গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনে কারা হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী

Views: 11

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে  চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে এখন পর্যন্ত দুটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। এই দুটি আসন হলো বন্দর-পতেঙ্গা ও চন্দনাইশ

২০০৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনটি গঠিত হয়েছে। এর আগে এলাকাটি অন্য আসনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে ব্যবসায়ীদেরও। কারণ, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টমস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ আমদানি-রপ্তানিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এলাকাটিতে অবস্থিত।

ফাঁকা এই দুই আসনে কারা প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে নানামুখী আলাপ-আলোচনা।

চট্টগ্রাম১১ (বন্দরপতেঙ্গা)

বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করলেও এই আসনে জনসংযোগ করছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ও বিএনপির আন্তর্জাতিক–বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু চৌধুরী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘এক পরিবার থেকে এক প্রার্থী’ ঘোষণা দেওয়ায় ইসরাফিল খসরুর ভাগ্যে দলীয় মনোনয়ন জুটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পরপর চারবার এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাবার গোছানো আসনে দলীয় প্রতীক নিয়ে তাই প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ইসরাফিল খসরু। জানতে চাইলে ইসরাফিল খসরু প্রথম আলোকে বলেন, ‘১২ বছর ধরে এলাকায় কাজ করছি। বাকিটা দলের নীতিনির্ধারকদের বিষয়।’

চট্টগ্রাম১৪ (চন্দনাইশ সাতকানিয়া আংশিক)

এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক মহসিন জিল্লুর করিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মিজানুল হক চৌধুরী ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। তাঁরা সবাই এলাকায় নিয়মিত জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, আসনটি দলের কাউকে দেওয়া হোক। কিন্তু জোটের জন্য দলের নীতিনির্ধারকেরা আসনটি ফাঁকা রেখেছেন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জোট হলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি এলডিপির জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অথবা তাঁর ছেলে ওমর ফারুক নির্বাচন করবেন। ওমর ফারুক এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলডিপির সঙ্গে বিএনপির কথাবার্তা চলছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, দেখা যাক।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাবা (অলি আহমদ) আর নির্বাচন করবেন না ঠিক করেছেন, তবে এলাকার লোকজন চাইছেন তিনি নির্বাচন করুক। এ অবস্থায় কী হয়, সেটি এখনো ঠিক বলা যাচ্ছে না।’

দুটি আসন ফাঁকা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান বলেন, ‘জোটের কারণে দলের নীতিনির্ধারকেরা একটু সময় নিচ্ছেন।’

 

image_pdfimage_print

Posted on: December 5, 2025 | Author: motiulislam