দুনিয়ার যেসব জিনিস জান্নাতে থাকবে না

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: কোরআন ও হাদিসের আলোকে দুনিয়ার নেতিবাচক বা অপ্রীতিকর যেসব বিষয় জান্নাতে থাকবে না-

কোনো দুঃখ-কষ্ট বা শোক : জান্নাতে কোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক কষ্ট থাকবে না। তাই জান্নাতে কান্না, হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক অশান্তি থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিত হবে না। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৬২)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো কষ্ট বা ক্লান্তি অনুভব করবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৮)

মৃত্যু বা অস্তিত্বের সমাপ্তি : জান্নাতে মৃত্যু থাকবে না; জান্নাতিরা চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তাই দুনিয়ার মতো জান্নাতে মৃত্যুর ভয় বা অস্তিত্ব হারানোর চিন্তা থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।(সুরা : বাইয়িনা, আয়াত : ৮)

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে একটি ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতিরা, তোমরা চিরকাল বেঁচে থাকবে, কখনো মরবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৩৭)।

রোগ-ব্যাধি বা শারীরিক দুর্বলতা : জান্নাতে কোনো রোগ, ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতা থাকবে না। জান্নাতে মাথা ব্যথা, জ্বর, বার্ধক্য বা কোনো শারীরিক অক্ষমতা থাকবে না। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা কখনো অসুস্থ হবে না, বৃদ্ধ হবে না, এবং চিরকাল তরুণ থাকবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৪৫)।

মল-মূত্র বা অপবিত্রতা : জান্নাতে মানুষের শরীর থেকে কোনো অপবিত্র জিনিস (যেমন—মল, মূত্র, ঘাম) বের হবে না।

জান্নাতে কোনো নোংরা বা অপ্রীতিকর গন্ধ থাকবে না; সব কিছু পবিত্র ও সুগন্ধময় হবে। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা যা খাবে, তা তাদের শরীর থেকে মেশকের মতো সুগন্ধি হিসেবে বের হবে।’

 

(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৩৫)

হিংসা, শত্রুতা বা মনোমালিন্য : জান্নাতিরা একে অপরের প্রতি হিংসা বা শত্রুতা পোষণ করবে না। জান্নাতে কোনো মানুষের মধ্যে বিরোধ, কলহ বা মনোমালিন্য থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমরা তাদের হৃদয় থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেব, তারা ভাইয়ের মতো মুখোমুখি বসবে।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৭)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মতো উজ্জ্বল আকৃতি ধারণ করে প্রবেশ করবে আর তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা অতি উজ্জ্বল তারকার মতো রূপ ধারণ করবে। তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মতো হয়ে থাকবে। তাদের মধ্যে কোনোরূপ মতভেদ থাকবে না আর পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৪৬)

ক্লান্তি বা পরিশ্রম : জান্নাতে কোনো ক্লান্তি বা শ্রম থাকবে না। দুনিয়ার মতো কাজের চাপ, শ্রম, বা ক্লান্তি জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো পরিশ্রম অনুভব করবে না।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ৩৫)

অপূর্ণতা বা অভাব : জান্নাতে কোনো চাহিদা অপূর্ণ থাকবে না। দুনিয়ার মতো অভাব, ক্ষুধা, বা অপূর্ণ ইচ্ছা জান্নাতে থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যা চাইবে, তাই পাবে, এবং আমার কাছে আরো বেশি আছে।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ৩৫)।

হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা যা চাইবে, তা তৎক্ষণাৎ পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৫০১)।

অশ্লীলতা বা অসৌজন্য : জান্নাতে কোনো অশ্লীল কথা বা আচরণ থাকবে না। জান্নাতে গালাগাল, অশ্লীলতা, বা অসৌজন্যমূলক কথাবার্তা থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো অশ্লীল বা মন্দ কথা শুনবে না, শুধু শান্তির কথা শুনবে।’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৬২)।

গোপনীয়তার অভাব : জান্নাতে কেউ কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। সবাই নিজ নিজ গোপনীয়তা ও সম্মান উপভোগ করবে। দুনিয়ার মতো গোপনীয়তা লঙ্ঘন বা হস্তক্ষেপ জান্নাতে থাকবে না। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা তাদের প্রাসাদে থাকবে, একে অপরের সঙ্গে শান্তিতে থাকবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৫৯)

শয়তান বা প্রলোভন : জান্নাতে শয়তান বা তার প্ররোচনা থাকবে না। দুনিয়ার মতো শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা পাপের প্রলোভন জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘শয়তান তাদের কাছে পৌঁছতে পারবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪২)

গরম বা ঠাণ্ডার অস্বস্তি : জান্নাতে কোনো চরম আবহাওয়ার অস্বস্তি থাকবে না। জান্নাতে গরম, ঠাণ্ডা বা অস্বস্তিকর পরিবেশ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা সেখানে ছায়ার মধ্যে থাকবে এবং তাদের জন্য ফলমূল ও পানীয় থাকবে।’ (সুরা : মুরসালাত, আয়াত : ৪১-৪৩)

নিষিদ্ধ খাদ্য বা পানীয় : জান্নাতে হারাম খাদ্য বা পানীয় (যেমন—মদ, শূকরের মাংস) থাকবে না। তবে জান্নাতে হালাল ও পবিত্র পানীয় থাকবে, যা মদের মতো মনে হলেও হারাম নয়। জান্নাতে সব খাদ্য ও পানীয় পবিত্র, সুস্বাদু এবং হালাল হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে পবিত্র পানীয় পান করবে, যা তাদের মাতাল করবে না।’ (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ৪৫-৪৭)

অন্যায় বা জুলুম : জান্নাতে কোনো অন্যায়, জুলুম বা অবিচার থাকবে না। দুনিয়ার মতো শোষণ, অত্যাচার বা অবিচার জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জান্নাতে কোনো অবিচার করা হবে না।’ (সুরা : মারয়াম, আয়াত : ৬০)।

জান্নাত এমন একটি স্থান, যেখানে শুধু সুখ, শান্তি ও পবিত্রতা থাকবে। হাদিসে এসেছে : ‘জান্নাতে এমন জিনিস আছে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হূদয় তা কল্পনা করেনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৪৪)।




আবারও হাসপাতালে ভর্তি মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

থাইল্যান্ডে চোখের চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। এই তথ্য বিএনপির মিডিয়া সেল নিশ্চিত করেছে।




আইজিপি মামুনের জবানবন্দির আদ্যপান্ত: ক্ষমতা পিপাসু হিংস্র নারীর প্রতিচ্ছবি শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিবেদন: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার হিংস্রতা এবং দুর্নীতির চিত্র এখন কারো কাছেই আর অজানা নয়। এমনকি দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আল জাজিরাসহ বিভিন্ন বিশ্ব মিডিয়াতেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে।

এই স্বৈরশাসক তার মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে  এখন বিচারের মুখোমুখি। আদালতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার অপ্রকাশিত লোমহর্ষক হিংস্রতা আর শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টার বিশদ বর্ণনা উপস্থাপিত হয়েছে রাজস্বাক্ষী হিসেবে দেয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের লিখিত জবানবন্দিতে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, এই জবানবন্দির সাক্ষ্যগত মূল্য অনেক। মামলা প্রমাণে যথেষ্ট সহায়ক হবে।

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমাতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই বল প্রয়োগ করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে হাজার হাজার মানুষ। এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হাসিনা সরকারের পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জবানবন্দিতে জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে হেলিকপ্টার থেকে নজরদারি, গুলি করা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যেসব নির্দেশনা এসেছিলো সে সম্পর্কে বিস্তারিত বয়ান দিয়েছেন তিনি। এমনকি হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হতাহতের পরেও পুলিশ দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। যা উঠে এসেছে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে।

চাকরিতে কোটা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার রায়ের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। শান্তিপূর্ন আন্দোলন দমাতে ঢাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে এ হামলা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে।

১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় আবু সাঈদ। আবু সাঈদ নিহতের পর আন্দোলন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ধারণ করে। এই আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। সরকার নিজের গদি রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। কিভাবে এই শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিলো এবং কাদের নির্দেশে হয়েছিলো তা উঠে এসেছে আইজিপি মামুনের জবানবন্দিতে।

জবানিতে মামুন বলেছেন, আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে এক পর্যায়ে হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে আন্দোলনকে নজরদারি, গুলি করা ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন পরিকল্পনা করা হয়। মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সরাসরি লেথাল উইপেন -মরণাস্ত্র ও আন্দোলন প্রবন এলাকাগুলোতে এলাকা ভাগ করে ব্লক রেইড পরিচালনার সিদ্ধান্ত সরাসরি রাজনৈতিকভাবে নেয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজে আইজিপিকে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আন্দোলন দমন করার জন্য লেথাল উইপেন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদ লেথাল উইপেন ব্যবহারে অতি উৎসাহি ছিলেন।

ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা এসেছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। যা বাস্তবায়িত হয়েছে আইজিপির মাধ্যমে। চৌধুরী মামুনের জবানবন্দি পড়লে গা শিউরে উঠে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিঘ্নে গুলি চালানোয় বাসা-বাড়িতে থাকা শিশুরাও নিহত হন।

চৌধুরী মামুন তার জবানবন্দিতে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোঃ আলী আরাফাত, জাসদের সাধারন সম্পাদক হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন মারনাস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে নির্মূল করার জন্য শেখ হাসিনাকে পরামর্শ এবং উসকানি দিতেন।

দেশব্যাপী এত অধিক সংখ্যায় মানুষ মারা যাওয়ার পরেও তারা তাদের উসকানি বন্ধ করেননি কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে থামতে বলেননি। সরকারকে বিপথে পরিচালিত করে ও আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করার জন্য আওয়ামী লীগপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার সকলে আগ্রহী ছিলেন।

অ্যাডভোকেট এম. মাসুদ রানা বলেন, জুলাই আন্দোলনে যেসব নৃশংসতা দেখেছি ছাত্র-জনতার উপর, এই জবানবন্দির সঙ্গে তা মিলে যায়।

আইনজ্ঞরা বলছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের  এই জবানবন্দি মামলা প্রমাণে সহায়ক হবে।

ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান তুষার বলেন, এই জবানবন্দির ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীদের অপরাধ প্রমাণে সহায়ক হবে।

জুলাই গণ আন্দোলনে পতন হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের। ৫ আগস্টের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হন চৌধুরী মামুন।  তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। কিন্তু ছাত্র- জনতার হার না মানা আন্দোলনে পতন হয় গত দেড় দশক ধরে দেশে ফ্যাসিজম আর উন্নয়নের মিথ্যে বয়ানের আড়ালে লুটপাটতন্ত্র কায়েমকারী স্বৈরাচার হাসিনার সরকারের।




যে ১০ অভ্যাসে শিশুরা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে পারে

শিশুরা সমাজসেবা করার মাধ্যমে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে পারে। এখানে ১০টি সমাজসেবা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:

০১. টিফিন শেয়ার করা:

শিশুরা সহপাঠীদের সাথে টিফিন শেয়ার করলে দরিদ্রদের সাহায্য করে এবং অতিথি সেবার গুণাবলী অর্জন করে।

০২. অসুস্থ গুরুজনের সেবা করা:
অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের সেবা করা শিশুদের মমত্ববোধ ও সহানুভূতির শিক্ষা দেয়।

০৩. পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা:
শিশুরা নিজেদের আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে তা সদকাস্বরূপ হয়ে যায়।

০৪. পড়ায় পিছিয়ে থাকা বন্ধুদের সাহায্য করা:
শিশুরা তাদের সহপাঠীদের পড়াশোনায় সাহায্য করলে সওয়াব অর্জন করে।

০৫. অন্যকে পানি পান করানো:
পানি পান করানো এক মহান সদকা, যা শিশুরা সমাজসেবায় অংশগ্রহণ হিসেবে করতে পারে।

০৬. ছোটদের প্রতি সদাচার করা:
শিশুরা তাদের ছোটদের সাহায্য করে নেক কাজের মধ্যে থাকবে।

০৭. প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার:
প্রতিবেশীদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে, তাদের সাহায্য করা শিশুর জন্য সমাজসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

০৮. উপকারীর জন্য দোয়া করা:
যে কেউ তাদের উপকার করলে, তার জন্য দোয়া করে শিশুরা সওয়াব অর্জন করতে পারে।

০৯. প্রাণী ও গাছের প্রতি দয়া করা:
গৃহপালিত প্রাণী ও গাছের প্রতি সদয় আচরণ করা শিশুর জন্য সমাজসেবার আরেকটি বড় সুযোগ।

১০. হাসিমুখে কথা বলা:

শিশুরা পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে সদকার সওয়াব অর্জন করতে পারে।

এভাবে শিশুরা সমাজে ভালো কাজের মাধ্যমে মানবিক গুণাবলী গড়ে তুলতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে।




সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘মহার্ঘ ভাতা’ সংস্থানের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে গত ডিসেম্বরে সাত সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি পর্যালোচনা শেষে গ্রেডভিত্তিক ১০ থেকে ২০ শতাংশ ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করে। তখন সরকার পিছিয়ে এলে এখন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ভাতা দিলে আগামী অর্থবছরে বাড়তি কত খরচ হবে, সেই হিসাব-নিকাশও কষছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বৈঠক হবে। সেখানে অর্থ উপদেষ্টা জনপ্রশাসন সংক্রান্ত কমিটির প্রধান হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরবেন। ইতোমধ্যে বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে অর্থ বিভাগ।

সূত্র বলছে, যদি প্রস্তাব অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা হয়, তাহলে সরকারি চাকরিজীবীরা বাড়তি ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পাবেন না।

জানা গেছে, অর্থ বিভাগের খসড়ায় ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের ১০ বা ১৫ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার বিকল্প প্রস্তাবও রয়েছে। প্রথম থেকে দশম গ্রেডে ১০ শতাংশ দেওয়া হলে ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে ১৫ শতাংশ দেওয়া হলে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ ছিল ৮২ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

গত সরকারের আমলে বৈষম্যের শিকার চাকরিজীবীদের কয়েক দফায় পদোন্নতি দেওয়ায় সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বেড়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।

গত জানুয়ারি থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা কার্যকরের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। সে অনুযায়ী উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংকটকালীন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ উদ্যোগের সামালোচনা করেন অর্থনীতিবিদরা। এমন প্রেক্ষপটে তখন মহার্ঘ ভাতা দেওয়া থেকে সরকার সরে এলেও এখন নতুন করে আবারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।




গ্রামীণফোনের ফ্রি ইন্টারনেট পাবেন যেভাবে




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৩০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর সৌদির




আজ টিভিতে যেসব খেলা দেখবেন




উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপ, হতাশ উপদেষ্টা আসিফ




দোয়া চাইলেন শাবনূর