ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ছিল জাপা: এনসিপি নেতার অভিযোগ

জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতের দাবিতে সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ দাবি জানান দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আহতদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সঠিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। শহীদ পরিবারের দাবিতে আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাকেও তিনি দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরিফুল ইসলাম আদীব আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া প্রবাসীদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক কিছু লোককে ছাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো ২৫ জন আইনি জটিলতায় রয়েছেন। এ বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপি নেতা অভিযোগ করেন, গুম কমিশনের প্রতিবেদনে গত ১৫ বছরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় সংস্থার সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, এসব ঘটনায় যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ব্যবস্থা নিতে।

তিনি আরও বলেন, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রভাব ছিল এবং জাতীয় পার্টি সরাসরি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে অংশ নিয়েছে। এমনকি জাপার নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালানো হয়েছিল, যা দুই দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য রাখে না। সেই যুক্তিতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত হলে জাপার ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করে এনসিপি।

এছাড়া নারীর আসনে সরাসরি ভোট ও নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নে বয়সসীমা শিথিল করার বিষয়েও সরকারকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।




সিপিএলে সাকিবের ঝড়ো ফিফটি, বড় সংগ্রহ ফেলকন্সের

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন সাকিব আল হাসান। সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে মাত্র ২০ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিলেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফেলকন্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে সংগ্রহ করে ২০৪ রান।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভালো সূচনা পায় ফেলকন্স। ওপেনার আমির জাঙ্গু ও জুয়েল এন্ডুর ৫১ রানের জুটিতে ভীত গড়ে ওঠে। তবে জুয়েল ২৫ রানে ফেরার পর এবং কারিম ঘোর গোল্ডেন ডাকের শিকার হলেও চারে নামা সাকিব ম্যাচের রঙ বদলে দেন।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ২০ বলেই ফিফটি স্পর্শ করেন সাকিব। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে ৬১ রানে থামেন তিনি।

তার সঙ্গে সমানতালে খেলেন ওপেনার আমির জাঙ্গু। ৪৩ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। আর ইনিংসের শেষভাগে ফ্যাবিয়েন অ্যালেনের ১৭ বলে ৩৮ রানের ঝড়ো ব্যাটিং দলীয় সংগ্রহকে ২০০ পেরিয়ে নিতে সাহায্য করে।




ধৈর্যের সুফল পাচ্ছেন সাইফ: কোচ সালাউদ্দিন

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্স করে আলোচনায় এসেছেন অলরাউন্ডার সাইফ হাসান। দুই বছর পর জাতীয় দলে ফিরে বল হাতে নিয়েছেন ২ উইকেট, ব্যাট হাতে করেছেন ৩৬ রান। তবে তাকে নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখাতে বারণ করেছেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

রোববার (৩১ আগস্ট) সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, “অনুরোধ করছি, কাউকে খুব তাড়াতাড়ি আকাশে তুলবেন না, আবার তাড়াতাড়ি নামিয়েও দেবেন না। সাইফ ভালো খেলেছে, প্রত্যাবর্তন করেছে, যা তার দৃঢ় মানসিকতার প্রমাণ।”

সালাউদ্দিন মনে করেন, সাইফ কঠিন পরিস্থিতি থেকে উঠে এসে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করেছেন। “ওর ওপর টেস্ট স্পেশালিস্ট বা সাদা বলের উপযোগী নয়—এমন তকমা ছিল। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে এসে যে চরিত্র দেখিয়েছে, সেটা সবার মধ্যে থাকে না,” বলেন তিনি।

কোচ আরও যোগ করেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম কয়েক ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পরও ধৈর্য ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন। সাইফ গত ৪-৫ বছর ধরে সেই ধৈর্য দেখিয়েছে। এখন তার সুফল পাচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আশা করছি।”

আগামীকাল (সোমবার) সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।




ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে: প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাসে ফখরুল

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশ্বস্ত করেছেন—এমন দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ফখরুল বলেন, “বিএনপি আশা করে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার আলোকে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।”

জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়নি বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

সম্প্রতি লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন—এ নিয়ে জামায়াতের অভিযোগের বিষয়ে ফখরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা যেকোনো দলের প্রধানের সঙ্গে বসার এখতিয়ার রাখেন। এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।”

তিনি আরও জানান, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার বিষয়েও বিএনপি তাদের উদ্বেগ প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছে। ফখরুল বলেন, “এটি অত্যন্ত গর্হিত ও উদ্বেগজনক ঘটনা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন। নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য কোনো মহল এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।”

বিএনপির প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলে আরও ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।




প্রধান উপদেষ্টা : নির্বাচন ছাড়া অন্য বিকল্প ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, “নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। কেউ যদি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজে নিতে চায়, তা হবে জাতির জন্য গভীর বিপজ্জনক।”

রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সময়মতো হবে এবং এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মুনির হায়দার অংশ নেন। জুলাই সনদ চূড়ান্তকরণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েও আলোচনা হয়।

দুর্গাপূজা ঘিরে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “দেশে যেন কোনো গোষ্ঠী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”

জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনায় পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, গত ১৩ মাস ধরে সরকার ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সব দলের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, ড. আসিফ নজরুল ও ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।




যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্ব আজ সন্ধ্যায় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে প্রবেশ করেছে।

রবিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল যমুনায় প্রবেশ করে।

বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার জানান, প্রতিনিধি দলে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

দলীয় সূত্র বলছে, বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এছাড়া প্রশাসনে এখনো বিদ্যমান ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ একটি তালিকাও প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানা গেছে।




শাপলার রক্তেই চব্বিশের চেতনার সূচনা: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও শাপলা স্মৃতি সংসদের সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, শাপলা চত্বরে প্রবাহিত রক্তধারাই চব্বিশের চেতনার ভিত্তি স্থাপন করেছে। তিনি মনে করেন, শাপলার চেতনাকে আগামীর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শাপলা স্মৃতি সংসদের আয়োজিত “শাপলা কেন্দ্রীক বিভিন্ন কাজে অংশীজনের সম্মাননা ও সম্মিলনী–২০২৫” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মামুনুল বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে শাপলার প্রসঙ্গ অনুপস্থিত থাকার দায় শুধু ড. ইউনূসের নয়, পুরো অন্তর্বর্তী সরকারেরও। তিনি আরও জানান, শাপলা স্মৃতি সংসদ শহীদ পরিবারের অভিভাবকত্ব গ্রহণের জন্য শাপলা শহীদ গার্ডিয়ান্স ফোরাম গঠন করেছে।

অনুষ্ঠানে শাপলার ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে বক্তারা বলেন, ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা চললেও শাপলার রক্ত শহীদদের আত্মত্যাগকে অমর করে রেখেছে। ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ পথচলায় এ ত্যাগ প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

আলোচনায় হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ইতিহাস সচেতন প্রজন্ম গড়তে শাপলার শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ অপরিহার্য।

সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, চিকিৎসা সহায়তা, মানবাধিকার রক্ষা ও পুনর্বাসনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আলজাজিরা, দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এবং হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর (২০১৩ সালের কমিটি) প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়।
এছাড়া ২১ জন ব্যক্তিকে পৃথকভাবে ক্রেস্ট ও সম্মাননা দেওয়া হয়। শহীদ মতিউর রহমান, মুক্তার মিয়া ও ইউনুছ আলীর পিতারা বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।




ফেব্রুয়ারিতেই ভোট, সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস অন্তর্বর্তী সরকারের

আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে—এ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচালের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার।

শুধু নির্বাচনের অঙ্গীকার নয়, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাতেও সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে বিবৃতিতে। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানায় সরকার। এ ঘটনাকে শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনার ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়।

হামলার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হয়, পদমর্যাদা বা প্রভাব যাই থাকুক, দোষীরা বিচারের বাইরে থাকবে না। ইতোমধ্যে নুর ও তার দলের আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের বিদেশেও পাঠানো হবে রাষ্ট্রীয় খরচে।

অন্তর্বর্তী সরকার আরও জানায়, নুরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে অমলিন হয়ে থাকবে। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত তার নেতৃত্ব জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

সবশেষে, সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়। বলা হয়, জনগণের আন্দোলনের ফসল রক্ষা করতে ও গণতন্ত্রে সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ঐক্যই এখন সবচেয়ে জরুরি।




লিটনের ব্যাটে ইতিহাস, ফিফটির রেকর্ডে সাকিবের পাশে

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ পেয়েছে সহজ জয়। ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তার ঝড়ো অর্ধশতকে স্বস্তির জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গড়েছেন ব্যক্তিগত বড় অর্জনও।

২৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। মারেন ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫৪ রানে মাঠ ছাড়েন টাইগার অধিনায়ক। এটি তার ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশতক, যা তাকে শীর্ষ তালিকায় থাকা সাকিব আল হাসানের সঙ্গে এনে দিয়েছে সমতায়। এতদিন এককভাবে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ফিফটির মালিক ছিলেন সাকিব।

যেখানে সাকিবকে ১৩টি ফিফটি পেতে খেলতে হয়েছে ১২৯টি ম্যাচ, সেখানে লিটন একই মাইলফলকে পৌঁছেছেন মাত্র ১০৮তম ম্যাচে। বর্তমান ফর্ম ইঙ্গিত দিচ্ছে, খুব শিগগিরই সাকিবকে পেছনে ফেলে এককভাবে রেকর্ড নিজের করে নিতে পারেন এই ওপেনার।

এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস নির্ধারিত ২০ ওভারে করে ৮ উইকেটে ১৩৬ রান। ডাচদের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান তেজার ব্যাট থেকে আসে। বাংলাদেশের হয়ে ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বোলিংয়ে আলো ছড়ান তাসকিন আহমেদ। ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড নৈপুণ্যের কারণে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন এই পেসার।

বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩৯ বল হাতে রেখে। ফলে সিরিজে ১–০তে এগিয়ে যায় লিটনের দল।




লিটনের দ্রুততম ফিফটি, বাংলাদেশের স্বস্তির জয়

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। ব্যাট ও বলের দাপটে টাইগাররা প্রমাণ করেছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব।

টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস নির্ধারিত ২০ ওভারে সংগ্রহ করে মাত্র ১৩৬ রান। তেজার ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ২৬ রান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুর্দান্ত বোলিং করে ২৮ রানে নেন ৪ উইকেট। এছাড়া দলে ফেরা সাইফ হাসানও বল হাতে দেখিয়েছেন কার্যকারিতা, প্রথম ওভারেই তুলে নেন দুইটি উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ঝড় তোলেন ওপেনার পারভেজ ইমন। যদিও ৯ বলে ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন অধিনায়ক লিটন দাস। মাত্র ২৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করে দলকে নিয়ে যান জয়ের দুয়ারে। শেষ পর্যন্ত ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার সঙ্গে সাইফ হাসানও খেলেন ঝোড়ো ইনিংস—১৯ বলে অপরাজিত ৩৬ রান।

১৩৭ রানের লক্ষ্য ১৩.৩ ওভারেই ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ফলে সিরিজে ১–০তে এগিয়ে যায় টাইগাররা।