উপকূলীয় অঞ্চলে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে

Views: 21

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলায় ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের ওপর, যা বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা ফসলের উৎপাদন বাড়াতে অধিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। বর্ষার সময়ে এই বিষাক্ত পদার্থগুলো বৃষ্টির পানির সঙ্গে নদী, খাল ও পুকুরে মিশে যাচ্ছে। এতে পানির প্রাণবৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে এবং মাছের প্রজনন ও জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে।

ফসলি জমিতে রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে স্থানীয় মাছ যেমন—পুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, পাবদা, টাকি, চিংরি, বাইম, বেদা, গজার, বেলে মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকা এখন আগের মতো দেশীয় মাছের জন্য পরিচিত নয়।

স্থানীয় মৎস্যজীবী আবদুল করিম বলেন, “এক সময় খাল-বিল নদী নালায় মাছের প্রাচুর্য ছিল। এখন ফসলি জমিতে হালচাষের পরও দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না, প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।”

কনকদিয়া ইউনিয়নের মৎস্যজীবী কেরামত আলী জানান, “আগে জাল মারলে প্রচুর মাছ ধরা যেত। এখন আর তা সম্ভব নয়। দেশীয় মাছ রক্ষা না করলে এগুলো হারিয়ে যাবে।”

স্থানীয়রা মনে করেন, দেশীয় মাছের সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যের সঙ্গে দেশীয় মাছের গভীর সম্পর্ক। সচেতনতা বৃদ্ধি, জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও জলাশয় রক্ষা না করলে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাবে।”

রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, “ফসলি জমিতে রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে মাছ সংরক্ষণে কাজ করছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “অধিক উৎপাদনের আশায় রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের ক্ষতি হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের জৈব পদ্ধতির মাধ্যমে কীটনাশক কমানোর পরামর্শ দিচ্ছি।”

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিলন জানান, “মাটিতে জৈব সার ব্যবহার করে রাসায়নিক কমানো সম্ভব। এটি জমির উর্বরতা বজায় রাখে এবং পরিবেশ রক্ষা করে।”

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার পেছনে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার, জলাশয়ের সংকট, মৎস্য অভয়াশ্রম কম থাকা, মৎস্য আবাস ভূমির চ্যানেল বন্ধ থাকা, অবৈধ জাল ও কিটনাশক ব্যবহারের মতো কারণ রয়েছে। আমরা কারেন্ট জাল ও চায়না জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল মনে করছে, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা না করলে উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

image_pdfimage_print

Posted on: September 18, 2025 | Author: Chandradip News24