চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : মুশফিকুর রহিম প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন আজ। তার নামের সঙ্গে মিশে আছে অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম আর দেশের ক্রিকেটের উত্থান-পতনের ২০ বছরের ইতিহাস। ব্যাটে মনোযোগ, ঘাম ঝরানো অনুশীলন আর জয়ের পর মুষ্টিবদ্ধ উল্লাস—এগুলোই তার ট্রেডমার্ক। বাংলাদেশ যখন টেস্ট খেলুড়ে জাতি হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করেছে, তখনই দেশের ক্রিকেটে তিন যুগ—আশরাফুল-হাবিবুলের সময় থেকে সাকিব-তামিম যুগ, আবার নতুনদের উত্থান—সবই দেখেছেন তিনি। সমালোচনা, ব্যর্থতা, দায়িত্ব—সবকিছুকে ছাপিয়ে সামনে এগিয়েছেন একটাই বিশ্বাস নিয়ে: কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সাফল্য নেই।
২০০৫ সালে কিশোর বয়সে লর্ডসে অভিষেক। অনেকেই সন্দিহান ছিলেন, কিন্তু কোচ ডেভ হোয়াটমোর শুরুতেই বুঝেছিলেন—এই ক্ষুদে কিপার-ব্যাটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবেন। সেই পথ ছিল চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় ডেল স্টেইনকে ছক্কা হাঁকানো কিংবা ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় ৫৬—সবই প্রমাণ করেছে, মুশফিক চাপের সময়ে ডেলিভার করেন তার সেরা পারফর্মেন্স।
মুশফিকের ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর। ২০১৩ সালে গলে বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করে তিনি শুধু ইতিহাসই লেখেননি, সতীর্থদের আত্মবিশ্বাসের পারদও চড়িয়ে উপরের স্তরে। মমিনুল হক মনে করেন, ওই ইনিংসই বাংলাদেশ ব্যাটিংকে নতুন উচ্চতায় তুলেছে।
তবে ক্যারিয়ারে মুশফিকের নেতৃত্ব ছিল উত্থান-পতনে ভরা। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় যেমন ছিল, তেমনি ছিল হতাশার দিনও। তবু ব্যাট হাতে দিনকেদিন শাণিত হয়েছেন তিনি। নেতৃত্ব ছাড়ার পরই এসেছে তার অধিকাংশ সেঞ্চুরি।
২০১৯ সালে উইকেটকিপিং থেকে সরে দাঁড়ানো ছিল আরেকটি সাহসী সিদ্ধান্ত। ব্যাটিংয়ের প্রতি পুরো মনোযোগ দেয়ায় বেড়েছে তার কনভার্শন রেট। ব্যাটিং গড় ৩৭ থেকে ৪৫-এ উঠেছে। হাবিবুল বাশারের ভাষায়—এ সিদ্ধান্তই মুশির ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অধ্যায়কে দীর্ঘ করেছে।
মুশফিকের সাফল্যের বড় রহস্য তার অনুশাসন।
সতীর্থদের কাছে তিনি নিবেদন, নিয়মানুবর্তিতা আর পেশাদারিত্বের জীবন্ত উদাহরণ।
মমিনুল বলেন, ‘ওনার লাইফস্টাইলই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।‘
দীর্ঘদিনের বন্ধু তামিম ইকবালের মতে, নিজের খেলাকে বোঝার ক্ষমতাই মুশফিককে আলাদাভাবে সফল করেছে।
শততম টেস্ট খেলা কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং মুশফিকের অদম্য মানসিকতা, নিজেকে বারবার প্রমাণ করা এবং দেশের ক্রিকেটের জন্য এক অনুসরণীয় পথ তৈরি করার প্রতিদান। এই অর্জন যেন এক ‘আয়রন ম্যান ট্রায়াথলন’ শেষ করার গৌরব!





