এক ফসলি জমি চার ফসলিতে রূপান্তর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পাল্টে গেছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার আবাদি জমির চিত্র। থাকছে না কোনো অনাবাদি, পতিত জমি। প্রায় সব জমি আসছে চাষের আওতায়। পরিণত হচ্ছে চার ফসলি জমিতে। প্রশিক্ষণ আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব জমির ফসলের উৎপাদন বাড়বে। এতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন কৃষক। সমৃদ্ধ হবে কৃষি অর্থনীতি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক দশক আগেও আমন মৌসুমের পর জেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পড়ে থাকত অনাবাদি। কিন্তু এখন দৃশ্যপট পাল্টাচ্ছে। এসব জমিতে আমনের পরেই ফলছে বোরো, সূর্যমুখী, গম, ভুট্টা, তরমুজ, বাদাম, আলু, সরিষাসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি। আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার, উন্নত চাষ পদ্ধতি, মিষ্টি পানির সংরক্ষণ, উন্নত বালাইনাশক ও লবণসহিষ্ণু উন্নত জাতের বীজের কারণে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার এক সময়ের এক ফসলি জমি পরিণত হচ্ছে চার ফসলি জমিতে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। তরমুজের চাষ হয়েছে ২৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর বেশি। জেলায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে হয়েছে সূর্যমুখীর চাষ, যা গত বছরের তুলায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে শুধু কলাপাড়া উপজেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। জেলায় প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে হয়েছে মুগডালের আবাদ। এ ছাড়া বাদাম, ভুট্টা, গম, মরিচ, সবজি, বাঙ্গি উৎপাদনেও রেকর্ড করেছে উপকূলের এই জেলা।

কৃষি বিভাগের এমন সমীক্ষায় সংশ্লিস্টরা মনে করছেন, প্রণোদনা, কৃষি উপকরণের সহজ প্রাপ্তিসহ মিষ্টি পানির সংরক্ষণ বাড়ানো গেলে উপকূলীয় এলাকায় চাষের জমি আরও বাড়বে।

উত্তর ঠিয়াখালী গ্রামের কৃষক জামাল হাওলাদার বলেন, ‘আমন ধানের পরে জমি পতিত থাকত। ইরি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় সেই জমিতে বাদাম, সরিষা, আলু চাষ করেছি। এখন সূর্যমুখী ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায়।’

একই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ধান চাষ করে সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরাত। এখন আমনের পাশাপাশি বারো মাস সবজি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছি।’

কৃষক খলিল মৃধা বলেন, ‘বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে খাল-ডোবা-পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় মিস্টি পানির অভাব দেখা দেয়। মিস্টি পানির সংরক্ষণ বাড়ানো গেলে চাষ সুবিধা পাওয়া যেত।’

আরো পড়ুন : পবিপ্রবি ও ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চুক্তি

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা মানিক দেবনাথ বলেন, ‘আমন চাষের পর জেলার উপকূলীয় এলাকার ৭০ ভাগ জমি পড়ে থাকত অনাবাদি। শুস্ক মৌসুমে লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কৃষক ফসল চাষ করলেও ভালো ফলন পেত না। পরে আবহাওয়া উপযোগী জাত নির্বাচন, বপনের সঠিক সময় নির্ধারণ ও সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা প্রদান, উপকরণ দিয়ে সহায়তা, নিয়মিত মাঠ তদারকি ও কৃষক মাঠ দিবস পালন করায় কৃষকরা আগ্রহী হয়। পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও বরগুনার আমতলী উপজেলার এক ফসলি জমিকে চার ফসলি জমিতে উন্নীত করার প্রচেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ জমি তিন ফসলিতে উন্নীত করা হয়েছে।’

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, ‘কৃষি বিভাগের উৎসাহিতকরণ, নিয়মিত মাঠ তদারকি, সহযোগিতা ও লবণসহিষ্ণু ফসলের ভালো ফলনের কারণে কৃষকরা জমিকে এখন আর অনাবাদি রাখছেন না।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষি বিভাগের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আগ্রহীকরণ ও প্রণোদনার ফলে আমন চাষের পরে তরমুজ, মুগ ডাল, মরিচ, সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন কৃষক। এসব শষ্যে উচ্চমূল্য পাওয়ায় তারা খুশি। উপকূলীয় উপজেলা কলাপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালীতে লবণসহিষ্ণু জাতের বীজ সরবরাহ করায় এসব এলাকার পতিত জমি এখন তিন থেকে চার ফসলি চাষের আওতায় চলে আসছে।




গলাচিপার সু-স্বাদু মুগডাল যাচ্ছে জাপানে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের পরিবারগুলোর প্রতি দিনের খাদ্য তালিকায় ভাতের পরই ডালের স্থান। এ দেশের প্রায় সব রকমের ডালই চাষ করা হয়। এসবের মধ্যে মুগডাল অন্যতম।

গলাচিপায় মাঠে মাঠে মুগডালের সমারহ। এটি খেতে যেমন সু-স্বাদু, তেমনি চাষ করেও ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুগডালের আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল জেলায় আবাদ বেশি হয়। গলাচিপায় উৎপাদিত ডাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপায় মুগডালের আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর, ফেলন (পেলেন ডাল) ডাল ৭৭০ হেক্টর ও খেসারী ডাল ৮৫০ হেক্টর। এ বছর ডালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজর ৫০০ হেক্টর। তবে তা ছাড়িয়ে গেছে। কম বেশি ডালের আবাদ করলেও চাষীর সংখ্যা ২২ হাজার ৫০০-এর মতো। বর্তমান সরকার রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে গলাচিপা উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ চাষীকে বিনামূল্যে জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে বীজ মুগডাল বারী-৬, ২০ কেজি করে ড্যাব ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : নির্মাণের ১৫ দিনের মধ্যেই ভাঙা হলো ২ লাখ টাকার ঘাটলা

সূত্রে আরো জানা গেছে, এলাকাভেদে মুগের বপন সময়ের তারতম্য দেখা যায়। রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলের জন্য বপনের উত্তম সময় হচ্ছে পৌষ-মাঘ মাস (জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ হতে ফেব্রুয়ারির মধ্য ভাগ)। আষাঢ় মাসে (মধ্য জুন থেকে মধ্য জুলাই) অবিরাম বৃষ্টিতে মুগের ফল পচে যায়। চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে (মধ্য মার্চ) বীজ বপন সম্পন্ন করতে পারলে আষাঢ় মাসের আগেই ফসল সংগ্রহ করা যায় এবং ফল পচনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়। তীব্র তাপদাহের কারণে কৃষক-কৃষাণীরা ডাল তোলার জন্য সূর্য উঠার আগ থেকেই ক্ষেতে কাজ শুরু করে। সূর্যের তাপের তীব্রতার কারণে ক্ষেত থেকে ডাল তোলা সমস্যায় পড়তে হয় কৃষকদের। এছাড়া গাছগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বা গরু দিয়ে মাড়াই করে মুগডাল সংগ্রহ করা হয়।

সরেজমিনে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আ: ছালাম মৃধা (৭৩) জানান, তিনি ৬০ শতাংশ জমিতে মুগডাল আবাদ করেছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে ট্রাক্টর বাবদ ২৭০০ টাকা, দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি বাবদ ছয় দিনে ৪২০০ টাকা, সার বাবদ ৪৫০ টাকা, ওষুধ বাবদ ১২২০ টাকা ও বীজ বপন করতে ১০০০ টাকা খরচ হয়েছে। তার উৎপাদিত ডাল হয়েছে দুই মণ। যার বাজার মূল্য ৮৪০০ টাকা। আরো কিছু ডাল ক্ষেতে হতে পারে।’

তিনি আরো জানান, ‘গলাচিপায় বর্তমানে প্রচণ্ড খরা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে গরমে ডালের শাখা-প্রশাখা বাড়েনি। পাতা মুচরিয়ে রয়েছে। ফলন এ বছর কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জমিতে উপযোগী পরিবেশ না পাওয়ায় ডালের উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলেই উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে।’

গলাচিপা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের এখানে দেশী বা সোনা মুগ, বারি মুগ-০৬ এর চাষ হয়। বারি মুগ-৬ এর হেক্টর প্রতি ফলন ১ থেকে ১.৫ টন। বিগত তিন-চার বছর ধরে এই এলাকার মুগডাল গ্রামীন ইউগ্লোনা কোম্পানির মাধ্যামে জাপান রফতানি হচ্ছে। তীব্র তাপদাহে মুগডালের ফুল শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দেয়ায় ডালের আকার ছোট হচ্ছে, ডালের ছড়ার সংখ্যা কম হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার জানান, ‘তীব্র তাপদাহে কৃষকরা কিছুটা বিপাকে রয়েছে। তবে ক্ষেতে সেচ দেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ফলন বাড়ার সুযোগ রয়েছে।’




ভোলায় পুকুরে মিলল দেশীয় প্রজাতির আড়াই কেজির তেলাপিয়

বরিশাল অফিস :: ভোলার লালমোহন উপজেলায় বসত বাড়ির পুকুরে মিললো অন্তত আড়াই কেজি ওজনের দেশীয় প্রজাতির তেলাপিয়া মাছ। শুক্রবার দুপুরে লালমোহন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনিছল হক মিয়া বাড়ির পুকুর থেকে ওই মাছটি ধরা হয়।

ওই বাড়ির বাসিন্দা সাংবাদিক অপু হাসান বলেন, আমাদের বাড়ির পুকুরটি বহু পুরনো। বিভিন্ন সময় আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা এই পুকুরটিতে নানা প্রজাতির মাছ ছাড়েন। বছরের বিভিন্ন সময় ওই পুকুর থেকে মাছ ধরা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার পুকুরটিতে মাছ ধরতে গেলে জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে প্রায় আড়াই কেজি ওজনের দেশীয় প্রজাতির একটি তেলাপিয়া মাছও ধরা পড়ে। মাছটি ধরার পর নিজেদের খাওয়ার জন্য রেখে দিয়েছি। পুকুরটিতে এ ধরনের আরো বেশ কিছু মাছ রয়েছে।




দুমকী উপজেলায় মুগডালের বাম্পার ফলন

বরিশাল অফিস :: চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুগডালের বাম্পার ফলন হলেও পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার কৃষকদের মাঝে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শ্রমিক সংকটের আশংকা দেখা দিয়েছে।

রাজাখালী গ্রামের কৃষক মোঃ হারুন অর রশিদ খান বলেন, ফসলের মাঠ দেখে আনন্দিত হলেও সঠিক সময়ে ডাল ঘরে তুলতে না পারলে ক্ষেতেই ঝরে যাবে। তবে ডাল তোলার মেশিন হলে মাঠ থেকে আরও বেশি ডাল সংগ্রহ করা সম্ভব। একদিকে শ্রমিক সংকট অপরদিকে প্রচন্ড রোদের তাপ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইতিমধ্যে উপজেলার কিছু কিছু গ্রামে মুগডাল পাকতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উঁচু জমিতে পড়ন্ত বিকেলের নরম রোদে দক্ষিণা বাতাসে কিছু কিছু মাঠে পাকা মুগ ডাল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চলতি মৌসুমে মুগডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর এবং কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, অল্প সময়ে সামান্য পুঁজিতে অধিক লাভের আশায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের বারি-৬ জাতের মুগ ডালের বীজ পেয়ে চাষাবাদ করেছেন তারা। অনেক কৃষক নিজস্ব সংরক্ষিত দেশীয় জাতের মুগ ডাল চাষ করেছেন। মুরাদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মাইনুল ইসলাম বলেন, ৬০ শতাংশ জমিতে সারি পদ্ধতিতে বারি- ৬ জাতের মুগ আবাদ করে ইতিমধ্যে ২০শতাংশ জমি থেকে দেড় শতাধিক কেজি ডাল তুলেছি। এছাড়াও ওই এলাকায় কালাম মৃধা, সোহরাব মৃধা, মন্নান ও কেরামত আলী লাইন চুইং পদ্ধতিতে মুগ চাষের ফলে বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন।

শহিদুল ইসলাম নামে এক কৃষক জানান, এবছর অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে তার ফলন ভালো হয়নি। বিশেষ করে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কীটনাশক ব্যবহারে সুফল পায়নি সে। এছাড়াও আগাছায় মুগ ডাল গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেন বলেন,পটুয়াখালী জেলায় সবচেয়ে বেশি মুগডাল চাষ হয় এ উপজেলায়। আমার অফিসের সার্বিক পরামর্শ ও নিয়মিত তদারকিতে এখানকার কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে মুগডাল চাষে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে উঠেছে।




তাপদাহ থেকে বাঁচতে বেতাগীতে ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

তাপদাহ থেকে বাঁচতে বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বৃষরোপন কর্মসূচির আয়োজন করেন। আজ বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বেতাগী সরকারি কলেজ মাঠ, সাব-রেজিস্টার মাঠে বনজ, ফলদ এবং ওষুধি বৃক্ষের চারাসহ শতাধিক বৃক্ষের চারা রোপন করেন। এসময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আমিন হাওলাদার, ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান খান আসাদ, ইমন, আবুল হোসেন, আসিকসহ উপজেলা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রীষ্মের তাপদাহের সময় কেন এই বৃক্ষ রোপন এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আমিন হাওলাদার বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি। যথারীতি পানি দেওয়া, বেড়া দেওয়া এবং আগাছা নিড়ানীসহ সকল ধরণের পরিচর্যা করবে উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মীরা। উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি কামাল হোসেন খান বলেন,’ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের এই মহতি কাজকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে এই শুভ কামনা।

facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
whatsapp sharing button
messenger sharing button



কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিশাল আকৃতির কোরাল মাছ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কুয়াকাটায় ২৬ কেজি ওজনের বিশাল এক কোরাল মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় কুয়াকাটা মৎস্য মার্কেটে মনি ফিস গদিতে খোলা বাজারে ঢাকার এক ব্যবসায়ী এ মাছটি কিনে নেয় । এ সময় মাছটি এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমায় উৎসব জনতা।

আরো পড়ুন : মির্জাগঞ্জে গনসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা

জানা যায়, গত মঙ্গলবার কুয়াকাটা বাবলাতলা এলাকার জেলে রাসেল তার মায়ের দোয়া নামক ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে গেলে বলেশ্বর নদীর সাগর মোহনায় বুধবার রাত ২ টার দিকে এই বিশাল কোরাল মাছটি তার জালে ধরা পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে কিনারে নিয়ে আসলে কুয়াকাটা মৎস্য মার্কেটে বিক্রি করে দেন।




বরিশালে শত বছরের ঐতিহ্যের অনন্য স্মারক শীতল পাটি

*নারীদের নিপুন হাতের ছোঁয়া

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল :: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে পাটিকররা তাদের নিপূণতার জন্য শত শত বৎসর যাবৎ প্রসিদ্ধ। উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের কাজলাকাঠী গ্রাম, রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া, রাজাপুর গ্রাম ও গারুড়িয়া ইউনিয়নের সুখী নীলগঞ্জ ও হেলেঞ্চা গ্রামে এখনো ঐতিহ্যের অনন্য স্মারক এই শীতল পাটি। এই উপজেলায় এখন এক হাজারের বেশি পরিবার এই শীতল পাটি তৈরী করে সংসার চালাচ্ছে।

উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামে প্রবেশ করে যতদূর দু’চোখ যায় দেখা মিলে পাইত্রাগাছের বাগান। গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে দেখা মিলে বড় বড় পাইত্রা বা মোর্তাগাছের ঝোপ। বাড়ির আঙিনা, পরিত্যক্ত ফসলি জমি, পুকুরপাড়, সব জায়গাতেই বর্ষজীবী উদ্ভিদ তরতাজা পাইত্রাগাছ মাথা তুলে রয়েছে। গ্রামীণ জনপদের আভিজাত্যের স্মারক শীতলপাটি তৈরি হয় এই পাইত্রাগাছের বেতি দিয়ে।

জানা গেছে, এসব গ্রামে পাইত্রাগাছের আবাদ হয়ে আসছে শত শত বছর ধরে। পাটিকরদের পূর্বপুরুষরা যে পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, আজও সেই পেশা ধরে রেখেছেন বাকেরগঞ্জের পাটিকররা। এখনো এই সকল গ্রামগুলোতে পাটিকর পেশায় টিকে আছে প্রায় এক হাজার পরিবার। আর তাদের সবার পেশাই শীতল পাটি বুনন। ফলে উপজেলার এসব গ্রামগুলো‘পাটিকর গ্রাম নামে পরিচিত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠালিয়া, রাজাপুর ও গারুড়িয়া ইউনিয়নের সুখী নীলগঞ্জ ও হেলেঞ্চা গ্রামে এখনো গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতেই ছোট ছোট টিন সেট ও আধাপাকা ঘরগুলোর বারান্দায় নারী-পুরুষ ও শিশুরা নানান রঙ্গের শীতল পাটি বুনতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

কাঠালিয়া গ্রামের সবিতা রানীর পরিবারের সবাই মিলে দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাটি তৈরি করতে। একটু সামনে এগুতেই কথা হয় পিওলাল পাটিকরের সাথে। তিনি বলেন,পরিবারের পাঁচ সদস্য মিলে একটি পাটি তৈরি করতে কয়েকদিন চলে যায়। প্রতিজনের দৈনিক মজুরি ১০০ টাকা করেও আসেনা। তারপরেও করার কিছু নেই। বাপ-দাদার পেশা হিসেবে এখনো শীতল পাটি বুনে যাচ্ছি। একদিকে এখন গরম বেড়েছে অপরদিকে বৈশাখ মাস চলছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বৈশাখী মেলায় শীতল পাটির চাহিদা থাকে তাই পাইকাররা এসে আমাদের এলাকা থেকে পাটি ক্রয় করে নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করছেন।

স্থানীয় পাটিকররা বলেন, আমাদের তৈরি শীতল পাটি আন্তর্জাতিক মানের। কিন্তু প্লাস্টিক পাটির কারণে বাজারে আমাদের তৈরি শীতল পাটির চাহিদা কমে গেছে। তাই সরকারিভাবে বিদেশে শীতল পাটি রপ্তানির কোনো ব্যবস্থা করা হলে পাটিকরদের জীবন-জীবিকা ভালো থাকতো। পাশাপাশি শীতলপাটি টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া উচিত বলেও তারা উল্লেখ করেন। নয়তো এই পেশায় টিকে থাকা দুঃসাধ্য।

বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাসহ জাইকা সংস্থার মাধ্যমে উপজেলার পাটিকরদের মাঝে বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। ফলে নতুন নতুন ডিজাইনের শীতলপাটি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা তাদেরকে সরকারি বিভিন্ন রকম সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।




বরিশালে হাইব্রিডে বিপ্লব এনেছে হীরা ধান

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল: চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের মাঝে হাইব্রিডে বিপ্লব এনেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে মোটা জাতের হীরা-৬ ধান। অন্যান্য জাতের ধানের তুলনায় চাষীরা রোগ ও পোকার আক্রমন বিহীন হীরা-৬ জাতের হাইব্রিড ধান চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। সোমবার সকালে গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী মিশন পাড়ার অনুষ্ঠিত হীরা ধানের মেগা মাঠ দিবসের আলোচনা সভায় স্থানীয় কৃষক শওকত আকন জানিয়েছেন, তিনি তার ৬০ শতক জমিতে হীরা-৬ জাতের বোরো ধান চাষ করে এবার বাম্পার ফলন পেয়েছেন। আগামীতেও তিনি এ জাতের ধান চাষ করবেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে যেসব হাইব্রিড ধান চাষ হয় হীরা-৬ ধান তার মধ্যে অন্যতম। উচ্চ ফলনশীল হওয়ার কারণে এই ধান তাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

সুপ্রীম সীড কোম্পানীর আয়োজনে হীরা ধানের মেগা মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ মৃধার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কোম্পানীর জোনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনিতা মজুমদার। কোম্পানীর রিজিওনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ আসাদুল আলমের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় পরিবেশক দুলাল রায়, কৃষক শওকত আকন প্রমুখ।

মাঠ দিবসের আলোচনার শুরুতে অতিথিরা কৃষকদের সাথে নিয়ে হীরা-৬ ধানসহ অন্যান্য জাতের চাষ করা কয়েকটি বোরো ক্ষেত পরিদর্শন করে ধানের ছড়া সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে গণনা করে হীরা-৬ ধানের প্রতিটি শীষে গড়ে ৩০৬ থেকে ৩১০টি ধান পাওয়া গেছে। অন্যান্য জাতের ধানে সর্বোচ্চ ২০০টি ধান পাওয়া যায়।

এরপর অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মশিউর রহমান বলেন, হীরা-৬ বাংলাদেশের সবচেয়ে মোটা হাইব্রিড ধান। এই জাতের ধানে অন্য যেকোন হাইব্রিড ধানের তুলনায় বেশি ফলন হয়। রোগ ও পোকার আক্রমন বিহীন ১৪৫ দিনের জীবন কাল হীরা-৬ ধানের জাতে প্রতি শতকে এক মনের অধিক ধান পাচ্ছেন কৃষক। পাশাপাশি এ ধানের খোসা অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় প্রতি ১০০ মন ধানে ৭৩ মনের অধিক চাল পাওয়া যায়। এছাড়াও এ ধানের চাউলের ভাত অন্যান্য জাতের মতো আঠালো হয়না। সভায় উপস্থিত প্রায় দুই শতাধিক কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বোরো চাষের শুরুতে আগে ভাবতে হবে কোন ধানের বীজ বপন করে ভাল ফলন পাওয়া যাবে। কারণ এটা শুধু বীজ নয়; একটি পরিবারের স্বপ্ন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, হীরা-৬ ধান চাষ করে তারা অন্যান্য জাতের চেয়ে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তাই আগামীতেও তারা হীরা-৬ ধান চাষ করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে যে কয়টি কোম্পানি হাইব্রিড ধানের আমদানির অনুমতি পেয়েছে তাদের মধ্যে একটি সুপ্রীম সিড। কোম্পানিটি বাংলাদেশে প্রথম চীন থেকে বাংলাদেশে হীরা ধানের বীজ এনে বাজারজাত করেন। এরপর তারা নিজস্ব উৎপাদনে যায়। বর্তমানে ৯০ শতাংশ বীজ নিজেরাই উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, হাইব্রিড ধান সাধারণত ৭০-৭৫ শতাংশ পাকলেই কাটতে হয়। কারণ ধান বেশি পাকার ফলে ক্ষেতেই ঝড়ে যায়। তখন হাইব্রিড ধানের বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণা হয়। যেকারণে কৃষকদের সচেতনতার জন্যই মূলত হীরা-৬ ধানের মেগা মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়েছে।




তাপদাহে অসহনীয় পটুয়াখালীর জনজীবন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈশাখের তপ্ত তাপদাহে দক্ষিণের জনপদের মাঠঘাট ফেটে চৌচির। শুকিয়ে গেছে পুকুর জলাশয়। প্রচণ্ড গরম ও পানির সংকটে অসহনীয় হয়ে উঠেছে মানুষ ও পশুপাখির জীবন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সেচের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে আউশ ও বোরো আবাদ। দিশেহারা পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ জনপদের কৃষক।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ৪৫ দশমিক ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮ মিলিমিটার, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ মিলিমিটার, মার্চে ১০ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ২০২৩ সালে জানুয়ারি-এপ্রিল জেলায় ৯৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। গতকাল রোববার পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আরো পড়ুন : দশমিনায় নদীতে ভেসে আসা যুবকের পরিচয় সনাক্ত

পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তাতে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানান এ কর্মকর্তা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২৮ থেকে ৩৪ ফুট নিচে নেমে গেছে। এর মধ্যে বদরপুরে ৩৪ ফুট, ইটবাড়িয়ায় ৩০ ফুট, কালিকাপুরে ২৯ দশমিক ৬ ফুট, মাদারবুনিয়ায় ২৯ ফুট, জৈনকাঠিতে ২৮ দশমিক ৭ ফুট এবং লাউকাঠিতে ২৮ ফুট নিচে রয়েছে পানির স্তর। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য ইউনিয়নেরও। এ অবস্থায় পটুয়াখালীসহ পুরো দক্ষিণ জনপদের অনেক গভীর নলকূপে পানি উঠছে না । এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পটুয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক ভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক নলকূপে পানি উঠছে না। সাধারণত ৬ নম্বর হ্যান্ডপাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ বসানোর জন্য পানির সর্বোচ্চ স্থিতিতল হয় ২০ থেকে ২৫ ফুট। কিন্তু সদর উপজেলায় পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেছে। এতে নলকূপগুলোর হাতল শক্ত হয়ে পানির ডিসচার্জ কমে যায়। কিছু কিছু নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। পানির সংকট নিরসনে সাবমার্সিবল পাম্প বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন : পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে একসঙ্গে ভিড়বে তিন জাহাজ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৬১০ হেক্টর। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ২৪১ হেক্টর, উফশী জাতের ১৫ হাজার ৫৫৯ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়। কিন্তু অনাবৃষ্টি ও সেচের অভাবে বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া প্রচণ্ড তাপদাহে মাঠঘাট ফেটে চৌচির হওয়ায় আবাদ করা মুগ ডাল, তিল, চিনাবাদাম, কাঁচামরিচ, সূর্যমুখী, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, খরা ও অনাবৃষ্টিতে রবিশস্যের তেমন ক্ষতি না হলেও বোরো আবাদে ক্ষতির শঙ্কা প্রবল। কৃষকরা জমিতে দুই থেকে তিন দিন পানি ধরে রাখতে পারলে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। ফসল রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




গরমে ঘেমে  যাচ্ছেন? মেনে চলুন কয়েকটি নিয়ম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ঘামের দাগে পোশাকের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়। যাঁদের রোজ বাইরে বেরোতে হয়, এই বিষয়ে তাঁদের নজর দেওয়া জরুরি। কিছু বিষয় মাথায় রাখলে সমস্যা হবে না।

গরমের সবে শুরু। বৈশাখের প্রথমেই দাপট দেখাতে শুরু করেছে গ্রীষ্মকাল। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে। আপাতত ঝেঁপে বৃষ্টি কিংবা কালবৈশাখীর কোনও সম্ভাবনা নেই। অগত্যা ঘামে ভিজে যাওয়া ছা়ড়া আর উপায় নেই। পোশাক ঘামে ভিজে দেখতে যেমন খারাপ লাগে, তেমনই ঠান্ডা লেগে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। তা ছাড়া ঘামের দাগে পোশাকের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়। যাঁদের রোজ বাইরে বেরোতে হয় এই বিষয়ে তাঁদের নজর দেওয়া জরুরি। কিন্তু এত কাজের মধ্যে আর আলাদা করে ঘাম নিয়ে ভাবার অবকাশ পাওয়া যায় না। তবে ছোটখাটো কিছু বিষয় মাথায় রাখলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

১) জামা থেকে ঘামের দাগ তোলা সহজ নয়। কালো, নীল রঙের পোশাকে ঘামের দাগ অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যাঁরা খুব বেশি ঘামেন, তাঁরা গরমে এই রঙের পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন।

২) গরমে অনেক পুরুষই জামার ভিতরে গেঞ্জি পরেন না। তাতে গরম কম লাগে ঠিকই। তবে সুতির গেঞ্জি পরে নিলে ঘামের দাগ জামায় লাগে না। ঘামে ভিজে পোশাক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম।

৩) গরমে এমনি টি-শার্টের বদলে স্পোর্টস টি-শার্ট পরতে পারেন। এই সব টি-শার্টে ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়। যা খুব সহজেই ঘাম ত্বকের উপরিভাগে নিয়ে আসে।

৪) গরমে পা ঢাকা জুতো না পরাই শ্রেয়। রোদে পুড়ে ট্যান পড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই এমন জুতো পরেন। তবে এতে পা ঘামে বেশি। গরমও বেশি লাগে।