ভোলায় নির্বাচনী উত্তাপ: বিএনপিতে দ্বন্দ্ব, আত্মবিশ্বাসী জামায়াত

Views: 16

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ভোলা এখন নির্বাচনী উত্তেজনায় সরগরম। বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ভোলার রয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ আসন — ভোলা-১ (সদর), ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন), ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) এবং ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা)।
প্রতিটি আসনেই হেভিওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছে নির্বাচনী সমীকরণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোলার রাজনীতিতে এবারও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে জামায়াত একক প্রার্থী দিয়ে মাঠে নামায় তুলনামূলক আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে।

ভোলা-১: নজরুল বনাম নবী

এ আসনে আলোচনায় রয়েছেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম নবী আলমগীর এবং হায়দার আলী লেলিন
ইসলামী আন্দোলনের ওবায়েদ বিন মোস্তফা ও বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, “জনগণ এখন বুঝে গেছে কে দেশের বন্ধু, কে শত্রু। আমরা জনগণের পাশে ছিলাম ও থাকব, তাই দাঁড়িপাল্লায় ভোটই প্রমাণ করবে সত্যিকারের দেশপ্রেম।”

ভোলা-২: একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিএনপিতে টানাপোড়েন

এই আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম ইব্রাহিম খলিলসহ অন্তত চারজন প্রার্থী সক্রিয়। অপরদিকে জামায়াতের সাবেক জেলা আমির মাওলানা ফজলুল করিম একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে।
তিনি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি বা সহিংস রাজনীতিতে নেই, জনগণের আস্থা নিয়েই নির্বাচনে যাচ্ছি।”

ভোলা-৩: মাঠে আলোচনায় নিজামুল হক নাঈম

এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (অব.) আলোচনায় থাকলেও, জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা নিজামুল হক নাঈম এখন ভোটারদের নজরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গণসংযোগ করে ভোটারদের আস্থা অর্জন করছেন তিনি। ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুসলেমউদ্দীন ও খেলাফত মজলিসের মাওলানা রফিকুল ইসলামও প্রার্থী হচ্ছেন।

ভোলা-৪: সক্রিয় বিএনপি, প্রস্তুত জামায়াত

ভোলা-৪ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনজন—সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদল নেতা নূরুল ইসলাম নয়ন ও এডভোকেট সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া
জামায়াতের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল এরই মধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোনো ব্যক্তির নয়, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে। জনগণ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে আমাদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করবে।”

ভোটারদের দৃষ্টি জামায়াতের দিকে

ভোটারদের আলোচনায় এখন স্পষ্ট — ভোলায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের প্রার্থীরা সামাজিক কর্মকাণ্ড, মানবিক সহায়তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ সংগঠন গড়ে তোলায় ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, বিএনপির ভেতরের বিভাজন ও একাধিক প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তাদের অবস্থান দুর্বল করছে।

ভোটারদের মতে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি সবাই দিচ্ছে, তবে জামায়াতের সামাজিক নিরাপত্তা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, বেকারত্ব নিরসন ও শিল্প-কারখানা স্থাপনের অঙ্গীকারই এবার জনগণের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: October 9, 2025 | Author: Chandradip News24