মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে প্রশ্ন তুললেন তারেক রহমান: “খুনিকে কেন ধরা হচ্ছে না?”

Views: 121

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সংঘটিত ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি খুন করেছে, তাকে এখনো কেন গ্রেফতার করা হয়নি?”

শনিবার (১২ জুলাই) ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে গুলশানের হোটেল লেকশোরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নিহতের সঙ্গে হয়তো যুবদলের যোগসূত্র ছিল, তবে হত্যাকারীকে অন্য জায়গা থেকে আনা হয়েছিল বলে তথ্য পেয়েছেন তারা। কিন্তু তার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং এখনও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে কখনোই বলা হয়নি অমুককে ধরা যাবে না। বরং আমরা সব সময় বলে এসেছি, অন্যায় করলে যে-ই করুক, আইনের আওতায় তার বিচার হতেই হবে। কিন্তু প্রশাসন কেন খুনিকে ধরছে না? তাদের কী ভয় আছে?”

“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তো বিএনপি চালায় না”—সরকারের সমালোচনা

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তো বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করে না। সরকারের অধীনেই তারা কাজ করে। তাহলে কেন সরকার খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না? তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ব্যর্থতায় প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জুলাই সনদ জমা দেওয়ার দাবি

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বিএনপি তিন মাস আগেই ‘জুলাই সনদ’ সংক্রান্ত লিখিত প্রস্তাব পেশ করেছে। তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নেই, কিন্তু আমাদের মতামত চাওয়া হয়েছিল, আমরা স্পষ্টভাবে তা লিখিতভাবে জমা দিয়েছি।”

ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত, স্বৈরাচারের ভূতের উপস্থিতি

তিনি বলেন, “আজও ষড়যন্ত্র চলছে এবং নতুন করে শুরু হচ্ছে।” প্রশাসনের ভেতর এখনো ‘স্বৈরাচারের ভূত’ লুকিয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “যদি আমরা সচেতন না হই, এই দেশ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।”

বিচারের প্রতিশ্রুতি ও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের আহ্বান

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। এটি বিএনপির নৈতিক প্রতিশ্রুতি।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কারো একার দেশ নয়। এটি ২০ কোটি মানুষের। তাই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে চিন্তা করতে হবে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে।”

স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিভিন্ন দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, তখন অনেক রাজনৈতিক দল বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, “আজও দেখা যায় কিছু দল বাংলাদেশে বসে অন্য দেশের গান গায়। কিন্তু বিএনপি সর্বদা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করে।”

ক্ষমতায় গেলে ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ১৪২ জনের পরিবার সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং তাদের কষ্ট, স্মৃতি ও বিচার চাওয়ার কথা তুলে ধরেন।

image_pdfimage_print

Posted on: July 12, 2025 | Author: Chandradip News