জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত টানা ২২ দিন দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমসহ ছোট-বড় সব নদ-নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে।
মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে মা ইলিশ ডিম ছাড়তে নদীতে আসতে শুরু করেছে। ফলে জেলেদের জালে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্বিনের দ্বিতীয় পক্ষ থেকে কার্তিকের প্রথম পক্ষ পর্যন্ত সময়টি ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় প্রায় ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়ে।
বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, নদীতে ছোট আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে এবং তাদের অধিকাংশের পেটে ডিম রয়েছে। বড় আকারের ইলিশ কিছুটা পরে আসা শুরু করবে।
স্থানীয় জেলে রিয়াজ মোল্লা ও মোতালেব হোসেন জানান, গত কয়েক দিন ধরে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি বেড়েছে। আগে যেখানে দিনভর জাল ফেলে কয়েক শ টাকার মাছ মিলত, এখন কয়েক হাজার টাকার মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তবে বড় আকারের ইলিশ কম ধরা পড়ছে, আর অধিকাংশ ছোট ইলিশের পেটে ডিম রয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কিত তথ্য জানিয়ে বরিশালের পোর্ট রোডের আড়তদার আকতার হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। প্রতিদিন এখন দেড়শ থেকে দুই শ মণ মাছ বেচাকেনা হচ্ছে। তিনি জানান, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭৫০ টাকায়, এক কেজি আকারের ইলিশ ২ হাজার ১৫০ টাকা, আর ৩০০ গ্রাম আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা দরে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব নদ-নদীতে মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ করে চাঁদপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাটসহ ২০ জেলার নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ হবে। এই সময়ে বরফকলও বন্ধ থাকবে।
অন্যদিকে খুলনা, কুষ্টিয়া, নড়াইল, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জসহ ১২ জেলার নদ-নদীতে শুধু ইলিশ মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতেই এই নিষেধাজ্ঞা। সরকারের আশা, এ উদ্যোগে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





