পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে গাছ রোপণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন জাতের গাছ রোপণ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় বসুন্ধরা শুভসংঘ কলেজ শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অধ্যক্ষ মো. মোদাচ্ছের বিল্লাহ।

আরো পড়ুন : দুমকী নির্বাচনে অবৈধ ক্যাম্প ভেঙে দিলেন ইউএনও

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ফারুক হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক গাজী সবুজ আহম্মেদ, প্রভাষক এনামুল হক, সহকারী অধ্যাপক ইদ্রিস বেপারী, সাইদুল আলম, কাজী দেলোয়ার হোসেন, প্রভাষক সানজিদা ইসলাম, নাজমুন্নাহার লাভলী, জহিরুল ইসলাম, বসুন্ধরা শুভসংঘের জেলা সমন্বয়কারী সাইমুন রহমান, বসুন্ধরা শুভসংঘ মহিলা কলেজ শাখার সভাপতি আফরোজা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান, সদস্য মেহজাবিন ঐশী প্রমুখ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী যারা

বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যক্ষ মোদাচ্ছের বিল্লাহ বলেন, দেশের পরিবেশ আরো সুন্দর, সবুজ ও উন্নত হয়—সে জন্য বৃক্ষ রোপণ করে যাচ্ছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।




চলতি বছর পটুয়াখালীতে উৎপাদন হবে প্রায় ২০ কোটি টাকার সূর্যমুখী তেল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: চলতি বছর পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে এবং জেলায় প্রায় ২১০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ৩১৫০ মেঃটঃ তেল উৎপাদিত হবে এসব সূর্যমুখী থেকে। যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তেলবীজ জাতীয় ফসল সূর্যমুখী। অনূকুল আবহাওয়ায় ভাল ফলন পাওয়ায় কৃষক পর্যায়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে লবনসহিষ্ণু সূর্যমুখীর আবাদ। এক সময় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জমিতে চাষ হলেও এখন পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ন ফসলের মাঠে সূর্যমুখীর চাষ হচ্ছে। অনুকুল আবহাওয়া, লবন সহিষ্ণুজাত, সময়মত বপন ও ভাল বাজারমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরো পড়ুন : জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ১১

পল্লী প্রগতি সমিতির কৃষিবিদ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় পল্লী প্রগ্রতি সমিতির চলতি বছরে উপ-প্রকল্পের আওতায় ১১০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। সূর্যমুখী বীজ হতে গাদ বিহীন তেল উৎপাদন করার লক্ষ্যে উপ-প্রকল্পের আওত্তায় ২জন উদ্যোক্তাকে আধুনিক কোল্ড প্রেস মেশিন প্রদান করা হয়েছে যাতে সূর্যমুখী তেল সহজেই বাজারজাত করা যায় এবং ভোক্তারা যেন নিরাপদ ভোজ্য তেল খেতে পারে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সূর্যমুখী চাষে প্রশিক্ষণসহ উন্নত বীজ, চাষ উপকরণ দিয়ে কৃষকদের উদ্ভুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ।




কলাপাড়ায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে রাসায়নিক সার ও বীজ বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উফসি ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ হাজার ৫শ’ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে রাসায়নিক সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (০৪ মে) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মহিবুবর রহমান মহিব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকের হাতে এসব সার ও বীজ তুলে দেন।

বিতরণ অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বাজুসের মতবিনিময় সভা পটুয়াখালী

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পটুয়াখালী, কলাপাড়া পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার,কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আলী আহমেদ।

এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, কৃষক কৃষাণী ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




মুগডাল ভাঙানো মেশিন: দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের স্বপ্নপূরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মুগ ডাল উৎপাদন হয়। এর বেশিরভাগ হয় পটুয়াখালী এবং বরিশাল অঞ্চলে।

বারি মুগ-৬ এই অঞ্চলে কৃষকদের এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি জমিতে রূপান্তর করেছে। মুগ ডাল আমিষের একটি অন্যতম উৎস। যা গরীব কৃষকদের আমিষের চাহিদা পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।

কিন্তু এই অঞ্চলে উৎপাদিত এই মুগ ডালগুলো এ অঞ্চলের কৃষকরা খুব কমই ভক্ষণ করতে পারে। কারণ এই মুগ ডালের খোসা ছাড়িয়ে খাবার উপযোগী ডাল উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি সহজলভ্য হয়নি।

নতুন উদ্ভাবিত এই যন্ত্রটির বিভিন্ন সুবিধাবলি যন্ত্র প্রস্তুত কারক বিজ্ঞানী সম্প্রসারণ কর্মী ও সাধারণ জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য এফএমপিই ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, গাজীপুর ও সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই পটুয়াখালীর আয়োজনে আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্রের সিসা-এমইএ প্রকল্পের অর্থায়ানে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার জামলাতে এক মাঠ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, লেবুখালী, পটুয়াখালী।

তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে এ যন্ত্রটি ছড়িরিয়ে দিতে বারি উদ্ভাবিত এই যন্ত্রটির ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন। মানসম্পন্ন প্রস্তুতকরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানদের প্রশিক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরো পড়ুন : হবিগঞ্জে নিহত পাঁচজনের চারজনই পটুয়াখালীর এক পরিবারের

মো. মাইনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. এইচ, এম খায়রুল বাসার, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই পটুয়াখালী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পটুয়াখালী।

সভাপতি তার বক্তৃতায় তীব্রভাবে আশা পোষণ করেন যে, সদাশয় সরকার যদি এই যন্ত্রে ভর্তুকি প্রদান করেন এবং স্বল্পমূল্যে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষকের মাঝে এই যন্ত্রটি ছড়য়ে দেয় সাথে সাথে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাহলে তা এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকের মাঝে একটি অভূতপূর্ব সারা ফেলবে।




একদিকে রেকর্ড ভাঙা গরম, অন্যদিকে গাছ কাটছে বন বিভাগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: চলমান অসহনীয় গরমে যখন ‘গাছ লাগাও, পরিবেশ বাঁচাও’ আওয়াজ উঠেছে, ঠিক সে সময়েই পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সামাজিক বনায়নের এক হাজার ৩৭৫টি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। সামাজিক বনায়ন বিধিমালার নিয়ম রক্ষা করতে গিয়ে তীব্র গরমের মধ্যেই ৬ কিলোমিটার সড়কজুড়ে ছায়া দেওয়া ২৪ বছরের পুরানো এসব গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে ছায়া বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ, ঠিকানা হারাচ্ছে পাখ-পাখালি। কিন্তু গাছ কাটার এমন সিদ্ধান্ত কিংবা নিয়ম জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য শুভকর নয়; বলছেন পরিবেশবিদরা।

সামাজিক বনায়নের এসব গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কার্যালয় সূত্র বলছে, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে রাঙ্গাবালী বন গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন সড়ক থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে গন্ডাদুলা এম এইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে এ গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। বন বিভাগের সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের আওতায় ২৪ বছর আগে সড়কটির দু’পাশে মেহগনি, রেইনট্রি, আকাশমনি, অর্জুন, খইয়া, বাবলা, চাম্বুল, শিশু, কড়াই, ঝাউ, পেয়ারা ও কাঁঠাল প্রজাতির এ গাছ রোপণ করা হয়।

বন বিভাগ বলছে, সামাজিক বনায়ন বিধিমালার অনুযায়ী ২০ বছর পূর্ণ হলেই সামাজিক বনায়নের গাছ নিয়মানুযায়ী বিক্রি করার বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম রক্ষা করতে গিয়ে ফলজ-বনজ প্রজাতির এক হাজার ৩৭৫টি গাছ নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করে বিক্রি করার জন্য গত ১৩ ডিসেম্বর দরপত্র আহ্বান করে বন বিভাগ। ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার ২০০ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মো. বশির মিয়া গাছ কাটার কার্যাদেশ পান।

আরো পড়ুন : সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে স্মার্ট, উন্নত ও মানবিক দুমকি বিনির্মানে সহযোগীতা চাইলেন মেহেদী হাসান মিজান

কিন্তু গরমে যখন হাঁসফাঁস জনজীবন, ঠিক তখনই গাছ কাটা শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠফাটা রোদে একটু প্রশান্তি মেলে গাছ তলাতে। কিন্তু মাথার ওপর ছায়া দেওয়া, পাখিদের আশ্রয় দেওয়া সেই গাছে ঢাকা সড়কটি এখন প্রায় গাছ শূন্য। একের পর এক কাটা পড়ছে ছায়া বৃক্ষগুলো। তাপদাহ চলা পুরো এপ্রিল মাসজুড়েই গাছ কাটা চলে। এখন প্রায় শেষ পর্যায়ও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বন বিভাগ যে গাছগুলোতে লাল নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করেছে তা-তো কাটা হচ্ছেই, আর যেগুলো নম্বর চিহ্ন দেয়নি তাও কাটা হচ্ছে। ছোট-ছোট গাছও রক্ষা পাচ্ছে না।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের গন্ডাদুলা গ্রামের খালিদ হোসেন বলেন, ‘দু’পাশের এ গাছগুলো সড়কটিকে ছায়া দিয়ে রাখতো। ছায়া দেওয়া এসব গাছের কোনটিই রাখা হচ্ছে না। ছোট-বড় সব গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। বন বিভাগের গাছ তো নিছেই, আমাদের অনেকের লাগানো মালিকানা গাছও কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এই সড়কে গাছ থাকলে ছায়ায় চলাফেরা করতে পারতাম। গাছ না থাকার কারণে রোদের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। গরমে সড়কে চলাচল করতে পারছি না।’

ওই ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বশার হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তায় যখন গাছ ছিল, ঠান্ডা বাতাস লাগতো। গাছ কেটে ফেলছে, এখন রোদে চলা যায় না। পথচারীরা গাছের ছায়া পাচ্ছে না। গাছগুলোতে আশ্রয় নেওয়া পাখিগুলো আশ্রয় হারাচ্ছে। এই সড়কে শোনা যাবে না পাখির কিচিরমিচির শব্দ।’

বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা অমিতাভ বসু বলেন, ‘দারিদ্র বিমোচন করতে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী উপকারভোগীদের সম্পৃক্ত করে সমিতির মাধ্যমে সৃষ্ট সামাজিক বনায়নের গাছ রোপণের ২০ বছর পর কেটে নিয়মানুযায়ী বিক্রি করার বিধান রয়েছে। বিক্রি করা এই অর্থ বন অধিদপ্তর ১০ শতাংশ, ভূমি মালিক সংস্থা ২০ শতাংশ, উপকারভোগী ৫৫ শতাংশ, পুনরায় বাগান করার জন্য ১০ শতাংশ এবং ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ৫ শতাংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে সড়ক থেকে গাছ কাটা হচ্ছে সেই সড়কে পুনরায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করা হবে।’

তবে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা রক্ষার নামে গাছ কাটার এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করছেন পরিবেশবিদরা।

পরিবেশবিদরা বলছেন, সামাজিক বনায়ন বিধিমালার এই নিয়ম এখন পরিবর্তন প্রয়োজন। এমন নিয়ম করতে হবে যে গাছ কেটে উপকারভোগীদের আর টাকা দেওয়া হবে না। গাছের পরিচর্যা কিংবা দেখাশোনা করার দায়িত্ব থাকা উপকারভোগীদের অন্য ধরণের সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কোনভাবেই গাছ কাটা যাবে না। গাছ কাটা পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের জন্য মারাত্মক হুমকির বলে মনে করছেন তারা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বালুচাপা দেয়া হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. মো. শাহরিয়ার জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমাদের দেশে বনায়নের পরিমাণ অত্যন্ত কম। এটা ১২ দশমিক ৮ কিংবা হিসেব করলে এর চেয়ে আরও কম। যেটার কুফল কিন্তু এখন আমরা ভোগ করছি। আমাদের দেশের ওপর দিয়ে হিটওয়েভ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রিও ছাড়িয়েছে। যেটা ১০-১৫ বছর আগেও ছিল না।’

ড. মো. শাহরিয়ার জামান বলেন, ‘উপকূলীয় রাঙ্গাবালী এমনিতেই খরা, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের সম্মুখীন। সুতরাং সামাজিক বনায়নের যে গাছগুলো বন বিভাগ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা পরিবেশগত হানিকর সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই না। বন বিভাগই যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমরা কার প্রতি আস্থা রাখবো?। আমি মনে করি বন বিভাগ এমন সিদ্ধান্ত থেকে দ্রুত সরে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের সুফল ভোগ করে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষজন। এর সুফল ভোগ করে সেখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। সুতরাং এ গাছগুলো কেটে ফেলা বা সরিয়ে ফেলা মানে ওখানকার তাপমাত্রা এমনেতেই বেড়ে যাবে। ওই জায়গার জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে। এছাড়া ১৫-২০ বছরের পুরনো গাছ যদি কেটে ফেলা হয়, সে অবস্থায় আবার ফিরে আসতে ১৫-২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।’




এনজিওর চাকরি ছেড়ে মাশরুম চাষে সফল পটুয়াখালীর মিলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: এনজিওর চাকরি ছেড়ে মাশরুমের চাষ শুরু করেন অতিউর রহমান মিলন। শুরুর গল্পটা ছিল চ্যালেঞ্জের। কিন্তু চার বছরের ব্যবধানে পাল্টাতে শুরু করে ভাগ্যের চাকা। আড়াই হাজার স্কয়ার ফিটের জায়গায় এখন তিনটি শেড। বাজারজাত করছেন মাশরুমের আচার, স্যুপ পাউডার, টুথ পাউডারসহ নানান পণ্য। চার লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসে মুনাফা আসছে অন্তত ৯০ হাজার টাকা।

বিনিয়োগের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় মাশরুম চাষে ঝুঁকছেন পটুয়াখালীর উদ্যোক্তারা। তবে দরকার যথাযথ প্রশিক্ষণ আর ব্যাংক ঋণ।

প্রযুক্তির সহযোগিতায় বছর জুড়েই চাষাবাদ হয় মাসরুমের। কাঠের গুড়া, গমের ভুষি, ধানের কুড়া ও খড় দিয়ে চাষাবাদও সহজ। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বিনিয়োগেই শুরু করা যায় চাষাবাদ। লাভও মেলে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। তাই আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের।

আরো পড়ুন : খালে পাওয়া ‘টর্পেডো’ উদ্ধার করল নৌবাহিনী

পুষ্টিগুণের পাশাপাশি রয়েছে বাণিজ্যিক চাহিদা, রপ্তানি হতে পারে দেশের বাইরেও। নানামুখি চ্যালেঞ্জে কাজে লাগানো যাচ্ছে না সম্ভাবনার পুরোটা। যদিও চাষিদের প্রশিক্ষণসহ সরকারি নানা উদ্যোগের কথা জানান পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.নজরুল ইসলাম।

জেলায় আগের চেয়ে বাড়ছে মাশরুম চাষ। যেখান থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রতি মাসে অন্তত ১৫ টন মাশরুম।




বরিশালে কৃষকের মাঝে সাড়া ফেলেছে বঙ্গবন্ধু ধান-১০০

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল :: চলতি বোরো মৌসুমে বরিশালে প্রথমবার বঙ্গবন্ধু ধান-১০০ আবাদ করেই কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তুলনামূলক কম সময় এবং কম খরচে রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ রোধ করার গুণসম্পন্ন এ ধান আবাদ করে বেশি ফলন পাওয়ায় আগামীতে এ ধানের আবাদ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিন দিন দেশে জমির সংখ্যা কমে যাওয়া উৎকৃষ্ট জিংকসমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু ধান একদিকে যেমন দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তেমনি অন্যান্য জাতের চেয়ে এ ধানে উৎপাদন বৃদ্ধি দিগুন হবে।

আইএফডিসি’র ফিড দ্যা ফিউচার বাংলাদেশ ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এক্টিভিটি (সিএসএ) কর্তৃক বাস্তবায়িত জিংক সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু-১০০ ও ব্রি-ধান-১০২ এর ধানের প্রদর্শনী মাঠের শষ্য কর্তন ও মাঠ দিবসে সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের বাঘার গ্রামের প্রদর্শনী মাঠের কৃষক আল আমিন আকন বলেন, অন্যান্য ধানের তুলনায় এ ধানের ফলন ভালো। পাশাপাশি এ ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতা থাকায় উৎপাদন খরচও কম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতি শতক জমিতে এ ধানের ফলন হয়েছে এক মন করে। যা অন্যান্য ধানের তুলনায় দ্বিগুন। কম সময়ে ভালো ফলন ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এ ধান আবাদে উৎসাহিত হচ্ছেন অন্য কৃষকরাও। ইতোমধ্যেই তার কাছে অনেকে বীজ চাইতে আসছেন অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ও ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিথুন বণিক বলেন, চলতি মৌসুমে মাহিলাড়া ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু-১০০ ও ব্রি-ধান ১০২ চাষ করা হয়েছে। শীত সহিষ্ণু, রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতা থাকায় বেশি ফলনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ধানের উৎপাদন খরচও কম হওয়ার পাশাপাশি বাম্পার ফলন হয়েছে। তাছাড়া এ ধানে উৎকৃষ্ট জিংকের পরিমাণ বেশি থাকায় বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

৩০ জন কৃষাণ-কৃষাণীর অংশগ্রহণে মাঠ দিবসের আলোচনা সভায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কৃষক হুমায়ুন আকনের সভাপতিত্বে মাহিলাড়া ইউনিয়নের সার ও বীজ ডিলার জামাল সরদার বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার অনুরোধে চলতি মৌসুমের শুরুতে বঙ্গবন্ধু-১০০ ও ব্রি-ধান ১২০ একপ্রকার জোরকরেই কৃষকদের মাঝে বিক্রি করেছি। কিন্তু বর্তমানে ওইসব জমিতে এ ধানের বাম্পার ফলন দেখে অন্যান্য চাষীরা আগামী মৌসুমে এ ধানের চাষ করার আগ্রহ দেখিয়ে ইতোমধ্যে তাকে বীজ ধানের অর্ডার করা শুরু করেছেন।

আইএফডিসির সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু-১০০ ও ব্রি-ধান ১০২ ব্লাষ্টমুক্ত, জলবায়ু সহনশীল, জিংক সমৃদ্ধ ও ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা আগামীতে এ ধানের সম্প্রসারণ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত পুষ্টিসমৃদ্ধ উচ্চ ফলনশীল এ জাতের নতুন ধান মাহিলাড়ায় পরীক্ষামূলক চাষে ব্যাপক সাফল্য মিলেছে। মাঠ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হক বলেন, মাহিলাড়া ইউনিয়নে প্রথমবারেই ভালো ফলন পাওয়ায় আগামীতে এ ধানের বীজ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশের অন্যান্য ধান আবাদ করতে সময় লাগে ১৫৫ থেকে ১৬০ দিন। সেখানে বঙ্গবন্ধু-১০০ ধান আবাদ করতে সময় লেগেছে মাত্র ১৪৫ থেকে ১৪৮ দিন। তাছাড়া অন্যান্য ধানের চেয়ে এর ফলন প্রায় দ্বিগুন হয়েছে।

কমিউনিটি ফার্ম ডেভলপমেন্ট অফিসার মোঃ সফিউল ইসলাম বলেন, মাহিলাড়া ইউনিয়নের বাঘার গ্রামের পাঁচটি প্রদর্শনী প্লটে এই জাতের ধান হেক্টরে ৮.১০ থেকে ৯.৫ টন পর্যন্ত ফলন দিয়েছে। সেই হিসেবে শতাংশে ফলন দিয়েছে এক মণেরও বেশি। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে নতুন এই জাতের ধানে প্রচলিত জাতের ধানের মতো রোগবালাই নেই। লম্বা, চিকন প্রিমিয়াম কোয়ালিটির এই ধানের ভাত ঝরঝরে এবং খেতে সুস্বাদু।

শষ্য কর্তন ও মাঠ দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিএসএ’র ফিল্ড সমন্বয়কারী মোঃ নাজমুল হক বলেন, স্বল্প খরচে বঙ্গবন্ধু-১০০ ও ব্রি-ধান ১০২ চাষ করে ধানের বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষক লাভবান হয়েছেন। হাইব্রিড ধানের সমান ফলন দিতে সক্ষম এই ধান দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিতে বিপ্লব ঘটাবে। পাশাপাশি নতুন জাতের এই ধান চাষে কৃষকের গোলা ভরে যাবে। নিশ্চিত করবে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা।




পটুয়াখালী তীব্র তাপদাহে ফসলের উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে প্রায় এক মাস ধরে চলা তাপপ্রবাহে ফসলের উৎপাদন ব্যাহতের আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি বিভাগের মতে, অতি তাপমাত্রার কারণে বোরো ধানের পরাগায়ণ বিঘ্নিত হওয়ায় ধানে কমপক্ষে ১০ শতাংশ চিটা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও জেলার অন্যতম প্রধান রবি ফসল মুগডালের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যান্য ফসলের উৎপাদন নিয়েও কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা দেখা গেছে, জেলায় বর্তমানে বোরো ধান, মুগডাল, মরিচ, চিনাবাদাম, তিল, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ফসল মাঠে রয়েছে। প্রখর রোদ আর অসহনীয় তাপদাহের কারণে এসব ফসলের বেশিরভাগের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

আরো পড়ুন : দুমকীতে ড্রামের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের হকতুল্লাহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কৃষকরা অনেকেই তাদের খেত থেকে মুগডাল তুলছেন। তাদের একজন আব্দুস সাত্তার হাওলাদার (৬৫) জানান, তিনি এ বছর ১ দশমিক ২০ একর জমিতে মুগডালের চাষ করেছেন। এবছর প্রখর রোদে মুগডালের ফলন কম হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় ডালের আকারও ছোট হয়েছে। বেশিরভাগ ডাল অপুষ্ট হওয়ায় ওজনেও হালকা।

তিনি আরো বলেন, গতবছর সমপরিমাণ জমিতে মুগডাল চাষ করে ১২ মণ ডাল পেয়েছিলাম। কিন্তু এ বছর তার অর্ধেক ফলন পেতে পারি। এতে খরচই উঠবে না।

একই এলাকার চাষি শাহজাহান হাওলাদার বলেন, তিনি ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এক একর জমিতে মুগডালের চাষ করেছেন। প্রতি বছর তিন বার ডাল তুলতে পারি। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের কারণে ফলন কম হয়েছে। এতে একবার বা দু’বারের বেশি ফলন পাওয়া যাবে না।
খেতে ডাল তোলায় ব্যস্ত তার স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, এ বছর ডাল অনেক কম পাওয়া যাবে। সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতের মাটি শুকিয়ে গেছে। একারণে ডালের ফলন কম হয়েছে, আকারেও ছোট হয়েছে।

আরেক কৃষক আলী আশরাফ মুগডালের পাশাপাশি চিনাবাদাম, তিল, সূর্যমুখী ও মিষ্টি আলুর চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, সব ধরনের রবি ফসলই আবাদ করি। পাঁচ সদস্যের পরিবারে এ দিয়েই সারা বছরের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করি। কিন্তু এ বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং গরমের কারণে সব ধরনের ফসলের উৎপাদন কম হচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল বারেক গাজী বলেন, আগে সময়মত বৃষ্টিপাত না হলে আমরা খালের পানি দিয়ে সেচ দিতে পারতাম। কিন্তু এখন খালগুলোও ভরাট হওয়ায় সেখানে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সংকটকালে জমিতে সেচ দেয়াও যায় না। অনেকক্ষেত্রে খাল ভরাট হয়ে কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট আউলিয়াপুর গ্রামের বোরো চাষি মোজাম্মেল হোসেন মৃধা জানান, আমাদের গ্রামের কৃষকরা প্রতিবছর আমন ফসলের পর বোরো ধান চাষ করি। ভালো ফলনও পাই। তবে এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম এবং তীব্র গরমে ধান পরিপুষ্ট হতে পারছে না। এতে ফলন কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ কম হতে পারে। প্রখর রোদে খালেও পানিও শুকিয়ে গেছে। ধানখেতে সেচ দিতে পানি সংকটে ভুগছি।

আরো পড়ুন : যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানালো ইসরায়েলি সেনারা

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২০ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান, ৮৭ হাজার ৩৪১ হেক্টরে মুগডাল, ৭ হাজার ৯৪৬ হেক্টরে চিনাবাদাম, ২ হাজার ১০০ হেক্টরে সূর্যমুখী, ৪৮০ হেক্টরে সরিষা, ১৩৪ হেক্টরে তিল, ১৯ হেক্টরে সয়াবিন, ৮ হাজার ২৪২ হেক্টরে মরিচ, ২ হাজার ১১৮ হেক্টরে মিষ্টি আলু আবাদ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রখর রোদে বোরো ধানের পরাগায়ণ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কমপক্ষে ১০ শতাংশ ধানে চিটা হতে পারে। তাছাড়া মুগডালসহ অন্যান্য রবি ফসল উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছি। অনাবৃষ্টি আর অধিক তাপমাত্রার কারণে ফসলের খেতে নানা রোগবালাই দেখা দিতে পারে। তবে দ্রুত বৃষ্টিপাত হলে কৃষকরা কিছুটা হলেও তাদের ক্ষতি পোষাতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে খালসহ প্রাকৃতিক জলাধারগুলো সংস্কারের উদ্যোগে নেওয়া হবে।




আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল




আরো ৭২ ঘণ্টার হিট অ্যালার্ট জারি