বদরপুর দরবারে লাখো মানুষের ঢল, শেষ হলো ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল

Views: 18

পটুয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী দাওয়াতুল ইসলাম বদরপুর দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হলো ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই বিশাল ধর্মীয় আয়োজন ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। তিন দিনব্যাপী এ মাহফিলে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য ভক্ত, জাকের ও আশেক অংশ নেন। পুরো দরবার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আধ্যাত্মিক আবহে ভরা এক মিলনমেলায়।

শনিবার বাদ ফজর মরহুম পীর সাহেব কেবলাদ্বয়ের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জিয়ারতের পর তা’লিমী জলসা, হালকায়ে জিকির, পবিত্র কোরআন খতম, খতমে তাহলিল, খতমে খাজেগান, খতমে আম্বিয়া, খতমে গাউসিয়া শরীফ, মিলাদ, সালাতু সালাম, দুরুদ ও ক্বেয়াম অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী বয়ান প্রদান করেন বর্তমান পীর সাহেব কেবলা আল্লামা মুফতী শাহ সাইয়্যেদ মুতাসিম বিল্লাহ রব্বানী বদরপুরী।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উডসাইড আহলুল বাইত মিশন জামে মসজিদ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতী ড. সাইয়্যেদ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রব্বানী। উপস্থিত ছিলেন আল্লামা শাহ সাইয়্যেদ আরিফ বিল্লাহ রব্বানী ও আল্লামা মুফতী শাহ সাইয়্যেদ নাসির বিল্লাহ রব্বানী। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী সাইয়্যেদ নাজমুস সায়াদাত আখন্দ। এছাড়া দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান পীর, ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামী বক্তারা বিভিন্ন পর্বে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন।

১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি সারা রাতব্যাপী তা’লিমী জলসা ও ওয়াজ মাহফিল চলে। শেষ দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতে লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে বদরপুর দরবার শরীফ দীর্ঘ এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারক। দরবারের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবে বাঙ্গাল শাহসূফী হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ উসমান গনী বদরপুরী (রহঃ) এ অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও ইসলামের দাওয়াত প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার পূর্বপুরুষদের শিকড় ভারতের বিহার শরীফে প্রোথিত ছিল। প্রায় আড়াইশ বছর আগে তার বংশধররা এ অঞ্চলে এসে ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের কাজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি আল্লামা শাহ সাইয়্যেদ আব্দুর রব চিশতী বদরপুরী (রহঃ) বরিশাল অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তিনি বিভিন্ন মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঢাকার ঐতিহাসিক পাটুয়াটুলি জামে মসজিদে দীর্ঘ ৩২ বছর খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে তার ইন্তেকালের পর তার চার সাহেবজাদা খেলাফতপ্রাপ্ত হয়ে দরবার শরীফের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

আয়োজকরা জানান, শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে দরবার শরীফ সমাজ সংস্কার, শিক্ষা বিস্তার ও আধ্যাত্মিক চর্চায় যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: February 17, 2026 | Author: Chandradip News24