ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে ব্রিটেন: সেপ্টেম্বরে আসতে পারে ঘোষণা

Views: 40

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট নিরসনে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, “ইসরায়েল যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে জাতিসংঘের মঞ্চে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য।” তার ঘোষণায় স্পষ্ট, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কৌশলগত ও মানবিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যা ইসরায়েলের ভূমিকায়ও পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছে ব্রিটেন।

চারটি মূল শর্ত

যুক্তরাজ্য যে চারটি শর্ত সামনে রেখেছে সেগুলো হলো:

  • গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি
  • গাজায় ত্রাণ সরবরাহে আরও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা
  • পশ্চিম তীর দখল ও সংযুক্তির পরিকল্পনা থেকে ইসরায়েলের সরে আসার প্রতিশ্রুতি
  • দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি, যার মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হবে

স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, “ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কোনও নীতিগত সমতা নেই। হামাসকে অবশ্যই জিম্মিদের মুক্তি দিতে, অস্ত্র ত্যাগ করতে ও গাজা শাসনে অংশ না নিতে হবে।”

রাজনৈতিক চাপ ও মানবিক উদ্বেগ

ব্রিটেনের পূর্ববর্তী সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলেছে, ‘সঠিক সময়’ ও ‘উপযুক্ত প্রেক্ষাপটে’ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। স্টারমারের সরকারের অবস্থানও ছিল একই। তবে গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও দিন দিন বাড়তে থাকা চাপ—বিশেষ করে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ—স্টারমারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকার আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজায় ত্রাণ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং ইসরায়েল শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বাধ্য হবে।

কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য ফল

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জুলি নরম্যান বলেন, “ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ প্রতীকী হলেও কূটনৈতিক ও নৈতিকভাবে এর গুরুত্ব অনেক।” ব্রিটেনে বর্তমানে ফিলিস্তিনের একটি প্রতিনিধি মিশন রয়েছে। স্বীকৃতি দেওয়া হলে সেটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে পরিণত হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে ব্রিটেন পশ্চিম তীরে একটি নিজস্ব দূতাবাস স্থাপনও করতে পারে।

তবে এই স্বীকৃতির ফলে ব্রিটেন-ইসরায়েল সম্পর্ক নতুনভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেরুজালেমে নিযুক্ত ব্রিটেনের সাবেক কনসাল জেনারেল ভিনসেন্ট ফিন। তিনি বলেন, “ব্রিটেন চাইলে ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলের বসতিগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে, যা প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্ত হামাসকে পুরস্কৃত করার শামিল, যা ২০২৩ সালের হামলায় নিহতদের প্রতি অবিচার।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে কোনও মন্তব্য না করলেও পরে সাংবাদিকদের বলেন, “ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হামাসকে পুরস্কৃত করা, যা ঠিক নয়।”

স্পষ্ট বার্তা: ফিলিস্তিনিরা হামাস নয়

ব্রিটেনের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এই সিদ্ধান্তকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “এটি হামাসকে পুরস্কার দেওয়ার বিষয় নয়। এটি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি, বিশেষ করে গাজার শিশুদের জন্য নেওয়া একটি মানবিক সিদ্ধান্ত।”

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা বাড়বে এবং পশ্চিমা বিশ্বের নীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

image_pdfimage_print

Posted on: July 30, 2025 | Author: Chandradip News