আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদ সাঈদী জনগণের জন্য মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি এলাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প কলকারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যা দূর করবেন।
মাসুদ সাঈদী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর-১ আসন অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত। তাই নির্বাচিত হলে তিনি পিরোজপুরকে একটি অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করবেন, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তি স্বাবলম্বী হলে একটি পরিবার স্বাবলম্বী হবে, পরিবার স্বাবলম্বী হলে সমাজ স্বাবলম্বী হবে এবং সমাজ স্বাবলম্বী হলে রাষ্ট্র স্বাবলম্বী হবে।”
পিরোজপুর পৌরসভা হলেও চলাচলের জন্য রাস্তাঘাটের সমস্যা চরম। বিগত সময়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন না হওয়ায় তিনি রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন আনা হবে, যাতে চিকিৎসার জন্য মানুষকে বড় শহরে যেতে না হয়। নদীবেষ্টিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ এবং বাসযোগ্য পিরোজপুর উপহার দেবেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। নেতাকর্মীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, তার দল জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাসী এবং নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।
জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ও তার দল জুলাই সনদকে সমর্থন করে বলছেন, এটি আগামীতে নতুন ফ্যাসিবাদের সৃষ্টি প্রতিরোধ করবে।
মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর-১ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র। রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন ২০১৪ সালে ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে। তিনি বর্তমানে সাঈদী ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান।
পিরোজপুর-১ আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাশীল আসন। এখানে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা অন্তর্ভুক্ত, মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৭৭ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৬৬, যেখানে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার নেই।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





