বরিশালের একটি বাড়ির ছাদে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী এক আঙুর বাগান, যেখানে চাষ হচ্ছে ২১ জাতের বিদেশি আঙুর। নানা রঙ ও আকৃতির এই আঙুরগুলো এখন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। শখের উদ্যোগ থেকে শুরু হলেও এটি এখন সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ হিসেবে নজর কাড়ছে।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের এক গ্রামে কাপড় ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন নিজের বাড়ির ছাদে এই বাগান গড়ে তুলেছেন। ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে জিও ব্যাগে আঙুরের চারা রোপণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় মাত্র এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল ধরেছে।
আরিফের বাগানে একেলো, বাইকুনুর, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বোসহ মোট ২১টি উন্নত জাতের আঙুর রয়েছে। এসব আঙুরের বেশিরভাগই রাশিয়া, ইউক্রেন ও তুরস্ক থেকে সংগৃহীত জাত বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে গাছে থোকায় থোকায় লাল, সবুজ ও কালো রঙের আঙুর ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। কিছু আঙুর লম্বাটে, আবার কিছু গোলাকার আকৃতির।
তিনি জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আঙুর পুরোপুরি পরিপক্ক হবে এবং বাজারজাত করা সম্ভব হবে। চলতি মৌসুমে প্রায় ২০০ কেজি আঙুর বিক্রির আশা করছেন তিনি।
আরিফ হোসেন বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি শখের বসেই এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। অনলাইনের মাধ্যমে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে নিয়ম মেনে চাষাবাদ করেছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে ক্ষতিও হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেশে এখন ছাদভিত্তিক ও পরীক্ষামূলক আঙুর চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সঠিক পরিচর্যা ও মান বজায় রাখতে পারলে এ খাতে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে আগ্রহীদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান জানান, দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য পুরোপুরি উপযোগী না হলেও নতুন নতুন জাত নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে ফলের মিষ্টতা ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আরিফের ছাদ বাগান দেখতে প্রতিদিন অনেকেই আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে আঙুর চাষের পদ্ধতিও শিখছেন। তরুণদের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে ছাদভিত্তিক আঙুর চাষ ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হতে পারে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





