ভোলার বাজারে আকাশছোঁয়া ইলিশের দাম, এক কেজি বিক্রি ২৮০০ টাকায়

Views: 20

ভোলার বাজারগুলোতে শীত মৌসুমে মাছের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও ইলিশসহ নদীর মাছের দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ইলিশ কেনা থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ভোলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাছের জোগান থাকলেও দাম কমার বদলে আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। স্থানীয় নদী থেকেই আহরণ করা হলেও ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ইলিশসহ নদীর মাছের চড়া মূল্য

খুচরা বিক্রেতাদের তথ্যমতে, বর্তমানে বাজারে—

  • ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা
  • ৭০০–৯০০ গ্রাম ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,৪০০ টাকা
  • ৪৫০–৬০০ গ্রাম ইলিশ ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা

অন্যান্য নদীর মাছের মধ্যেও দাম বেশ চড়া। কোড়াল প্রতি কেজি ৮৫০ থেকে ১,০০০ টাকা, আইড় ১,১০০ থেকে ১,৪০০ টাকা এবং নদীর পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

চাষের মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি

অন্যদিকে, শীত মৌসুমে পুকুর ও চাষের মাছের সরবরাহ বাড়ায় এসব মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

  • রুই ও কাতলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা
  • চাষের পাঙ্গাস ১৬০ টাকা
  • চাষের কই মাছ কেজিপ্রতি প্রায় ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে

ক্ষোভ ও হতাশা ক্রেতাদের

বাজারে আসা ক্রেতা হারুন অর রশিদ বলেন, “দেশের বেশিরভাগ ইলিশ ভোলায় পাওয়া যায়, অথচ আমাদেরই এত বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এটা খুবই হতাশাজনক।”

আরেক ক্রেতা সুমাইয়া ইসলাম জানান, আত্মীয় আপ্যায়নের জন্য ইলিশ কিনতে এসে বাজেটের বাইরে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে রুই মাছ কিনে ফিরেছেন।

সাধারণ ক্রেতা মো. মিলন মিঝিমো. হাসনাইন বলেন, “নদীর মাছ কিনতে এলেও দাম শুনে ইলিশ ছোঁয়াই যায় না। কোড়াল বা আইড়ও কিনতে সাধ্যের বাইরে।”

বিক্রেতাদের বক্তব্য

ইলিশ বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, “ঘাট থেকেই আমাদের বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাজারে কেজিতে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

পুকুরের মাছ বিক্রেতা মো. জসিম জানান, “শীতের কারণে চাষের মাছের সরবরাহ বেড়েছে। তাই এসব মাছের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বেশিরভাগ ক্রেতার আগ্রহ নদীর মাছের দিকেই বেশি।”

প্রশাসনের নজরদারি

ভোলার জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা সোহেল বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা অতিরিক্ত দাম নিলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

image_pdfimage_print

Posted on: January 9, 2026 | Author: Chandradip News24