কুয়াকাটায় নতুন চমক: খরগোশ বারবিকিউর স্বাদে মাতছে পর্যটকরা

Views: 33

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দিন দিন বাড়ছে খাবারের বৈচিত্র্য। পর্যটকদের চাহিদা মাথায় রেখে এবার ফিস ফ্রাই মার্কেটে যুক্ত হয়েছে এক নতুন ও ব্যতিক্রমী পদ—খরগোশ বারবিকিউ। কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটের “ফ্রেন্ডস বারবিকিউ এন্ড ফিস ফ্রাই” দোকানে চালু হয়েছে এই অভিনব আয়োজন।

সুস্বাদু মসলা ও বিশেষ বারবিকিউ সসে মেরিনেট করা খরগোশের মাংস কয়লার আগুনে ধীরে ধীরে সোনালি করে পুড়িয়ে পরিবেশন করা হচ্ছে গরম পরোটা বা নানরুটির সঙ্গে। এই অনন্য স্বাদের খরগোশ বারবিকিউ ইতোমধ্যেই পর্যটকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

এখন পর্যন্ত কুয়াকাটার ফিস ফ্রাই মার্কেটে শামুক, স্কুইড, অক্টোপাস, লবস্টারসহ শতাধিক সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যেত। তবে খরগোশের মাংসের বারবিকিউ এবারই প্রথম যোগ হলো তালিকায়।

খরগোশ বারবিকিউ খেতে আসা পর্যটক রাসেল হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় খরগোশ খাওয়ার প্রচলন নেই। তবে ঢাকায় একবার খাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কুয়াকাটায় ফিস ফ্রাই মার্কেটে খরগোশ বারবিকিউ পাওয়া যাচ্ছে দেখে কৌতূহল থেকেই খেতে এলাম। ইসলামি শরিয়তেও এর কোনো বাধা নেই। স্বাদে দারুণ লাগল, নরম ও রসালো।”

কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটের সভাপতি মো. কাওছার মুসুল্লি বলেন, “এই ফিস ফ্রাই মার্কেট আমার উদ্যোগেই শুরু। এখানে সামুদ্রিক মাছ ছাড়াও অনেক সময় পর্যটকদের অনুরোধে হাঁস, মুরগি, গরু, খাসির মাংসের বারবিকিউ পরিবেশন করা হয়েছে। তবে খরগোশ বারবিকিউ এবারই প্রথম। পর্যটকদের আগ্রহ ভালো থাকলে আমরা এটি নিয়মিত চালু রাখব।”

টোয়াক প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “খরগোশের মাংস পুষ্টিকর এবং স্বাদে অনন্য। কুয়াকাটার রেস্তোরাঁগুলোতে এতদিন এটি দেখা যেত না। তাই এটি পর্যটকদের জন্য একদম নতুন অভিজ্ঞতা। যারা সমুদ্রের ঢেউয়ের মাঝে ব্যতিক্রমী কিছু খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে।”

ফ্রেন্ডস বারবিকিউ এন্ড ফিস ফ্রাই দোকানের উদ্যোক্তা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “আমি ও আমার বন্ধু মিলে কিছু ভিন্ন কিছু করার চিন্তা করছিলাম। বহু খোঁজাখুঁজির পর সিদ্ধান্ত নিই খরগোশ বারবিকিউ শুরু করব। এক সপ্তাহে প্রায় ৬-৭টি খরগোশ বারবিকিউ বিক্রি হয়েছে। পর্যটকরা পছন্দ করছেন, সামনে আরও ভালো সাড়া আশা করছি।”

এদিকে প্রাণীপ্রেমী সংগঠন এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী-এর সদস্য বাইজিদ মুন্সি বলেন, “আমরা সব সময় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করি। তাই শুরুতে শুনে কিছুটা খারাপ লেগেছিল। তবে কুয়াকাটায় যেসব খরগোশ ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো গৃহপালিত। সেক্ষেত্রে এটি আইনসঙ্গত।”

মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী শিকার, বিক্রি বা দখলে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে কুয়াকাটায় যে খরগোশগুলো বারবিকিউ করা হচ্ছে, সেগুলো গৃহপালিত। তাই এসব প্রাণী বিক্রি ও ভক্ষণে কোনো আইনগত বাধা নেই।”

নতুন এই পদকে ঘিরে এখন কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটে ভিড় জমাচ্ছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। কেউ আসছেন স্বাদের খোঁজে, কেউ আবার কৌতূহল মেটাতে। সবার মুখে এখন একটাই কথা—
“কুয়াকাটায় এসে খরগোশ বারবিকিউ না খেলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: October 15, 2025 | Author: Chandradip News24