বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের গণশুনানি নিতে যাচ্ছে। আজ (২৯ জানুয়ারি) আইইবি ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হবে এই শুনানি, যেখানে প্রযোজ্য পক্ষগুলো তাদের মতামত এবং প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।
আগের সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিজস্বভাবে ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করত, বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে। অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির উপর ন্যস্ত করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বিপিসি জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব জমা দেয়। বিইআরসি শুধু জেট ফুয়েলের গণশুনানি করে মে মাসে সেই দাম ঘোষণা করেছে এবং প্রতিমাসে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে এখনো নির্ধারণ হয়নি।
বিপিসি ২০১২ সালের পর বিইআরসির লাইসেন্স নবায়ন না করায় ফার্নেস অয়েলের দাম ঝুলে ছিল। এখন বিইআরসি গণশুনানি করে লাইসেন্স নবায়ন ও দাম নির্ধারণে এগোচ্ছে। ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেশের ডিজেলের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম। প্রধান ক্রেতা হলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশব্যাপী ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১২ মে. টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪.৮৭ শতাংশ স্থানীয় পরিশোধন থেকে এবং ৬৫.১৪ শতাংশ আমদানি করা হয়েছে।
২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের মাধ্যমে বিইআরসি গঠন করা হয়। আইন অনুযায়ী সব ধরণের জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষমতা থাকলেও কার্যত গ্যাস ও বিদ্যুতের দর নির্ধারণে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২৩ সালে আগের সরকার আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দাম সমন্বয়ের সুযোগ যোগ করলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত কার্যহীন হয়ে পড়ে। অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই সংশোধনী বাতিল করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দর নির্ধারণের একক ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছে।
এখনও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা” প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করা হয়। তবে ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য জ্বালানির জন্য এখনও প্রবিধানমালা ঝুলে রয়েছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম. শামসুল আলম বলেন, “বিপিসি একই সঙ্গে বিক্রেতা ও দাম নির্ধারক, এতে জবাবদিহিতা নেই। গণশুনানিতে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতি উঠে আসে, যা ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে সহায়ক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রবিধানমালা না থাকায় অন্যান্য জ্বালানির দাম এখনো সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নীতিগত সমস্যার সৃষ্টি করছে।”
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





