ছাত্রদলে যোগ দিলেন ইকরামুল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ক্যান্টনমেন্ট থানা পর্যায়ের পরিচিত মুখ ইকরামুল হাছান সাদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার ঢাকায় এক অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। এ সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিক তার হাতে ফুলের মালা তুলে দিয়ে সদস্যপদ প্রদান করেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইকরামুল হাছান সাদ বলেন, ছাত্রদলের নেতৃত্ব, আদর্শ ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আস্থা রেখেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন বলে জানান।

অনুষ্ঠানে ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা ইকরামুলকে শুভেচ্ছা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, তার যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রদলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতেই এমন নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় ও পরিচিত নেতার ছাত্রদলে যোগদান স্থানীয় ছাত্ররাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ তৈরি করেছে।

স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, ইকরামুল হাছান সাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের কাজ ছাত্রদলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নতুন এই রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও দৃঢ় অবস্থান নেবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচন কখনোই শতভাগ নিখুঁত হয় না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচন কখনো পুরোপুরি পারফেক্ট হওয়া খুবই বিরল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবনে যেমন কোনো কিছুই সম্পূর্ণ নিখুঁত হয় না, তেমনি নির্বাচনেও কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা থাকেই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই নির্বাচন জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছে কি না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নানা আলোচনা ও সংশয় থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার মতো বড় কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার আশা করছে খুব শিগগিরই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, এক সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো কিছু মানুষ নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন, তবে বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেই তিনি মনে করেন।

জনমত প্রসঙ্গে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, জনমত যাচাইয়ের জন্য কেবল সংখ্যার দিকে তাকিয়ে থাকলেই হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি ও মানুষের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি বোঝা যায়। তিনি অতীতের নির্বাচনগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, এর আগে যেসব নির্বাচন হয়েছে, যেগুলোকে আমরা নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করি, সেগুলোর প্রতিটিতেই কোনো না কোনোভাবে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছিল।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি ভারতের উদাহরণ তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ভারতে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারত নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে এবং এ নিয়ে তারা গর্বও করে। কিন্তু সেখানেও নির্বাচন পুরোপুরি নিখুঁত হয় না। নানা ধরনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা সেখানেও দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে পারফেক্ট নির্বাচন বাস্তবে খুবই বিরল।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তবে সবাই নয় এবং কেউই এ বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করেননি।

তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশি প্রতিনিধি তাকে বলেননি যে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ করা উচিত বা উচিত নয়, কিংবা এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও দেননি। কেউ কেউ কেবল জানতে চেয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে কি না। জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল থাকলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। সরকার চায়, নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রতিনিধিত্বশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হোক, যেখানে জনগণের মতামতই হবে মূল বিবেচ্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মিরপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরে দুই শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার বিহারীদের ওয়াপদা ৩ নম্বর ভবন থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মাসুম, তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি এবং তাদের দুই শিশু সন্তান সাড়ে তিন বছর বয়সী মিনহাজ ও দেড় বছর বয়সী আসাদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের পল্লবী থানাধীন বি-ব্লকের ওয়াপদা ভবনের একটি টিনশেড বাসায় পরিবারটি ভাড়া থাকত। বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর চারজনের নিথর দেহ দেখতে পায়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোহাম্মদ মাসুম পেশায় রিকশাচালক ছিলেন এবং তার স্ত্রী বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সীমিত আয়ের কারণে পরিবারটি একাধিক সমিতি ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে ঋণ নিয়েছিল। নিয়মিত ঋণের কিস্তি আদায়ের জন্য লোকজন বাসায় আসত, যা পরিবারটির ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে।

স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ থেকে মুক্তি না পেয়ে স্বামী-স্ত্রী চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। তারা প্রথমে শিশু সন্তানদের হত্যা করে পরে নিজেরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফারজিনা নাসরিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি, যেখানে ঋণ ও দারিদ্র্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার এএসআই শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মরদেহগুলো ময়নাতদন্তে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, অভাব ও ঋণের চাপ অনেক পরিবারকে নীরবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনে শিল্পাঞ্চলে ছুটি, একদিন কাজ করে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ

নির্বাচনকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী ১০ তারিখ থেকে এই ছুটি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। যেসব শিল্প-কারখানা এ ছুটি মেনে নেবে, তারা পরবর্তীতে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত একদিন কাজ করিয়ে এই ছুটি সমন্বয় করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর একটি আবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, একদিকে নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি প্রয়োজন হলেও, দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার এই সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিল্প-কারখানাগুলো চাইলে নির্ধারিত ছুটির সুবিধা দেবে এবং পরবর্তীতে মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একদিন অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে তা সমন্বয় করা যাবে। এতে করে শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা থাকবে না, আবার শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রমও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শিল্পখাত ও শ্রমিক উভয় পক্ষের জন্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান। নির্বাচনকালীন সময়ের চাপ সামলে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে জামায়াত আমিরের জনসভা, প্রস্তুতিতে চরম ব্যস্ততা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঝালকাঠি সফরে আসছেন। তার এই আগমনকে ঘিরে জামায়াতসহ জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের উদ্যোগে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় এই নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি জোটভুক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

জামায়াত আমিরের ঝালকাঠি সফরকে সামনে রেখে সোমবার জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করীমসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

সমাবেশকে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন করতে মঞ্চ নির্মাণ, প্রচারণা, জনসংযোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চলছে ব্যস্ত প্রস্তুতি।

জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে ঝালকাঠিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এই জনসভা ঝালকাঠির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কয়েক লাখ নেতাকর্মী ছাড়াও জোটের শরীক দলের নেতা-কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ এই সমাবেশে অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই জনসভায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, বিতর্কিত তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি জামায়াত প্রার্থীর

পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের ভুল তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বললেন, যারা এই কাজে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা এবং শাস্তি দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক, এটি আমরা সকলেই বিশ্বাস করি। কেউ এ সত্য বিকৃত করতে পারবে না।”

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ সাঈদী এ বিষয়ে আরও বক্তব্য রাখেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর শহরের হোটেল নায়োরীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। তিনি জানান, শুক্রবারের সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করবেন এবং এটি জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইভেন্ট হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা আক্তার মিতুসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এছাড়াও পিরোজপুর-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী ড. শামীম হামিদী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক, পৌর আমির ইসহাক আলী খান এবং খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি নাসির উদ্দিন ওসমানী উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্টার্টআপ বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকে ৭ কোটি টাকার চেক দিল এনআরবিসি ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ গঠন ও পরিচালনাকে এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ৭ কোটি ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪২০ টাকার চেক হস্তান্তর করেছে এনআরবিসি ব্যাংক। দেশের স্টার্টআপ খাতকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে নেওয়া এই উদ্যোগে অংশ নিয়ে ব্যাংকটি তাদের সহযোগিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইএসপিডির পরিচালক নওশাদ মুস্তাফার হাতে এই চেক তুলে দেন এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খান। এ সময় এনআরবিসি ব্যাংকের ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের প্রধান তনুশ্রী মিত্র এবং এসএমই ফাইন্যান্সিং ডিভিশনের শেখ আহসানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনআরবিসি ব্যাংক জানায়, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। স্টার্টআপ বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবনী উদ্যোগ বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে এনআরবিসি ব্যাংক শুরু থেকেই সহযোগী ভূমিকা রেখে চলেছে। ভবিষ্যতেও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের প্রসারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্যাংকটি।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের বিনিয়োগ উদ্যোগ দেশের স্টার্টআপ খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে সহায়ক হবে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুই বছর ধরে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ, বিস্ফোরক বার্তায় আলোচনায় ফারিন খান

চিত্রনায়িকা ফারিন খান বড় পর্দার পাশাপাশি ছোটপর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। তবে অভিনয়ের কাজ নয়, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টের কারণে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি। ফেসবুকে ধারাবাহিক স্ট্যাটাসে ফারিন দাবি করেছেন, গত দুই বছর ধরে তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বারা মানসিক নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে আসছেন।

যদিও এসব পোস্টে তিনি কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি মিডিয়া অঙ্গনেরই একজন প্রভাবশালী কর্মী। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে সব তথ্য ও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনবেন।

গত ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফারিন খান লেখেন, দীর্ঘ সময় ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি এবং নিয়মিত নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ওই পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, আর নীরব থাকবেন না এবং নির্দিষ্ট একটি তারিখে সবকিছু প্রকাশ করবেন।

এরপর বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে দেওয়া আরেকটি পোস্টে ফারিন খান বিষয়টিকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরেন। সেখানে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন—জুলুম, অত্যাচার, মিথ্যাচার ও প্রতারণা বড় পাপ, নাকি বিশ্বাস করা ও ভালোবাসাই বড় অপরাধ। তার এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ধর্মীয় পরিচয় বা ভাবমূর্তির আড়ালে থাকা কোনো ব্যক্তি তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।

একই দিনের বিকেলে দেওয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে ফারিন খান আরও স্পষ্ট অবস্থান নেন। এবার তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, যিনি তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, তিনি একজন মিডিয়াকর্মী। পোস্টে ফারিন লেখেন, একজন মিডিয়াকর্মী হয়েও ওই ব্যক্তি কতটা নির্মম ও অন্যায়কারী, তার প্রমাণ তিনি নির্ধারিত তারিখে সামনে আনবেন।

ফারিন খানের এমন একের পর এক বক্তব্যে শোবিজ অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা। কে সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি, কী ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী—এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দর্শক, সহকর্মী ও নেটিজেনদের মধ্যে। অনেকেই ফারিনের সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার অনেকে অপেক্ষায় আছেন ১৫ ফেব্রুয়ারির, যখন তিনি সবকিছু প্রকাশ্যে আনার ঘোষণা দিয়েছেন।

এই ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, মানসিক নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফারিন খানের ঘোষণার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং বিষয়টি কোন দিকে গড়ায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফের কন্যাসন্তানের বাবা হলেন অভিনেতা পলাশ

জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর কাবিলা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিত অভিনেতা ও নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশ আবারও বাবা হয়েছেন। তার স্ত্রী নাফিসা সুস্থ একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নতুন অতিথির আগমনে পলাশের পরিবারজুড়ে বইছে আনন্দের আমেজ।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। হাসপাতাল থেকেই আনন্দের খবরটি নিশ্চিত করেন পলাশ। তিনি জানান, আল্লাহর অশেষ রহমতে মা ও সন্তান দুজনেই ভালো আছেন। আপাতত তারা সবাই হাসপাতালে রয়েছেন।

পলাশ বলেন, ছেলে ও মেয়েকে যেন সুস্থভাবে বড় করতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি। পরিবারের এই নতুন সদস্যকে ঘিরে আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভাসছে তাদের ঘর।

টেলিভিশন পর্দায় জিয়াউল হক পলাশের জনপ্রিয়তা মূলত কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে। কাবিলা চরিত্রে তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দর্শকদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং দেশ-বিদেশে তার পরিচিতি ছড়িয়ে দেয়। এই চরিত্রই তাকে অভিনয়জগতে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়।

ব্যক্তিগত জীবনে ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে নাফিসার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পলাশ। এর পর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তাদের প্রথম পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। সন্তানের নাম রাখা হয় মোহাইমিনুল হক আহান। এবার পরিবারে যুক্ত হলো আরেকটি নতুন মুখ, কন্যাসন্তান।

ক্যারিয়ার শুরুর দিকে ২০১৩ সালে ‘ছবিয়াল’-এর সঙ্গে কাজের মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু করেন পলাশ। এরপর দীর্ঘ সময় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি ইশতিয়াক আহমেদ রোমেলের সহকারী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৭ সালে কাজল আরেফিন অমির সঙ্গে সহযোগী পরিচালক হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর তার ক্যারিয়ারে নতুন গতি আসে।

পরবর্তীতে অভিনয়ে বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠেন পলাশ। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক ও টিভিসি নির্মাণেও নিয়মিত কাজ করছেন এই অভিনেতা-নির্মাতা। নতুন সন্তানের আগমনে ব্যক্তিগত জীবনের এই সুখের মুহূর্তকে তিনি ক্যারিয়ারের প্রেরণা হিসেবেই দেখছেন বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠজনরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বেইমানদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন: জামায়াত আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বেইমান ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখানোর সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা শক্তিগুলোর রাজনীতির সমাপ্তি টানার নির্বাচন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা রাজনীতিকে ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের হাতিয়ারে পরিণত করেছে, এই নির্বাচন তাদের বিদায়ের সময়। রাজনীতি কখনোই দুর্নীতি, লুন্ঠন কিংবা মানুষের সম্মানহানির মাধ্যম হতে পারে না। যারা রাজনীতির নামে এসব করেছে, তাদের আর রাজনীতিতে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতিবাজরা দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের ভালোবাসার শক্তি নিয়ে সেই পাচার করা অর্থ দেশের মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তরুণদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত একটি তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায়। তরুণদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান নয়, বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে চায় দলটি। ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতি, দক্ষ কারিগর ও পাইলট তৈরি করে তরুণদের হাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিস্তা নদী প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজ তা দুঃখের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং উত্তরাঞ্চলকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। দেশের স্বার্থে কোনো ধরনের চাপ বা লাল চোখ সহ্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় উন্নয়ন দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উত্তরাঞ্চল কি অবহেলার জন্য সৃষ্টি হয়েছে? উন্নয়নের সূচনা এই অঞ্চল দিয়েই হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ অনেক দলকে সুযোগ দিয়েছে, এবার জামায়াতকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, জামায়াত সংকটে-সম্ভাবে সবসময় দেশের মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ খুলবে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াত। বিচারব্যবস্থায় কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে না, আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির পথ তৈরি হয়। আগে সম্মান ও ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করতে হবে, তারপর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জামায়াতের অঙ্গীকার। কর্মস্থলে নারীদের নিরাপদ পরিবেশ ও সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চান তিনি।

লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সাতটি সংসদীয় আসনের ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম