আবাসিক সংকটে জর্জরিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

Views: 29

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১২ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে দেশের ৩৪তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। বয়স ১৫ বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠতে পারেনি বরিশাল বিভাগের একমাত্র সাধারণ এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী প্রায় ১০ হাজার ৫০০ জন। কিন্তু আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ২ হাজার ৩১ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আবাসন সংকটে ভুগতে হচ্ছে। বর্তমানে চারটি হল রয়েছে—দুটি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হল। তবে প্রতিটি হলে ধারণক্ষমতার অন্তত দ্বিগুণ শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।

প্রতিটি হল মূলত ২৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য নির্মিত হলেও বাস্তবে একেক রুমে চারজনের বদলে আটজন পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। ফলে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, পর্যাপ্ত টেবিল-চেয়ার ও আলমারির অভাবে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

হলগুলোর অবস্থা:

  • বিজয় ২৪ হল: ৫৪৪ আসন, তবে দ্বিগুণ শিক্ষার্থী থাকেন।
  • শেরে বাংলা হল: মোট ৫৩৬ আসন।
  • তাপসী রাবেয়া বসরী হল: ৪৫০ আসন।
  • কবি সুফিয়া কামাল হল: ৫৩০ আসন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সিট বরাদ্দে বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। অনেক স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয়ে সিট পাওয়া সহজ হলেও প্রকৃত দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সিট পান না।

একজন শিক্ষার্থী নোমান হোসেন বলেন— “আমি অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছি। কয়েকবার আবেদন করেও সিট পাইনি। অথচ অনেকে জুনিয়র হয়েও রাজনৈতিক প্রভাব বা শিক্ষকদের রেফারেন্সে সিট পাচ্ছে। এমনকি মাস্টার্স শেষ করেও সিট বরাদ্দ পাচ্ছেন কেউ কেউ।”

শিক্ষার্থীরা আবাসিক ফি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগে দ্বৈত সিটের জন্য দিতে হতো ১৪২৭ টাকা ও একক সিটের জন্য ২৪০০ টাকা। শিক্ষার্থীরা প্রস্তাব করেছিলেন বছরে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা নির্ধারণ করার। তবে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে দ্বৈত সিটের জন্য ২৩৭৫ টাকা নির্ধারণ করে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়ামিন বলেন— “নতুন ফি কাঠামো শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা ফি জমা দেব না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম স্বীকার করেছেন যে আবাসিক সংকট প্রকট। তিনি জানান, নতুন কয়েকটি হল নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ফি কাঠামো কমানোর বিষয়টি অর্থ কমিটি ও সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন আবাসিক হল দ্রুত নির্মাণ হলে সংকট কিছুটা হলেও কমবে এবং আবাসিক জীবনে বৈষম্য ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: September 28, 2025 | Author: Chandradip News24