জুলাই জাগরণের দিনলিপি -৭ জুলাই

Views: 58

৩৬ জুলাইয়ের বাংলা ব্লকেডে সারাদেশ অচল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ‘বাংলা ব্লকেড’ নামের নতুন কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ৭ জুলাই, আন্দোলনের সপ্তম দিনে সারাদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্ররা। দাবির কেন্দ্রে ছিল—সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সংস্কার এবং সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে চূড়ান্ত সমন্বয়।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমাদের চার দফা দাবি ছিল। এখন থেকে আমাদের দাবি একটাই—সব গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে।”

এদিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে কোটাপদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের দাবি জানায় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। জোটের সমন্বয়ক রাগীব নাঈম বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অস্বাভাবিক বহাল যেমন বৈষম্য তৈরি করছে, তেমনি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কোটা বাতিলও সামাজিক বৈষম্য বাড়াবে।”

বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, চানখাঁরপুলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ ও বোরহানউদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে অবরোধে অংশ নেন। আগারগাঁওয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন বিকেল ৪টায়।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানের ফলে রাজধানীতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে রাত ৮টায় তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে আপাতত সরে দাঁড়ান। নাহিদ ইসলাম জানান, “ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘট চলবে। বাংলা ব্লকেড কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।”

এদিন রাজধানীর বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল ১১টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করেন। চট্টগ্রামে চবি ও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ২ নম্বর গেট মোড়ে অবস্থান নেন, পুলিশের বাধার মুখে পরিকল্পনা বদল করে সেখানে যান চলাচল বন্ধ করেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে, এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে অবস্থান নেন।

এছাড়াও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের নিজ নিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন।

এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জানান, যৌক্তিক সংস্কার ও সমন্বয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: July 7, 2025 | Author: Chandradip News24