প্রধান শিক্ষকের ব্যাগে মিড-ডে মিলের ডিম-রুটি, তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকের ব্যাগে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ মিড-ডে মিলের ডিম ও রুটি পাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও তাদের নজরে আসে। এরপর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষিক রেশমা আক্তার মিষ্টি বাড়ি ফেরার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটকে তার ব্যাগ তল্লাশি করেন। এ সময় ব্যাগ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দের দুই ডজন ডিম ও ২২টি রুটি উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই প্রধান শিক্ষিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী নিয়মিত আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধে প্রথমে ব্যাগ দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষিক। পরে তাদের চাপে ব্যাগ খুলে দিলে সেখান থেকে সরকারি বরাদ্দের ডিম ও রুটি বেরিয়ে আসে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার আত্মসাতের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিক রেশমা আক্তার মিষ্টি বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের জেরেই আমার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।




ড্রেন নির্মাণকাজে দেয়াল ধস, বরিশালে নির্মাণশ্রমিক নিহত

বরিশাল সংবাদদাতা : বরিশাল নগরীতে ড্রেন নির্মাণকাজ চলাকালে দেয়াল ধসে জোবায়ের ইসলাম (৩০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নগরীর পুলিশ লাইনস এলাকার ওয়াইডব্লিউসি গলিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জোবায়ের ইসলাম ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় কয়েকজন শ্রমিক ড্রেন নির্মাণের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ পাশের একটি পুরোনো দেয়াল ভেঙে পড়তে শুরু করলে তিনজন শ্রমিকের মধ্যে দুজন দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হন। তবে জোবায়ের ইসলাম ভারসাম্য হারিয়ে ড্রেনের ভেতরে পড়ে যান। এ সময় ধসে পড়া দেয়ালের একটি বড় অংশ তার শরীরের ওপর এসে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ড্রেন নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল। কাজ শুরুর আগে দেয়ালের স্থায়িত্ব ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হলে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মো. অভি বলেন, “প্রায় সাড়ে তিন ফুট গভীর করে ড্রেন খনন করা হয়েছিল। দেয়ালটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়নি। কী কারণে হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়ল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই দুর্ঘটনার পর নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন।




ঠিকাদারের অভিযোগে ববি ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাহাত রাব্বি,বরিশাল  :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলমান একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, কাজে বাধা সৃষ্টি এবং ঠিকাদারকে হয়রানির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগকারী ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনু, যিনি বরিশাল মহানগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। গত ১১ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর তিনি এ আবেদন জমা দেন।

লিখিত অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমাইন সাকিব, নেতা আরাফাতসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ পান ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনু। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রকল্পের অংশ বা ভাগ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ মার্চ কাজ চলাকালে একটি সংঘবদ্ধ দল কাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধ এবং দলের ভাবমূর্তির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ মে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে রাস্তার ঢালাইয়ের কাজ চলাকালে পুনরায় কাজের অংশ দাবি করা হয়। এতে অসম্মতি জানালে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদার।

আওলাদ হোসেন মনু দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে ল্যাব পরীক্ষায় ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান সন্তোষজনক এবং ‘এ’ গ্রেড হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবেদনে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি আস্থা রেখে তিনি বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অভিযোগের পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্তর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া অভিযুক্ত আরাফাতের বিরুদ্ধে মাছের পোনা ক্রয় সংক্রান্ত চাঁদাবাজি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক মন্তব্য করায় এক শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। যেখানে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করলেই প্রকৃত বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন,অভিযোগটি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করছি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনুর বিরুদ্ধেও অতীতে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম, প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।




ছাদ থেকে নদীতে পরে কিশোর নিখোঁজ, লঞ্চের সময়সূচি স্থগিত

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে যাত্রীবাহী অভ্যন্তরীন রুটের লঞ্চের ছাদ থেকে পা পিছলে কালাবদর নদীতে পরে মো. রানা (১৭) নামের এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মোল্লা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানী লঞ্চ এমএল লিমা এক্সপ্রেস-৪ এর চলাচলের সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সোয়া সাতটার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম এলাকার কালাবদর নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ রানা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। তিনি মা-বাবার সাথে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে মেহেন্দীগঞ্জের জাঙ্গালিয়ায় গিয়েছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুইদিন আগে জাঙ্গালিয়ার কামরুল মোল্লার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে রানার পরিবার অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গলবার সকালে তারা নিজ এলাকায় ফেরার উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী এমএল লিমা এক্সপ্রেস-৪ লঞ্চে যাত্রা করেন। লঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পরই অসাবধানতাবশত রানা ছাদ থেকে পা পিছলে নদীতে পরে যান। সাঁতার না জানায় মুহুর্তেই তিনি প্রবল স্রোতের টানে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী জাল ও নৌকা নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তবে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে রানাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ কিশোরের সন্ধান মেলেনি।

কালীগঞ্জ নৌ-পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল হক বলেন, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয় জেলেরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর যাত্রী নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। বরিশাল নদীবন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে লঞ্চটি চলাচলের সময় ছাদে যাত্রী বহন করতে দেখা যায়, যা নৌযান পরিচালনার নিরাপত্তা নির্দেশনার পরিপন্থী। যাত্রীবাহী নৌযানের ছাদে যাত্রী বহন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় এবং যাত্রী নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোল্লা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানীর এমএল লিমা এক্সপ্রেস-৪ এর চলাচলের সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।




খাল খননের নামে সারাদেশে লুটপাট চলছে : ব্যারিস্টার ফুয়াদ

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, খাল খনন প্রকল্পের নামে সারাদেশে ব্যাপক লুটপাট চলছে। প্রকৃত প্রয়োজন থাকা খালগুলো খনন না করে ইতোমধ্যে খনন করা খালের পাশেই নতুন করে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে আটটার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা বাজার এলাকায় এবি পার্টির কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, যে খালগুলো অন্য সরকারি দপ্তর ইতোমধ্যে খনন করেছে, সেগুলোর পাশেই আবার নতুন করে খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। অথচ যেসব খাল প্রকৃতপক্ষে খননের প্রয়োজন ছিল এবং যেগুলোর জন্য বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। খাল খনন প্রকল্পের নামে সারাদেশে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য কায়েম করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন এক কিলোমিটার খাল খননে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অনেক প্রকল্পে এক কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন ধরনের কার্ড দিচ্ছে। সেই কার্ড বিতরণের প্রচারের জন্য ৪১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ওই অর্থ দিয়ে সারাদেশে ৪৪ হাজার বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে। সরকার মানুষের জন্য ৫ টাকা ব্যয় করে, আর সেই ৫ টাকার প্রচারে ৫ হাজার টাকা খরচ করে এসব লুটপাটের প্রকল্প। কারণ বিলবোর্ড নির্মাণের কাজ সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই পাবে। এই ৪১২ কোটি টাকা থেকে সরকারি দলের অনেক লোক কোটিপতি হয়ে যাবে।

মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে মাদকের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিটি মহল্লাই মাদকের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একইভাবে প্রশাসনের অসাধু অংশের সহযোগিতাও এতে জড়িত থাকে। তাই এলাকাবাসীকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

মাধবপাশা ইউনিয়ন শাখার আহবায়ক মো. আব্দুল আজিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার জিএম রাব্বী, কর্নেল (অব.) আব্দুল খালেক, মো. মোহেবর, সিদ্দিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন শাখার সদস্য সচিব মো. জামাল আকন।




বগা সেতু ঘিরে উত্তেজনা, সভাস্থলে না গিয়েই ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী

পটুয়াখালীর বাউফলে প্রস্তাবিত বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নির্ধারিত সভাস্থলে না গিয়েই তিনি ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে তিনি বগা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছান। লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই উপলক্ষে নদীর পূর্বপাড়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মন্ত্রীর আগমনের আগেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। সভাস্থলের ব্যানার ও ফেস্টুনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িবহর ফেরি পার হয়ে সভাস্থলের দিকে এগোলে একদল বিএনপি সমর্থক বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালালেও প্রায় ৪৫ মিনিট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় সেতুমন্ত্রী নির্ধারিত সভাস্থলে না গিয়ে ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন এবং পশ্চিমপাড়ের দুমকি উপজেলার চরগরবদী এলাকায় ফিরে যান।

পরে তিনি দুমকি উপজেলার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

সমাবেশে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাউফলের এক শিক্ষার্থীর লেখা চিঠি ও ভিডিও প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর বগা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুতে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের দাবি, বগা ফেরিঘাট এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারে ঝুঁকি ও যানজট বেড়ে যায়। তাই দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী বগা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

উল্লেখ্য, লোহালিয়া নদীর ওপর ‘বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা আগের সরকারের সময় নেওয়া হলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে। নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।

**এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




স্থানীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনীতি শেষ—এটা ভাবার সুযোগ নেই”

নৌ পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেছেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে—এমন ভাবার কোনো সুযোগ নেই। দল যাকে সমর্থন দেবে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করতে হবে।”

মঙ্গলবার (১৯ মে) হিজলা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সততা ও যোগ্যতা নিয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একটি “অদৃশ্য শক্তি” কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের সেই শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে কোনো লাভ নেই। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণের জন্য কাজ করতে হবে এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে মানুষের ক্ষতি হয়।”

সভায় হিজলা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী সেসব বিষয়ে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে তিনি হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় যোগ দেন। সভায় এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনগণের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল, মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দেওয়ান মো. মনির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




যুবদল নেতা হানিফ খান’কে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী

বিশেষ প্রতিবেদক:: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র দুঃসময়ের কান্ডারী, ত্যাগী, আপোষহীন, বারবার কারানির্যাতিত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ‘বরিশালের কৃতিসন্তান’ নিবেদিত প্রাণ ও বরিশাল মহানগরীর ২৫নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব “হানিফ খানকে” কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী।

তরুণদের মাঝে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি মুরুব্বিদের কাছেও গ্রহণযোগ্য অনন্য নাম “হানিফ খান”।

স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন “হানিফ খান”। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সরব উপস্থিতি ইতোমধ্যে জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাকে কাউন্সিলর হিসেবে পেতে চান এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, হানিফ খান সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন।

হানিফ খানের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থান স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন সময় তিনি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে তরুণদের কাছে একজন আদর্শ নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

হানিফ খান কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নাগরিক সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং এলাকার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে হানিফ খান বলেন, “আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসী যদি আমাকে যোগ্য মনে করে এবং তাদের সেবা করার সুযোগ দেয়, তাহলে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো”।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা হানিফ খানকে সম্ভাবনাময় কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।




ববিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কর্মকর্তা বরখাস্ত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আদেশে বলা হয়, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দলের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খেলোয়াড়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে দলটি নির্ধারিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এতে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পরিশ্রম ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জানান, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ায় দলটি সমস্যার মুখে পড়ে। এছাড়া দলীয় সমন্বয় ও প্রশাসনিক সহায়তার অভাব নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন খেলোয়াড়রা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অবহেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও সুশাসনের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অপসারণ হচ্ছে বিতর্কিত সেই পার্ক

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সিঅ্যান্ডবি সড়কে নির্মিত বিতর্কিত শিশুপার্ক অপসারণের কাজ শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের অংশ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে পার্ক নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। বিশেষ করে ঢাকা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের অংশ হওয়ায় এলাকায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। স্থানীয়দের মতে, শুরু থেকেই প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও স্থান নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা গুরুত্ব পায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণ করা হয়। সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার মায়ের নামে পার্কটির নামকরণ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পার্ক নির্মাণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং সড়কের অংশসহ আশপাশের কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, পার্ক নির্মাণের সময় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া সড়কের বাইলেন সংকুচিত হওয়ায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় দুই পাশ থেকে আসা যানবাহনের চাপ সামলাতে গিয়ে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকরা আদালতের দ্বারস্থ হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে নগরবাসীর একাংশ পার্ক অপসারণের দাবি জানাতে থাকেন। গত বছরের বিভিন্ন ঘটনার পর পার্কটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে পুরো স্থাপনা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পার্কের অবশিষ্ট অংশ অপসারণ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়কের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে।

সিটি করপোরেশন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নগর উন্নয়নের নামে যেন কোনো অপরিকল্পিত বা বিতর্কিত স্থাপনা গড়ে না ওঠে, সে বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নগর উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিকল্পনা, পরিবেশ ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫