সার–কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে বরগুনার আলু চাষিরা

বরগুনা জেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষ করে লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন শত শত কৃষক। সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যাপ্ত বীজ সংকট এবং জেলায় হিমাগার না থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা বরিশাল বিভাগের মধ্যে আলু উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। চলতি বছর জেলায় ৯৪৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৩৭৫ হেক্টর জমিতে এখনো আবাদ হয়নি।

উপজেলা ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী—
বরগুনা সদর উপজেলায় ১২০, পাথরঘাটায় ৫৬২, বামনায় ৪২, বেতাগীতে ১৩২, আমতলীতে ১৯ এবং তালতলীতে ৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবছর জেলায় মোট আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন।

 মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র

সরেজমিনে পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন খেত ঘুরে দেখা যায়, নারী ও পুরুষ কৃষকরা বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরুষরা জমি প্রস্তুত করছেন আর নারীরা বীজ বপনের কাজ করছেন। তবে অধিকাংশ কৃষকের অভিযোগ—সঠিক সময়ে বীজ পাওয়া যায়নি এবং সার–কীটনাশক কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দামে।

কৃষকদের অভিযোগ

কালমেঘা ইউনিয়নের কৃষক সুলতান ফকির জানান, তিন একর জমিতে আলু চাষ করলেও সরকারি কোনো সহায়তা পাননি। স্থানীয় ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নারী কৃষক হেনারা বেগম বলেন, সার সংকটের কারণে সময়মতো বীজ বপন করা সম্ভব হয়নি। গত বছর এক একর জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছিল। এবারও একই শঙ্কা কাজ করছে।

আরেক কৃষক মো. মুসা অভিযোগ করে বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে সময়মতো সার ও বীজ পাওয়া যায় না। কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে উপস্থিতি না থাকায় বাধ্য হয়ে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের পরামর্শে চাষ করতে হচ্ছে।

হিমাগার না থাকায় বাড়তি দুশ্চিন্তা

জেলায় কোনো হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত আলু সংরক্ষণ নিয়েও শঙ্কিত কৃষকরা। তাদের মতে, সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে দাম কমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, জেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। হিমাগার নির্মাণে আগ্রহী উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বা কীটনাশক বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুমকিতে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট, খামারিদের দুঃসময়

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় গো-খাদ্যের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় খামারিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। একদিকে খড়, ভুষি ও খৈলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে, অন্যদিকে মাঠে ঘাসের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে গরু-মহিষ পালন এখন অনেকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের খামারিরা জানান, গত মৌসুমে ধান কাটার পর পর্যাপ্ত খড় মজুত করতে পারেননি তারা। সামান্য যে পরিমাণ খড় ছিল, তা বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বাজার থেকে চড়া দামে খড়, ভুষি ও খৈল কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ খড় বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একইভাবে গমের ভুষি ও সরিষার খৈলের দামও বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।

শ্রীরামপুর গ্রামের খামারি মো. মজিবুর রহমান মৃধা জানান, আগে প্রতি মাসে গরুর খাবারে খরচ হতো ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায়। তার ভাষায়, “এই খরচে গরু পালন করে লাভ করা তো দূরের কথা, টিকে থাকাই কষ্টকর।” তিনি আরও জানান, ছোট খামারিরা অনেকেই লোকসানের ভয়ে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

কৃষক হারুন সিকদার বলেন, খড় ও ঘাসের অভাবে গরু-বাছুর অনেক সময় না খেয়ে থাকে। শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে, দুধও কমে গেছে। “দুরে মাঠের ধানগাছ আর সামান্য কাঁচা ঘাস জোগাড় করে কোনোমতে দিন পার করছি,” বলেন তিনি।

দুমকি উপজেলা সহকারী পশুসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অশোক হালদার জানান, টানা বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাঠের সবুজ ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে গো-খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে শুধু পশুপালন নয়, দুধ উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। গত মাসের তুলনায় স্থানীয় বাজারে দুধের সরবরাহ কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ, ফলে লিটারপ্রতি দুধের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয় খামারিরা অভিযোগ করেছেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় তারা কার্যকর সমাধান পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগাম মৌসুমে গো-খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহ দিতে কৃষকদের বীজ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে আসন্ন শীত মৌসুমে দুমকির গরু খামারগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনার পান চাষিরা পেল না ন্যায্য দাম, হতাশায় নিমজ্জিত চাষিরা

চলতি মৌসুমে বরগুনার পান চাষে ভালো ফলন হওয়া সত্ত্বেও চাষিরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশায় পড়েছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে কম দামে প্যান বিক্রি হওয়ায় অনেক চাষি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বরগুনার কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার ছয় উপজেলায় মোট ৪১১ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হয়েছে। আবহাওয়ার অনুকূলে ফলন হয়েছে বাম্পার। তবে বাজারে অস্বাভাবিকভাবে কম দাম এবং সার- কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাষিরা ন্যায্য আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

গত বছর ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে ১৮৪ হেক্টর জমির পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। এতে ৭৩৬ টন উৎপাদন ব্যাহত হয়, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। অনেক চাষি ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করছেন, কিন্তু বাজারে দাম না পাওয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

বরগুনা সদরের হেউলিবুনিয়া গ্রামে দেখা যায়, বরজে পাটকাঠির সঙ্গে ঝুলে আছে চিরসবুজ পান। চাষিরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বরজে কাজ করছেন। বাম্পার ফলন থাকা সত্ত্বেও তারা দামের অস্থিরতার কারণে হতাশ। হরেন সাধু নামের এক চাষি বলেন, “আমরা এই ব্যবসা বংশপরম্পরায় করি। পানের দাম না থাকায় ঋণ নিয়ে চাষ করতে হচ্ছে, যা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

কুমড়াখালী এলাকার মেহেদী হাসান জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষি অধিদপ্তরের আশ্বাস রয়েছে যে মানসম্মত পানের উৎপাদন হলে তা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, “এ বছর জেলার ৩,৬০৪টি বরজে পানের আবাদ হয়েছে। আধুনিক চাষাবাদে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করার কাজ চলছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিশ্বের পাঁচ দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সার আনছে বাংলাদেশ

দেশের কৃষিখাতে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিশ্বের পাঁচটি দেশ থেকে মোট ২ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৮ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, সারগুলোর মধ্যে রয়েছে এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৬০ হাজার টন টিএসপি এবং ৩৫ হাজার টন এমওপি সার। এছাড়া ২০ হাজার টন ফসফরিক এসিড আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকা

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯২.৩৩ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৯২ কোটি টাকা

এছাড়া সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকেও ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। একই দরে সার সরবরাহের বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৯২ কোটি টাকারও বেশি

বাংলাদেশের কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকেও ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার কেনা হবে। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৩৮০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৫৬.২৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫২ কোটি টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

এছাড়া মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুটি ধাপে এই সার আসবে—প্রতিটি ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৪৮ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০২ কোটি টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

অন্যদিকে ডিএপি সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ফসফরিক এসিড কেনারও অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। মেসার্স সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই (ইউএই) থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড আমদানি করা হবে। এই ক্রয়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি, যেখানে প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৭৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে সরকার আগেভাগেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি (Government to Government) চুক্তির মাধ্যমে সার আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা মোকাবিলা করে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহ বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এতে আগাম মৌসুমে সার ঘাটতির কোনো আশঙ্কা থাকবে না।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় কৃষি আধুনিকায়নের জন্য BAMIS মোবাইল অ্যাপ প্রশিক্ষণ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কৃষি খাতের আধুনিকায়নে BAMIS মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কুয়াকাটা হোটেল ডি-মোর ইন্টারন্যাশনালের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

চাইল্ড সেন্টার এন্টিসিপেটরি একশন প্রকল্পের অংশ হিসেবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে সেইভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ। কারিগরি সহায়তা ছিল রাইমসের, আর অর্থায়ন করেছে জার্মান ফেডারেশন ফরেন অফিস। বর্তমানে এই প্রকল্পটি পটুয়াখালী সদর ও কলাপাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. আব্দুল মুহিত। প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক নিলুফার আক্তার বানু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. আমানুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল ইসলাম মজুমদার এবং কলাপাড়া কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ হাসান।

প্রশিক্ষণের সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেইভ দ্য চিলড্রেনের অফিসার সঞ্জিতা হালদার, রাইমসের সিনিয়র অফিসার আবহাওয়াবিদ মোঃ তানজিলুর রহমান এবং অ্যাপস ডেভলপার মোঃ খায়রুল ইসলাম অন্তর।

দিনব্যাপী কর্মশালায় পটুয়াখালী সদর ও কলাপাড়া উপজেলার মোট ৩০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অংশ নেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাগোনারীর প্রকল্প কর্মকর্তা লাইজু আক্তার। সঞ্চালনার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প কর্মকর্তা কিশোর কুমার দাস, মিল অফিসার মারিয়া আক্তার জিন্তু, হিসাব ও মানবসম্পদ কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুবিধাভোগী অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি সাংবাদিকরা।

সভাপতির প্রাণবন্ত ফ্যাসিলিটেশনে এবং অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণটি উৎসবমুখর ও ফলপ্রসূভাবে সম্পন্ন হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তাদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দক্ষিণাঞ্চলে আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদি জমি

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের আবাদি জমি দ্রুত হারে কমছে। উন্নয়ন প্রকল্প, বসতি নির্মাণ, লবণাক্ততা এবং নদীভাঙনের কারণে চাষযোগ্য জমি প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত—ঝড়-ঝঞ্ঝা, খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস—কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলটিকে বহুমুখী ঝুঁকিতে ফেলেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে দক্ষিণাঞ্চলের জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ১৭০ জন। আবাদি জমি কমলেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে আবাদি জমির পরিমাণ ৮ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৮ হেক্টর, আর অনাবাদি জমি প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর।

তবে কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতার কারণে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া গ্রামে প্রায় আড়াই হাজার একর জমি এক যুগ ধরে অনাবাদি রয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করছেন, খালে অনিয়ন্ত্রিত বাঁধ ও কালভার্টের কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে চাষযোগ্য জমি হারাচ্ছে। চরকাউয়ার কৃষক সেলিম মীর বলেন, “খালে একটি কালভার্ট দেয়ার পর থেকেই একরের পর একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে।”

কৃষক সবুজ গাজী এবং আজিজুল ব্যাপারী আরও জানিয়েছেন, বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও গরমে খরার প্রভাব এবং নদীভাঙনের কারণে জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে আবাদি জমি প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর কমেছে, যার জন্য দায়ী করা হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্প, ইটভাটা, বসতি নির্মাণ, লবণাক্ততা ও নদীভাঙন। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, আম্পান এবং জলবায়ুর অনিয়মিত আচরণও কৃষিকে সংকটে ফেলেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, “গ্রামীণ বসতবাড়ির আঙিনায় পতিত জমিও চাষের আওতায় আসছে। যদি আরও উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা যায়, তাহলে একই জমি থেকে ৪-৫ গুণ বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব।”

কৃষি বিভাগ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীতে সবজির বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে এবার মৌসুমি সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে চাষাবাদ করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন বহু কৃষক পরিবার। উৎপাদনের পাশাপাশি বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

জেলার চরাঞ্চলসহ বাউফল, গলাচিপা, দশমিনা, দুমকী, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া ও রাঙাবালি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়েছে। এসবের মধ্যে শীতকালীন সবজির পাশাপাশি বারোমাসি হাইব্রিড বেগুন, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, পটল, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচকলা, পেঁপে, লাউ, টমেটো, গাজরসহ নানা ধরনের শাকসবজি রয়েছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় এ বছর ১৮০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে, উৎপাদন ৩ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন। বাউফলে ২৫০ হেক্টরে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, গলাচিপায় ৩৮০ হেক্টরে ৬ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন, কলাপাড়ায় ৩৫০ হেক্টরে ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন, দশমিনায় ১৬৫ হেক্টরে ২ হাজার ৯৭০ মেট্রিক টন, মির্জাগঞ্জে ১৫০ হেক্টরে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন, দুমকিতে ৭৫ হেক্টরে ১ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙাবালিতে ১২০ হেক্টরে ২১৬ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া ১০৭ হেক্টর জমিতে কাঁচকলা আবাদ হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০ মেট্রিক টন।

বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের পাতারপোল গ্রামের আদর্শ কৃষক মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি বাড়ির আঙিনায় ৫০ শতক জমিতে চাল ও মিষ্টি কুমড়া, পুঁইশাক, কাঁচকলা, পেঁপে, ঝিঙা ও বেগুন চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে প্রায় ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন, আর দুই-তিন মাস এই আবাদ থেকে আয় হবে বলে আশা করছেন। সবজি বিক্রির অর্থেই পরিবারের চাহিদা মেটানো ও সন্তানদের পড়াশোনা চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় শীতকালীন ও বারোমাসি হাইব্রিড সবজি চাষ করছেন তারা। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই জমি ও বাড়ির আঙিনায় আবাদ বাড়াচ্ছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে এসব বাগানের যত্ন নিচ্ছেন।

সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিষ্টি কুমড়া আকারভেদে ছোট ৫০-৮০ টাকা, মাঝারি ৮০-১২০ টাকা এবং বড় ১৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা হালি ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, বাজারে চাহিদা থাকায় সব ধরনের সবজি ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হাট-বাজার থেকে কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, বন্যা ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এবার কিছুটা কম সবজি আবাদ হয়েছে, তবে বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহাদাত হোসাইন জানান, এ বছর জেলায় ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে, উৎপাদন ৩০ হাজার ৬০ মেট্রিক টন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক; বিভিন্ন সেক্টর আধুনিকায়নের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আধুনিকায়ন ও বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩০জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ একটি অনন্য মন্ত্রণালয়, যা আমাদের সমুদ্র ও খামার উভয় ক্ষেত্রকে ধারণ করে। কিন্তু এখনও আমরা গভীর সমুদ্রের সম্পদ ব্যবহারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারিনি। এই খাতটি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে দেশের অর্থনীতির জন্য এটি বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।”

তিনি বঙ্গোপসাগরে সুনির্দিষ্ট জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দেন এবং বলেন, সম্ভাব্য গভীর সমুদ্রের মাছ ধরার অঞ্চল চিহ্নিত করতে হলে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। প্রয়োজনে জাপান বা থাইল্যান্ডের মতো দেশ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণের কথাও জানান তিনি। “এটা শুধু বেশি মাছ ধরার বিষয় নয়, এটা একটা সম্পূর্ণ শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ,” বলেন তিনি।

পশুপালন খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “খাদ্য সংকট, রোগ ও ভ্যাকসিনের উচ্চমূল্য এ খাতে বড় সমস্যা। আমাদের নিজেদের পশুখাদ্য ও ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এতে খরচ কমবে এবং আমরা আত্মনির্ভর হতে পারব।”

তিনি জানান, হালাল মাংসের আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে এবং মালয়েশিয়া এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চামড়া নিয়ে সক্রিয় সিন্ডিকেটের বিষয়ে আগাম প্রস্তুতির তাগিদ দিয়ে ইউনূস বলেন, “একই সমস্যা যেন পুনরায় না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।”

জাতীয় চিড়িয়াখানার অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “চিড়িয়াখানায় বছরের পর বছর ধরে পশুদের অবহেলিত করা হয়েছে। এমনকি তাদের খাবারও কখনও কখনও চুরি হয়ে যায়। এটা অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। অবিলম্বে চিড়িয়াখানার সংস্কার করা জরুরি।”

তিনি দেশের পশুচিকিৎসা ক্লিনিকগুলোকে আধুনিকীকরণের নির্দেশ দেন এবং বলেন, “বহু ক্লিনিক অকেজো বা পুরনো ধাঁচের, কিছু কার্যকরও হচ্ছে না। কৃষক ও পোষা প্রাণীর মালিকদের জন্য এগুলোকে প্রকৃত সহায়তা কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।”

বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো মৌসুমী ফল উৎসব

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দেশীয় মৌসুমী ফল উৎসব। বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম ফল উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে আমাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। আমাদের দেশে প্রচুর দেশীয় ফল হয়, কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম অনেক ফলের সাথেই অপরিচিত। এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা সেসবের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”

উৎসবে আম, কাঁঠাল, আনারস, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, কলা, ড্রাগন, লটকন, করমচা, সফেদা, কামরাঙা, কাউফল, ডেউয়া সহ নানা রকমের দেশীয় ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়।

উপাচার্য আরও বলেন, “বাংলাদেশ প্রকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ দেশের মাটি ও জলবায়ু ফল ও সবজি চাষের জন্য উপযোগী। এসব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং নানা অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।”

তিনি দেশীয় ফলের চাষ ও ভোক্তাপ্রয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আকতার হোসেন এবং পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম রেজাউল ইসলাম শামীম। তারা এ ধরনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

সকলের অংশগ্রহণে উৎসবস্থল এক প্রাণবন্ত পরিবেশে রূপ নেয়। উপস্থিত অতিথিরা দেশীয় ফলের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও অবগত হন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলায় পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন

দেশের সব সুপারশপ এখন শতভাগ পলিথিনমুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং একবার ব্যবহারযোগ্য ১৭টি প্লাস্টিক পণ্য নিরুৎসাহিত করতে নিরবচ্ছিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, “সুপারশপগুলো শতভাগ পলিথিনমুক্ত হয়েছে। পাট, কাগজ ও কাপড়ের মতো পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

পরিবেশ উপদেষ্টা জানান, প্লাস্টিক দূষণ রোধে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেইসঙ্গে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, দেশের নদ-নদী সংরক্ষণে একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ঢাকার চারটি নদী ও ২০টি খালের জন্য ‘ব্লু-নেটওয়ার্ক’ পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। বড়াল, করতোয়া ও সুতাংসহ ১৫টি নদী পুনরুদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কেও তিনি বলেন, “মধুপুর শালবন ও চুনতি বন পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৪৫৯ একর বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। সোনাদিয়া উপকূলীয় বন ও রাজশাহীর দুটি জলাভূমিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।”

এছাড়াও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে ‘নো-ব্রিকফিল্ড জোন’ গঠন এবং পরিবেশ দূষণকারী পুরনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, পরিবেশ মেলা চলবে ২৫ থেকে ২৭ জুন এবং বৃক্ষমেলা চলবে ২৫ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।