জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে ভারত কিংবা পাকিস্তানপন্থি কোনো রাজনীতি চলবে না। বাংলাদেশপন্থাই হবে একমাত্র রাজনীতির পথ। তিনি বলেন, “এক সময় পাকিস্তানপন্থিদের পুনর্বাসন করা হয়েছিল, এখন আবার মুজিববাদ ও চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন চলছে। তবে বাংলাদেশে মুজিববাদ ও চাঁদাবাজদের রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না।”
সোমবার (১৪ জুলাই) বরগুনা সদর রোডে প্রেসক্লাব-সংলগ্ন এলাকায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরাই সেই তরুণ যারা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিলাম। বিগত ১৬ বছর ধরে দেশে এক ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল, যারা গুম, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সব অপকর্ম করেছে। সেই স্বৈরাচারী সরকার থেকে দেশকে মুক্ত করতে ছাত্র-তরুণরা রাজপথে নেমেছিল।”
তিনি অভিযোগ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজরা আবারও ক্ষমতা দখল করেছে। আমরা যে ব্যবস্থার পতন চেয়েছিলাম, সেই ব্যবস্থাকেই আবার টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।”
গণতন্ত্র ও সুশাসনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কার চাই, গণহত্যার বিচার চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার আওতায় আনতে চাই। বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার ফিরে আসবে না।”
সোহাগ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বরগুনার সন্তান সোহাগকে ঢাকায় নির্মমভাবে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার পেছনে রয়েছে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা ও একটি দলের চাঁদাবাজদের প্রশ্রয়। দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে হবে।”
বরগুনার অবহেলিত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বরগুনাবাসী দুর্যোগ, নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে প্রতিনিয়ত টিকে থাকছে। কিন্তু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে বরগুনায় তেমন কিছুই হয়নি। লবণাক্ততা কৃষিকে ধ্বংস করছে, সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বঙ্গোপসাগর আমাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জায়গা। বরগুনাকে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উপকূল সুরক্ষা, নদী রক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনীম জারা, দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।





