নভেম্বরে বন্ধ হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম: তথ্য উপদেষ্টা

Views: 30

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নভেম্বরের শেষ নাগাদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রিসভার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। রোববার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত “মিট দ্য রিপোর্টার্স” অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আভাস দেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “বিভিন্ন সংস্কার কমিশন থেকে মোট ২৩টি বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব সরকারের কাছে এসেছে। এর মধ্যে ১৩টি প্রস্তাব ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। তবে নভেম্বরে ক্যাবিনেট ক্লোজ হয়ে যাবে, তাই যা করার আগামী মাসের মধ্যেই শেষ করতে চাই।”

তিনি জানান, অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হয় না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ‘ওয়ান হাউজ, ওয়ান মিডিয়া পলিসি’ এবং ‘সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইন’ শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর লাইসেন্স প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, “অতীতে বেশিরভাগ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে। তারা এখনো এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ধরে রেখেছেন এবং বিদেশে বসে মুনাফা তুলছেন।”

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মাহফুজ আলম বলেন, “কনটেন্ট নির্মাণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশনা আইসিটি বিভাগের অধীনে যাবে। ইউটিউবসহ অনলাইন কনটেন্টগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথভাবে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।”

এ সময় তিনি আরও জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সাংবাদিকদের জন্য একটি ন্যূনতম বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হবে, যা সরকারি নবম গ্রেডের কাছাকাছি হতে পারে। তিনি বলেন, “যেসব পত্রিকা মালিক ন্যূনতম বেতন দিতে পারবেন না, তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং বিজ্ঞাপনের হারও কমিয়ে দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “গণমাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ন্যায্য বেতনের কোনো বিকল্প নেই। কিছু সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতার ভূমিকা হতাশাজনক। যারা নৈতিক সাংবাদিকতা করেন না, তাদের কারণে পুরো পেশার মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো নিউজ পোর্টাল গজিয়ে উঠেছে। অনেকেই অন্যের লেখা চুরি করে সংবাদ প্রকাশ করছে। যখন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখন বলা হয় সরকার গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ করছে—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন গণমাধ্যম টিকবে না।

দেশের গণমাধ্যম খাতে বর্তমানে যেভাবে নীতিমালা সংস্কার, বেতন কাঠামো নির্ধারণ ও নৈতিক সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: October 27, 2025 | Author: Chandradip News24