বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রায় চার দশক ধরে একটি ব্যতিক্রমী ও প্রভাবশালী নাম বেগম খালেদা জিয়া। আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও, তার রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি অনন্য দিক হলো— নির্বাচনী মাঠে তিনি কখনও পরাজিত হননি। এই ধারাবাহিক সাফল্যই তাকে রাজনীতিতে ‘অপরাজেয়’ নেত্রী হিসেবে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।
১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া একাধিক আসনে প্রার্থী হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রতিবারই পাঁচটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসনে প্রার্থী হয়ে তিনটিতেই জয় লাভ করেন।
নির্বাচনী সাফল্যের ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন—১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর গঠিত ষষ্ঠ সংসদে তার দ্বিতীয় দফার সরকার ছিল স্বল্পস্থায়ী, প্রায় এক মাসের। তবে ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার নেতৃত্বেই সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঘটে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়িত হয়। ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলে খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠনের মাধ্যমে—জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটকে সঙ্গে নিয়ে—২০০১ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি আবার বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি অংশ নিতে পারেননি। ২০২৪ সালের নির্বাচনও বিএনপি বর্জন করায়, ২০১৪ সালের পর থেকে তিনি নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে ছিলেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একাধিক আসন থেকে অংশ নিতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথা। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই এই আপসহীন নেত্রীর জীবনাবসান ঘটে, যা দেশের রাজনীতিতে এক শূন্যতার সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচনী ইতিহাসে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ও রেকর্ড আজও অনন্য ও আলোচিত।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




