যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিতে ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই) ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই)।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। বর্তমানে যেসব পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, তা কমে প্রায় ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে। এই খবরে ভারতীয় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার লেনদেন চলাকালে বিএসইর প্রধান সূচক সেনসেক্স একপর্যায়ে প্রায় ৩ হাজার ৬৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ৮৫ হাজার ৩২৩ পয়েন্টে পৌঁছায়। দিন শেষে কিছুটা সংশোধনের পর সূচকটি ৮৩ হাজার ৪৭৯ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। বেলা ১১টা পর্যন্ত সেনসেক্স আরও ৬৮ পয়েন্ট বেড়ে ৮৩ হাজার ৮১৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
একইভাবে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি-৫০ সূচকেও উত্থান দেখা গেছে। মঙ্গলবার লেনদেনের একপর্যায়ে সূচকটি ২৬ হাজার ৩০৮ পয়েন্টে উঠলেও দিন শেষে ২৫ হাজার ৭২৭ পয়েন্টে নেমে আসে। বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত নিফটি-৫০ সূচক ৫২ পয়েন্ট বেড়ে ২৫ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা কাটার সম্ভাবনাই এই উত্থানের মূল কারণ। সম্প্রতি ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইঙ্গিত দেন, চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানির বিষয়েও সম্মত হতে পারে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল কেনার সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সেই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দ্রুত বাণিজ্যচুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরোও ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, সরাসরি জরিমানা মওকুফের কথা না থাকলেও চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের ওপর গড় শুল্কহার প্রায় ১৮ শতাংশে নেমে আসবে। এতে করে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে যাবে। কারণ একই সময়ে পাকিস্তানের ওপর শুল্কহার ১৯ শতাংশ, বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় রপ্তানি খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





