বরিশালের গৌরনদীতে ভ্যানচালক মঞ্জু বেপারী হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধে মহাসড়কের প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী ও চালক।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এলাকাবাসী এ কর্মসূচি পালন করেন। হঠাৎ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ঢাকাগামী ও বরিশালগামী যানবাহন দীর্ঘ সারিতে আটকে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদঘাটন কিংবা প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
অবরোধে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার হোসেন বলেন,
“একজন নিরীহ ভ্যানচালককে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। অথচ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও অপরাধীরা ধরা পড়ছে না। যদি খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? দ্রুত মঞ্জুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
খবর পেয়ে গৌরনদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন স্থানীয়রা। এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গৌরনদী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান,
“এ ঘটনায় ইতোমধ্যে আমিনুল ইসলাম নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আমরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছি। অবরোধকারীদের আশ্বস্ত করার পর তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে যাত্রী নামিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন ভ্যানচালক মঞ্জু বেপারী। তিনি গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। মঞ্জুর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, এলাকায় বিরাজ করছে ক্ষোভ ও আতঙ্ক।
স্থানীয়দের ভাষায়, মঞ্জু ছিলেন একজন সহজ-সরল পরিশ্রমী মানুষ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে আজ অসহায় তার স্বজনরা। দ্রুত বিচার না হলে এ ক্ষোভ আরও বিস্তৃত হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





