পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুনিয়ারি গ্রামে দীর্ঘদিনের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা কেটে খাল তৈরি করে এক বয়োবৃদ্ধসহ সাতটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগী ৮০ বছর বয়সী মোকলেসুর রহমান জানান, প্রায় তিন দশক ধরে তার পরিবারসহ প্রতিবেশীরা যে পথ দিয়ে যাতায়াত করতেন, সেটি জোরপূর্বক দখল করে বন্ধ করে দিয়েছেন প্রতিবেশী ছিদ্দিক হাওলাদার ও তার ছেলেরা। শুধু পথ বন্ধই নয়, সেখানে বেড়া দিয়ে গাছ লাগিয়ে চলাচলের একেবারে অযোগ্য করে ফেলা হয়েছে এবং রাস্তার মাঝখান কেটে খাল খনন করা হয়েছে যাতে কেউ আর ওই পথে পা রাখতে না পারে।
মোকলেসুর রহমানের মেয়ে আসমা আক্তার বলেন, “এই রাস্তা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ নেই। এখন বাধ্য হয়ে পাশের একটি খাল পেরিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। আমাদের ঘরের শিশুরা কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর যাতায়াত সুবিধার্থে সরকারি ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় রাস্তাটি উন্নয়ন করা হয়েছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিন ধরে পথটি সকলের ব্যবহারে উন্মুক্ত ছিল। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিপক্ষ পরিবারটি জোরপূর্বক জমি দখল করে পথটি নিজেদের বলে দাবি করতে শুরু করে।
অভিযুক্ত ছিদ্দিক হাওলাদার বলেন, “ক্রয়সূত্রে ওই জায়গা আমার। আমি ওদের আর চলতে দিব না। ওরা যেভাবে পারে চলাচল করুক।”
তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মাজেদ মিয়া জানান, “ছিদ্দিক মিয়ার ক্রয়কৃত জমির ওপর দিয়েই রাস্তা গেছে ঠিকই, কিন্তু মোকলেসুর রহমানের পরিবারসহ অন্যরা প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই পথ ব্যবহার করছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস করা হলেও ছিদ্দিক আপসে রাজি হয়নি।”
বর্তমানে ওই এলাকার সাতটি পরিবার খাল ডিঙিয়ে বাজারঘাটসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে বের হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভোগজনক। শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে বড় ধরনের সামাজিক উত্তেজনা ও জনদুর্ভোগ দেখা দিতে পারে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





