গুরুতর শারীরিক জটিলতায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সোমবার রাতেই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
কেন এই ঘোষণা দেওয়া হলো
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১’-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যে কাউকে ভিভিআইপি মর্যাদা দিতে পারে। সেই আইনের অধিকারেই খালেদা জিয়াকে বিশেষ গুরুত্বের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ মর্যাদা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসএফের হাতে ন্যস্ত হয়।
ভিভিআইপি হলে যেসব সুবিধা পাওয়া যায়
এই আইনে এসএসএফের দায়িত্ব হলো—
- ভিভিআইপি ব্যক্তির নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনা করা।
- সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি বা ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
- প্রয়োজনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই আটক করার ক্ষমতা।
- জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণনাশী আক্রমণ প্রতিহত করতে অস্ত্র ব্যবহারেরও আইনি অনুমোদন রয়েছে।
এসএসএফ আইন দেশের যে কোনো স্থানে সমানভাবে কার্যকর।
কে কে সাধারণত ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হন
দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা সমমর্যাদার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ মর্যাদা পান। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন দিয়ে অন্য কাউকেও এই তালিকায় যুক্ত করতে পারে—যেমনটি করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্ষেত্রে।
চিকিৎসাজনিত বর্তমান অবস্থা
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহুদিন ধরেই হৃৎপিণ্ড, লিভার ও কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
২১ নভেম্বর বাসায় ফেরার পর তার শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে গেলে দুই দিন পর জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তিনি নিউমোনিয়াসহ কয়েকটি জটিল অবস্থার সম্মুখীন।
সোমবার দুপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান জানান,
“খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আইসিইউ–ভেন্টিলেশন—যাই বলা হোক, পরিস্থিতি খুবই নাজুক। তার জন্য জাতির কাছে দোয়া চাই।”
পূর্ব অভিজ্ঞতা
২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার স্বল্প সময়ের জন্য খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকেও ভিভিআইপি নিরাপত্তার আওতায় এনেছিল।





