়ান বলেন, বরিশালের সব মাঠ কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা খামারীদের বার বার পানি স্প্রে ও চট ভিজিয়ে ফ্লোরে দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। গরমে মুরগি মৃত্যুর খবর তিনি অবগত নন বলে জানান তিনি।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক বশির আহমেদ জানিয়েছেন, চলতি মাসে তাপমাত্রা হ্রাসের সম্ভাবনা নেই। মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে কিছু সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমতে পারে।




সংরক্ষণের অভাবে পচে যায় দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক শ কোটি টাকার তরমুজ

বরিশাল অফিস :: পাঁচ হাজার পিস তরমুজ নিয়ে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে বরিশালে আসেন চাষি লোকমান সরকার। পথেই ৬০০ পিস তরমুজ নষ্ট হয়ে যায়। বাকি তরমুজও সময়মতো বিক্রি করতে হবে। নাহলে সেগুলো নষ্ট হওয়ার শঙ্কা আছে। আর বাজারে তরমুজের দামের উত্থান-পতনে নিজেদের লাভ লোকসান নির্ভর করে। লোকমান সরকার বলছিলেন, যখন বাজারে তরমুজের দাম বেশি থাকে তখন এর বেশিরভাগ লাভই করেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। আর যখন একবারে দাম তলানিতে চলে যায় তখন তাদের পথে বসতে হয়। মিনিমাম সাপোর্টিং মূল্যে না পাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন তার মতো হাজারো তরমুজ চাষি।

দেশের দুই তৃতীয়াংশ তরমুজ দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদন হয়। বাজারে এর চাহিদা থাকে দুই মাসের মতো। এরমধ্যেই কৃষকের তরমুজ বিক্রি করতে হয়। এরপর তরমুজের সংরক্ষণ সুবিধা না থাকার কারণে প্রতিবছর অনেক তরমুজ নষ্ট হয়ে যায়।

বরিশাল নগরীর নাজিরের পুলের ঢালে তরমুজ বিক্রি করেন সুনীল। সাধারণত ফলের ব্যবসায় সারা বছর থাকলেও মৌসুমে তরমুজ কিনে বিক্রি করেন তিনি। রমজানের শেষদিকে ভালো দাম পাবেন ভেবে ৩০০ পিস তরমুজ কিনেছিলেন আড়ত থেকে। এর মধ্যে ৪৫টি তরমুজ পচে যায়। তিনি বলেন, আমরা ছোট ব্যবসায়ী, অল্প পুঁজিতে ব্যবসা করি। তরমুজ অতিরিক্ত পরিপক্ব হলেও পচে, আবার গাছ থেকে তোলার পর বেশিদিন রাখলেও পচে যায়। মৌসুমে চাহিদা থাকার কারণে ঝুঁকি নিয়েই তরমুজ ব্যবসা করি।

চাষি লোকমান সরকার কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুনীল শুধু নয় বরিশাল বিভাগের দশ লাখের বেশি মানুষ তরমুজ সংশ্লিষ্ট বাজার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মধ্যস্বত্ত্বভোগী ছাড়া প্রায় সকলেই এই ব্যবসায় লোকসানের ঝুঁকিতে থাকেন।

বাম্পার ফলনেও সুফল মিলছে না : বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয় পটুয়াখালী ও ভোলা জেলায়। মূলত নদীর পলিতে জেগে ওঠা জমিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তথ্যমতে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৪৬ হাজার ৪৫১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ৬৪ হাজার ১৮৩ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছিল। সে বছর বিভিন্ন জেলার শত শত চাষি তাদের তরমুজ বরিশাল পোর্ট রোড মোকামে এনে দাম না পেয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন। যার কারণে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আবাদ হয়েছে ৪৬ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে আবাদ কমলেও তরমুজের বাজার দর ভালো।

ভোলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের তরমুজ চাষি ইসমাইল মীর বলেন, গত বছর ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে পানিতে ডুবে লোকসানে পড়তে হয়। সেবার পানির দাম দিয়েও ক্রেতা পাইনি। খুচরা বাজারে যে তরমুজটি বিক্রি হয়েছে দেড় থেকে দুইশ টাকায়, আমরা সেটি ৫০/৬০ টাকাও বিক্রি করতে পারিনি।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চর লড়াইপুরের বাসিন্দা মিলন মাঝি বলেন, গত বছর লোকসান হওয়ায় এবার তরমুজ চাষ কমিয়ে দিয়েছি। তবে এবার বাজার দর ভালো আছে। গত বছরের লোকসানের ক্ষতি হয়ত কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারব। কিন্তু বাজারের এমন উত্থান-পতনের কারণে কৃষক বেশিরভাগ সময় লোকসানে পড়েন।

দুইমাসে ১০০০ কোটি টাকার বাজার:

গ্রীষ্ম ঋতুকে ঘিরে তরমুজের মৌসুম হওয়ায় ৬০/৬১ দিন তরমুজ বাজারে পাওয়া যায়। এ সময়ে বরিশাল বিভাগ থেকে সারাদেশে তরমুজ চালান হয়। সারাদেশের তরমুজ ব্যবসায়ীরা এসে ভিড় করেন এই অঞ্চলের কৃষকের বাড়ি, স্থানীয় বাজারেও আড়তে। পিস হিসেবে কিনে নিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তা বিক্রি করেন বিভিন্ন এলাকায়। তরমুজের বাজার মনিটরিং করে থাকে বাংলাদেশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় অফিস। প্রতি সপ্তাহে এই অধিদপ্তরটি বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে।

বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে ৯৫৩ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। সে বছর তরমুজের কেজি ধরা হয় ৩৫/৪০ টাকায়। চলতি (২০২৩-২০২৪) অর্থবছরে এখন পর্যন্ত চাষের ৫২ শতাংশ বাজারজাত হওয়ায় ৪৭১ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া না হলে শেষ সময়ে বাকি ৪৮ শতাংশ তরমুজ ৫৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করবে। এ মৌসুমে তরমুজের বাজারমূল্যে বিবেচনা করা হচ্ছে ৫৫/৬০ টাকা কেজি।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক এসএম মাহবুব আলম বলেন, চলতি মৌসুমে বিভাগের ছয় জেলায় কমপক্ষে ১০০০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের মাটির উর্বরতা, আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় তরমুজ সম্ভাবনাময় ফসল। বিশেষ করে ভোলা ও পটুয়াখালী জেলায় প্রচুর তরমুজ হয়। কিন্তু তরমুজের বাজার সংক্ষিপ্ত হওয়ায় সংরক্ষণের অভাবে এর সঠিক বাজারমূল্য পান না কৃষক।

সংরক্ষণাগার উদ্ভাবনের দাবি: পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমরান বলেন, পাঁচ লাখ টাকার তরমুজের চালান এনেছিলাম বরিশালে। আমার আড়াই লাখ টাকার তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। তরমুজ সংরক্ষণের যদি ব্যবস্থা থাকত তাহলে দুইমাসের মধ্যে বাধ্যতামূলক তরমুজ বিক্রি করতে হতো না। সারা বছর হিমাগারে রেখে বিক্রি করতে পারতাম।

তিনি বলেন, সংরক্ষণের কোনো পদ্ধতি আবিষ্কার না হওয়ায় প্রতি বছর কয়েক শ কোটি টাকার লোকসান হয় তরমুজ চাষিদের।

দশমিনার চাষি লোকমান সরকার বলেন, বিভাগে যদি ১০ লাখ চাষি থাকেন তাহলে সেই ১০ লাখ চাষি প্রতি বছর শত কোটি টাকার লোকসানে থাকেন। সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থা থাকলে তরমুজের বাজার এত অস্থির হতো না। কৃষকের সুবিধামতো সারাবছর বিক্রি করতে পারতেন। এতে ক্রেতাও যেমন সারা বছর তরমুজ খেতে পারতেন, চাষিরাও বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে পারতো পর্যায়ক্রমে।

তিনি বলেন, আলু নিয়েও কিন্তু একসময়ে এমন পরিস্থিতি ছিল। এরপরে কোল্ডস্টোরেজ এলো। এখন সারাবছর আলু খাওয়া যাচ্ছে। তেমনি তরমুজ কোন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা যায় তা নিয়ে কাজ করা উচিত। সরকার এই বিষয়টিতে নজর দিলে কৃষক বাঁচবে।

যা বলছে কর্তৃপক্ষ:: আবহাওয়ার প্রতিকূলতা, তরমুজ গাছে রোগের সংক্রমণ ও একই জমিতে প্রতি বছর তরমুজ চাষ করায় উর্বরতা নষ্ট হয়ে গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে ফলন কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ শওকত ওসমান। তিনি বলেন, এটা স্বীকার করতেই হবে অন্য ফসলের তুলনায় দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজ চাষ লাভজনক এবং অতি উচ্চমূল্যের ফসল। বাজার চাহিদা ও মূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা অতি সহজে লাভবান হতে পারে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভালো ফলন করেও কৃষক তার উৎপাদিত ফসল সরাসরি বাজারে বিক্রি করতে পারছে না। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকের চেয়ে বেশি লাভ নিয়ে নিচ্ছে তারা। এ ছাড়া তরমুজের প্রক্রিয়াজাতকরণ কিংবা সংরক্ষণের কোনো পদ্ধতি এই অঞ্চলে এখনো গড়ে ওঠেনি। এজন্য খুবই সম্ভাবনাময় ফসল তরমুজে লোকসান হচ্ছে কৃষকের। সরকার চাইছে তরমুজের কিছু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠুক।

তিনি বলেন, তরমুজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে কৃষক বাধ্য হয়ে লোকসানে তরমুজ বিক্রি করতেন না। তরমুজসহ এ অঞ্চলে উৎপাদিত যে ফসলগুলো মৌসুমে চড়ামূল্য থাকে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। সংরক্ষণ ব্যবস্থা হলে সকল সংকটের সমাধান হবে।




গলাচিপায় মাঠে মাঠে হলুদ সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দূর থেকে দেখলে মনে হয় হলুদের গালিছা বিছানো। কাছে গেলে দেখা যায় বাতাসে দোল খাওয়া সূর্যমুখী ফুলের হাসি। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার মাঠে মাঠে এখন সূর্যমুখীর ফুলের হাসি। ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকের মুখেও হাসি ফুটে উঠছে।

এবার গলাচিপা উপজেলার আমখোলা, গোলখালী, সদর ইউনিয়ন, পানপট্টি, ডাকুয়া, বকুলবাড়িয়া, কলাগাছিয়া, গজালিয়া, রতনদী তালতলী, চর বিশ্বাস ও চরকাজলসহ ১২টি ইউনিয়নে ১২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। এখান থেকে এবার প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মেট্রিক টন সূর্যমুখী বীজের ফলন পাওয়া যাবে।

আরো পড়ুন : ২ ঘণ্টা পর ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে যান চলাচল শুরু

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আওতায় তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পে হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে এ উপজেলায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সূর্যমুখীর ফলনও ভালো হযেছে। তেল জাতীয় অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীর চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

গলাচিপা সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের কাউয়ুম চৌকিদার জানান, তিনি ৩৩ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে এক কেজি বীজ এবং ২০ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি জিপসাম, তিন কেজি ম্যাট সার, ২৫ কেজি ড্যাব সার সরবারহ করেছে। এ ছাড়া জমি চাষাবাদ বাবদ তিন হাজার ৫০০ টাকা এবং সেচ বাবদ ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে তার।

গলাচিপা পৌরসভার ঝন্টু দেবনাথ জানান, রতনদী গ্রামে ১২০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন তিনি। জলবায়ু সহনশীল বীজ, ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ, জিংক, দস্তা ও বোরন সার সরবরাহ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে।

গলাচিপা সদর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় ৫-৬ হাজার টাকা। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করা যায় ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। বীজ রোপণের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। এবার আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় সূর্যমুখীর ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এই ফসলের রোগবালাই কম এবং সূর্যমুখীর খৈল গরুর জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য।

আরো পড়ুন : বৈশাখী মেলায় নৌকা ভেঙে ৫ শিশু-কিশোর আহত

ডাকুয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাহিদ হাসান বলেন, তেল জাতীয় ফসলের আবাদ বৃদ্ধির জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে আসছি।

গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার জানান, সূর্যমুখী থেকে পাওয়া তৈল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বাংলাদেশ সরকার কৃষকদেরকে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করতে বীজ ও সার বিনামূল্যে সরবরাহ করছে। আমাদের ধারণা, তেল জাতীয় ফসল সূর্যমুখীর চাষ কৃষকেরকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।




বরিশালে প্রণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী মেলার উদ্ধোধন

বরিশাল অফিস :: প্রাণিসম্পদে ভরবো গড়বো স্মাট বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিভাগীয় শহর বরিশালে দেশব্যাপি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে দিনব্যাপি প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী মেলার উদ্ধোধন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮) এপ্রিল সকাল ১১ টায় নগরীর নবগ্রাম রোডস্থ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর চত্বরে বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসন সহ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও বরিশাল ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে ও প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প
(এলডিপি) প্রাণিসম্পদ মন্ত্রালয়ের সহযোগীতায় এই প্রাণিসম্পদ সেবা ও প্রদর্শনীর উদ্ধোধন করা হয়।


বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদারের সভাপতিত্বে উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বরিশাল উপ-
পরিচালক ও উপ-সচিব গৌতম বাড়ৈ। এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রইম এন্ড অপর্স মেহেদী হাসান, বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ড.নুরুল আলম, বরিশাল জেলা প্লোটি ফার্মার ডেইরি এসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ সৌরব ঘোষ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বরিশাল সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস।

এ সময় প্রধান অতিথি উপ- সচিব গৌতম বাড়ৈ বলেন,আমরা কৃষি সম্পদ নির্ভরশীল একটি দেশে উন্নতিশিল অর্জন হলেও প্রাণিসম্পদকে বাদ দিয়ে কোন ভাবেই উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন,আমরা এখন আর সেই তলাবিহীন ঝুড়ির দেশের মানুষ বলা যাবে না। আমাদের দেশের ঝুড়ির তলা এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষ দেশ পরিচালনায় সু-রক্ষিত। এসময় তিনি আরো বলেন আমাদের শুধু প্যান্ট,সাট ও সাজগোছ করেই স্মাট হলে চলবে না। আমাদেরকে স্মাট বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকল কাজের জ্ঞান অর্জন করার মাধ্যমে স্মাট বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

এর আগে কেন্দ্রীয়ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপি প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করার অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি সহ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের সদস্য এবং বিভিন্ন খামারি উপভোগ করেন। পরে অতিথিরা অংশ গ্রহনকারীদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

প্রদর্শনী মেলায় দেশ-বিদেশের পাখি ও উন্নত জাতের গবাদী প্রাণি,এবং বিভিন্ন মেডিসিন কোম্পাণির ৩৫টি স্টল অংশ গ্রহন করে। বিকালে ২য় অধিবেশনে প্রদর্শনী মেলায় অংশ গ্রহনকারী শেষ্ট স্টল প্রদর্শনীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করা হয়।

 

 




তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : তীব্র গরমে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জনজীবন যখন অস্থির হয়ে উঠেছে, তখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কিছু জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসলেও সেটি খুব বেশি স্থায়ী হবে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

গত কয়েক বছর যাবত দেখা যাচ্ছে, বৈশাখ মাসের এই সময়টিতে তাপমাত্রা এ রকম থাকে এবং এবারো সেটির ব্যতিক্রম হয়নি।

এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে উদ্বেগও বাড়ছে। সাধারণত দেখা যায়, গরম বাড়লে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়।

এমন অবস্থায় আবহাওয়া অধিদফতর যে পূর্বাভাস দিচ্ছে সেটি গরম নিয়ে দুশ্চিন্তা আরো বাড়িয়ে তুলছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, আগামী ২০ এপ্রিলের পরে গরমের তীব্রতা আরো বৃদ্ধির পূর্বাভাস করা হচ্ছে।

‘আগামী ২০ তারিখের পর বিভিন্ন জায়গায় গরমের ব্যাপ্তি আরো বাড়বে,’ আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

দেশের কিছু জায়গায় ইতোমধ্যে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব জায়গা হচ্ছে – রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গা।

আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে, মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা থাকে ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং মাঝারি তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা থাকে ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপ প্রবাহের তেমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছে না আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেছেন, কয়েকদিন পরে ময়মনসিংহ, সিলেট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে তাতে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘যে বৃষ্টিপাত হবে তাতে গরমের তীব্রতা কমবে না। গরমের তীব্রতা কমে আসার জন্য যে ধরনের বৃষ্টিপাত প্রয়োজন সেটির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না,’ বলেন তিনি।

আজ (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, গত বছরের ১৬ এপ্রিল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। তখন তাপমাত্রা ছাড়িয়েছিল ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী সপ্তাহ নাগাদ ঢাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

ছবি ও কনটেন্ট বিবিসি বাংলার সৌজন্যে। 




৫৪ জেলায় বইছে দাবদাহ হাঁসফাঁস জনজীবন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পয়লা বৈশাখ থেকে প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সারা দেশের জনজীবন। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের। রাজধানীসহ দেশের ৫৪ জেলায় বইছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। গরমের দাপটে নাভিশ্বাস অবস্থা। বয়ে যাওয়া তীব্র তাপদগ্ধের কারণে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে তাদের রাস্তায় বের হয়ে কাজ করতে চরম কষ্ট হচ্ছে। এই বৈশাখ জুড়ে টানা গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, চড়তে থাকবে তাপমাত্রা, বাড়বে আরও গরম। ২০২৩ সাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের উষ্ণতম বছর। গত বছরের সেই উষ্ণতা এবার ছাড়িয়ে যাবে। এবার পুরো মৌসুমে তাপমাত্রা বেশি থাকবে। এর মধ্যে এই এপ্রিলে গরমের তীব্রতা পৌঁছাতে পারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহের তীব্রতা গতকাল সোমবার আরো বেড়েছে। থার্মোমিটারের পারদ বলছে, তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন রোববার (১৪ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল রাঙামাটিতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিন ছিল ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাস্পের পরিমাণ বেশি হওয়ায় গরমে অস্বস্তি আরও বাড়ছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এ বছর তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসকে বছরের উষ্ণতম সময় ধরা হয়। এর মধ্যে এপ্রিল মাসেই সাধারণত তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাশয় ভরাট করা, এসির অত্যধিক ব্যবহারের কারণে রাজধানীর তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের গত কয়েক দিনের পূর্বাভাসের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে এখন বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এর কারণ বাংলাদেশের ওই অঞ্চলের দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তর প্রদেশ ইত্যাদি রাজ্যের অবস্থান। কিন্তু এসব প্রদেশের তাপমাত্রা অনেক বেশি। এসব জায়গায় বছরের এই সময়ে তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, গত বছর ভারতের ঐ সব অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেহেতু ওগুলো উত্তপ্ত অঞ্চল, তাই ওখানকার গরম বাতাস চুয়াডাঙ্গা, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং তা আমাদের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিগত বছরের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এটা প্রতীয়মান হচ্ছে, ২০২৪ সাল উত্তপ্ত বছর হিসেবে যাবে। আমরা এ বছর তাপপ্রবাহের দিন ও হার বেশি পেতে যাচ্ছি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা যদি ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে। ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর অতি প্রচণ্ড হয় ৪২ ডিগ্রি বা এর বেশি হলে। বর্তমানে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে।




চাঁদ দেখা যায়নি সৌদিতে, ঈদ বুধবার




শেষ দিকে ক্ষতির মুখে বাউফলের তরমুজ চাষিরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: রমজানের প্রথমে বাজার দর ভালো পেতে আগে ভাগে অপরিপক্ব পাকা, আধা পাকা তরমুজ বাজারজাত করছে চাষিরা। রমজানে তরমুজের চাহিদা বাড়ায় তরমুজের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তরমুজের দাম ক্রয় ক্ষমতার নাগালে না আসা পর্যন্ত তরমুজ বয়কটের ডাক দেন ভোক্তারা।  ব্যাপক সাড়াও মেলে তাতে। ফলে তরমুজের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজার দর পড়ে যায়। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ শতাধিক তরমুজ চাষি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের তুলনায় তরমুজের আবাদ বেড়েছে পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রদ্বীপের চরকচ্ছবিয়া, চরওয়াডেল, রায়সাহেবে, চরঈশান, মমিনপুর, বাসুদেবপাশা, চরশৌলাসহ বিভিন্ন চরে।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

কালাইয়া শৌলা চরে প্রায় ১৮ একর জমি লিজ নিয়ে করা তরমুজ চাষি শৌলা গ্রামের বাদল গাজী (৩০) জানান, এবার ১৮ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। ক্ষেত তৈরি, বীজ, সার-ওষুধ, বছর হিসেবে জমি কেনা, পরিবহনসহ আগের তুলনায় সবকিছুর দাম বেড়েছে হু-হু করে। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮ একর জমিতে তরমুজ চাষে আমার ২০ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত তরমুজ বিক্রি হয়েছে ১২-১৩ লাখ টাকার মতো। মাঠে যা আছে তাতে আরো ২-১ লাখ টাকা হাতে পেতে পারি। সবমিলিয়ে আমার ৫ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এখনকার উৎপাদিত তরমুজ চলে যায় রাজশাহী, বগুড়া, ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ এলাকায়। ওখানের নিয়মানুযায়ী আমার ক্ষেতের ১০-১২ কেজি ওজনের তরমুজ কেজি হিসেবে ৫০-৬০ টাকা দরে, মধ্যম মানের ৮-১০ কেজি ওজনের তরমুজ কেজি হিসেবে ৩০-৩৫ টাকা ও ছোট মানের তরমুজ ১৮-২৫ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি শুরু হইছিল। অন্যান্য এলাকার আড়তে দেড়শ’ থেকে ২শ’ টাকা পিস হিসেবেও বিক্রি হয়।

চাষিদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফাখোরি মানসিকতা বদলাতে হবে। দাম চড়িয়ে ভোক্তাদেরও বঞ্চিত করা যাবে না। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা বাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছেন। কৃষিতে একমাত্র তরমুজ চাষেরই দায়ভার সরকার নেয় না। দুঃসময়ে চাষিদের পাশে থাকতে হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় মোট ৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে ৩৮৯ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস বলেন, চাষিরা বেশি লাভের আশায় পরিপক্ব তরমুজ বাজারজাত করেছে। এতে ভোক্তারা তরমুজের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্রেতা কমে গেছে। ফলে তরমুজের চাহিদা কমে যায়। এ কারণে দামও কমে যাওয়ায় চাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা সবসময়ই চাষিদের খোঁজখবর নিচ্ছে।




তাপপ্রবাহ অব্যাহত আজো ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা বাড়বে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : তাপপ্রবাহ অব্যাহত আছে। আজো দেশব্যাপী ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং দেশব্যাপী তাপ প্রবাহের আওতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া বসন্তের এই শেষ সময়ে সূর্য কিরণ খাড়াভাবে পড়ায় এবং তাপের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে ঝড়, তুফান, বজ্রসহ ঝড়, শিলাবৃষ্টি অন্যতম। একটু ঘন ঘন বৃষ্টি হচ্ছে বলে বাতাসে বাড়ছে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ।

আবহাওয়া অফিস বলছে, রাজশাহী, নাটোর, নওঁগা, পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া চুয়াডাঙ্গা জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সাথে এই ১১ জেলার বাইরে তাপপ্রবাহ বিস্তার লাভ হতে পারে।

আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্র বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সিলসিয়াস বেড়ে যেতে পারে। সারা দেশে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বাতাসে থাকবে অত্যধিক জলীয় বাষ্প। ফলে খোলা আকাশে রোদের মধ্যে কাজ করলে অথবা চলাফেরা করলে অত্যধিক ঘাম দেখা দিতে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেড়ে গেলে বাতাস ভেজা বা আর্দ্র থাকে। এই আর্দ্র বাতাসে মানুষের দেহ ঘাম শুকাতে পারে না। ঘাম শরীরে লেগে থাকলে, সহজে না শুকালে প্রচণ্ড অস্বস্তির সৃষ্টি করে। ঘাম থেকে অস্বস্তির কারণ হলো ঘামের মধ্যে লবণের আধিক্য বেশি থাকে এবং শরীর থেকে যে পানিটা বের হয় তা অনেকটা ভারী হয়ে থাকে সেই পানিতে নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত থাকে।

আবহায়াবিদরা এ সময়ে প্রকৃতির বৈরিতা সম্বন্ধে বলেন, এ সময়টায় বিরামহীনভাবে সূর্যকিরণ দিয়ে থাকে। আকাশে মেঘমালার অনুপস্থিতির কারণ সর্বোচ্চ সূর্যতাপ মাটিতে এবং মাটির কাছাকাছি পরিবেশে আপতিত হয়। ফলে প্রকৃতি গরম হয়ে যায়। বৈরী পরিবেশের এটাই কারণ। ফলে কাল বৈশাখী, বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং মাঝে মাঝে প্রচণ্ড গতিতে টর্নেডো হয়ে থাকে।




পটুয়াখালী জেলায় ২ হাজার কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। এসব তরমুজের বাজার মূল্য দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করছেন জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

উৎপাদিত এসব তরমুজ উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষক। গত বছরের বৃষ্টিতে তরমুজ চাষের ক্ষতি পুষিয়ে এবার লাভবান চাষিরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ তরমুজ ক্ষেত। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তরমুজ। ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে জড়ো করে রেখেছেন বিক্রির জন্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা তরমুজ কিনতে ক্ষেতে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন। এই তরমুজ ট্রাক-ট্রলি ও ট্রলারে বোঝাই করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকরা। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে তুলে বাজারজাতে ব্যস্ততা দেখা গেছে চাষিদের মাঝেও।
এসব দৃশ্য দেখা গেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনা, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার তরমুজ ক্ষেতে।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় ষড়যন্ত্রে দিশেহারা আ.লীগ সভাপতি, মামলা দিয়ে হয়রানি

চাষিরা জানান, জেলার গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে প্রচুর তরমুজ চাষ হয়েছে। তবে বরি মৌসুমে অল্প সময়ে তরমুজ আবাদ ও লাভজনক হওয়ায় পটুয়াখালীর চাষিদের মধ্যে আগ্রহ অনেক বেড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে গলাচিপা উপজেলায়। এ উপজেলায় ৮ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রসালো ফলটির চাষ হয়েছে। এ ছাড়াও রাঙ্গাবালীতে ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর, বাউফলে ৩ হাজার ৫২০ হেক্টর, কলাপাড়ায় ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর, দশমিনায় ১ হাজার ৭২০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৮০৫ হেক্টর, দুমকি উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১৫৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত এসব তরমুজ বাজারে বিক্রি দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।