বরিশাল, ৩ জুলাই—বানারীপাড়ার করপাড়া গ্রামের দিনমজুর মো. ফারুক হাওলাদার আজ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। মুখে একটি সামান্য আঘাত থেকে শুরু হওয়া যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ ক্যানসারে রূপ নিয়েছে। চিকিৎসা খরচ যোগাতে গিয়ে পরিবার হারিয়েছে সর্বস্ব—বিক্রি করে দিয়েছে ভিটেমাটি, নিয়েছে ঋণ, আজ তারা নিঃস্ব। চিকিৎসাও থেমে গেছে।
ঘটনার শুরুতে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে গেলে ছুটে আসা একটি রশি ফারুকের মুখে লাগে। এরপর মুখে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে প্রথমে ভর্তি করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে। মুখে অপারেশন করা হলেও ক্যানসার সেখান থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এখন মুখের এমন অবস্থা যে, তাকে শুধুই ভাতের মার বা সুজি খাওয়ানো সম্ভব।
তার স্ত্রী মুকুল বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে। কিছুই আর হাতে নেই। এখন আর চিকিৎসাও হচ্ছে না। সরকারের কাছে সাহায্য চাই, দেশের মানুষ যদি পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে আমার স্বামীকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।”
বড় ছেলে আল মামুন বলেন, “আমি নিজেও দিনমজুর। বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষ সঞ্চয়টুকুও নেই। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য দরকার ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা, যা আমাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।”
এলাকার তরুণ সমাজসেবক কাইয়ুম হাওলাদার বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, এলাকার যুবকরা সামান্য সাহায্য দিচ্ছে। কিন্তু এই সাহায্যে কিছুই হচ্ছে না। দেশবাসী যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো ফারুক কাকার জীবন বাঁচানো সম্ভব।”
বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ জানান, “ঘটনাটি জানার পর আমরা বানারীপাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আবেদন এলে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে।”
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ফারুক হাওলাদারের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবার যদি যথাযথভাবে আবেদন করে, তাহলে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
মানবিক এ বিপর্যয়ের সময়ে সমাজের হৃদয়বান মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সহানুভূতি ও সহায়তা এখন ফারুক হাওলাদারের একমাত্র আশ্রয়।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম





