বরিশালে রেস্তোরাঁ বাড়ছে, নিরাপত্তায় বড় ঘাটতি

Views: 18

বরিশাল নগরীতে দ্রুত বাড়ছে রেস্তোরাঁর সংখ্যা, তবে নিরাপদ খাদ্য ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়েছে উদ্বেগজনক ঘাটতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নগরীতে হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ চালু থাকলেও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তালিকায় স্থান পেয়েছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে উঠছে নতুন নতুন খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ। এর বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় অনুমোদন, স্বাস্থ্যবিধি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নগরীর সদর রোড এলাকার একটি বহুতল ভবনের ওপরের তলায় অবস্থিত দুটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা যায়, বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র অত্যন্ত দুর্বল। প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় রয়েছে মাত্র কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র অন্য নামে থাকলেও সাইনবোর্ড ভিন্ন নামে প্রদর্শন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এক রেস্তোরাঁ মালিক জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে এবং শিগগিরই সব কাগজপত্র সংগ্রহ করা হবে।

একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে নগরীর আরেকটি পরিচিত রেস্তোরাঁয়, যেখানে ছাদে ওঠার পথ অত্যন্ত সরু, যা জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, নিবন্ধিত রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৫৫৫টি হলেও বাস্তবে এই সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মান যাচাই বা গ্রেডিংয়ের আওতায় এসেছে মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠান, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির স্থানীয় এক নেতা জানান, আগে রেস্তোরাঁ চালুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মানা হতো। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই সেসব নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি বলেন, ধাপে ধাপে সব প্রতিষ্ঠানকে গ্রেডিংয়ের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে এবং নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভঙ্গ করলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিবন্ধিত রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”

image_pdfimage_print

Posted on: April 28, 2026 | Author: Chandradip News24