ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ছয় বছর। এই সময়জুড়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছেন হাজারো মানুষ। স্কুলে যেতে শিশুদের পা কাঁপত, অসুস্থ রোগীকে কোলে নিয়ে পার হতে হতো খাল, বাজারে যেতে বৃদ্ধদের চোখে থাকত ভয়। অবশেষে সেই কষ্টের দিন ফুরালো। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ—যা একসঙ্গে যুক্ত করেছে সাতটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা।
মঠবাড়িয়া উপজেলার ধনীসাফা ইউনিয়নের আলগীপাতাকাটা খাল ও মিরুখালী ইউনিয়নের বাদুরা খালের ওপর নির্মিত কাঠের এই দুটি ব্রিজ উদ্বোধন করা হয় সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে। উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক এ আর মামুন খান।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান মিল্টন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব তাহসিন জামাল রুমেল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন মনি ও ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে এই দুটি ব্রিজ ভেঙে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময়েও তা পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে ধনীসাফা ও মিরুখালী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সাতটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াত, বাজার করা কিংবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজও হয়ে ওঠে বিপজ্জনক।
ধনীসাফা ইউনিয়নের আলগীপাতাকাটা খালের ওপর ৭৫ ফুট এবং মিরুখালী ইউনিয়নের বাদুরা খালের ওপর ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজ দুটি ভেঙে থাকায় হাজারো পথচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো বা ভাঙা কাঠের ওপর দিয়ে পার হতেন। অনেক সময় শিশু ও বৃদ্ধরা পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছেন।
এই দুরবস্থার চিত্র স্থানীয় যুবদলের নজরে আসে। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে ইউনিয়নের যুবদল নেতাকর্মীরা নিজেরাই এগিয়ে আসেন। স্বেচ্ছাশ্রমে, নিজেদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় তারা ব্রিজ দুটি পুনর্নির্মাণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আর মামুন খান বলেন,
“ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে সেতু দুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে ছিলেন। বিষয়টি আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নজরে আসে। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুবদল সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়।”
ব্রিজ দুটি চালু হওয়ার পর স্থানীয়দের মুখে ফিরে এসেছে স্বস্তির হাসি। একজন বৃদ্ধ বাসিন্দা বলেন,
“এতদিন মনে হতো আমরা যেন আলাদা হয়ে গেছি। এখন আবার সহজে বাজারে যেতে পারব, নাতি-নাতনিরা স্কুলে যেতে পারবে। এই সেতু শুধু কাঠের নয়, আমাদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত।”
স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া এই দুটি সেতু এখন শুধু পথ নয়—এগুলো হয়ে উঠেছে মানুষের আশার প্রতীক।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





