বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) হোস্টেলে গভীর রাতে ঢুকে ছাত্রীদের ওপর হামলায় দুই জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করে পাঁচ জন বহিরাগতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
আইএইচটি কর্তৃপক্ষ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন সহকারী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন হোস্টেল সুপার ডা. দীপান্বিতা পপি, প্রভাষক ডা. ফিরোজ কিবরিয়া এবং ডা. রাকিবুর রহমান। তাদের আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে, আইএইচটি ক্যাম্পাসে। আহত ছাত্রীরা হলেন রেডিওলজি অনুষদের সানমুন জাহান বুশরা ও রেডিওথেরাপি অনুষদের মুক্তা আক্তার। আহত মুক্তা আক্তারকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আনসার সদস্য মো. ইব্রাহিম জানান, কিছু ব্যক্তি ছাত্রীর মা ও নানি পরিচয় দিয়ে হোস্টেলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। বাধা দেওয়ার পরও তারা গেট ধাক্কা দিয়ে প্রবেশ করেন। এরপর ৪–৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে ছাত্রী হোস্টেলে ঢুকে বুশরা ও মুক্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আহত শিক্ষার্থী বুশরা বলেন, “সোনিয়া নামের একজন ছাত্রীর হোস্টেলে প্রবেশের কারণে আমরা বাধা দিয়েছি। রাত ১২টার দিকে তার মা ও বহিরাগত যুবকরা জোরপূর্বক ঢুকে হামলা চালায়, এতে আমরা আহত হই।”
আইএইচটি অধ্যক্ষ ডা. মলয় কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, সন্ধ্যা ৬টার পর হোস্টেলে প্রবেশের কোনো নিয়ম নেই। হামলার ঘটনায় কলেজ প্রশাসন বুধবার সকালেই জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, “তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী অভিযুক্ত ছাত্রীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কলেজ প্রশাসন বাদী হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী দেবে, এছাড়া আহত শিক্ষার্থীরা চাইলে থানায় মামলা করতে পারবেন।”
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় আটক ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। অভিযোগ প্রাপ্ত হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





