পটুয়াখালী পৌরসভা ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে শহরের বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি। বুধবার বিকেলে ঝাউবন এলাকার ফোর লাইন সড়কে এই মানবিক উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর সচিব মাসুম বিল্লাহ, পৌর মেডিকেল অফিসার ডা. এস. এম. একরামুল নাহিদসহ পৌরসভার কর্মকর্তারা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’-এর সভাপতি নওশিন আফরোজ হিয়া, রেস্কিউ অ্যান্ড রিলিজ উইং প্রধান আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী আবদুল কাইয়ুম, গলাচিপা টিম লিডার সোহেল হোসেন রাসেল, কলাপাড়া সহকারী টিম লিডার ইউসুফ রনি এবং দুমকী টিম লিডার সাইফ আহমেদ তনময়।
কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পৌর এলাকার নিউমার্কেট, পুরান বাজার, সদর রোড, বাসস্ট্যান্ড, ঝাউবন, তিতাস মোড়, লঞ্চঘাট ও সবুজবাগ মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বেওয়ারিশ কুকুরদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে।
পৌরসভা ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, এক মাসব্যাপী এই অভিযানে এক হাজারেরও বেশি কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকা প্রদানের পর প্রতিটি কুকুরের শরীরে লাল রঙের চিহ্ন দেওয়া হচ্ছে, যাতে একই কুকুরকে পুনরায় টিকা না দেওয়া হয়।
পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধে এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’-এর সহযোগিতায় শহরের সব বেওয়ারিশ কুকুরকে ধীরে ধীরে টিকার আওতায় আনা হবে, যাতে নাগরিকরা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে থাকতে পারেন।”
প্রাণীপ্রেমীদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু প্রাণীদের সুরক্ষা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা জানান, পটুয়াখালীতে এমন মানবিক কর্মসূচি প্রাণীকল্যাণে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে শহরে জলাতঙ্কের ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং মানুষ-প্রাণীর সহাবস্থান আরও নিরাপদ হবে।





