দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’সহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পুনরায় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ের ভিত্তিতে এবং নির্বাচন কমিশনের ২৪ জুনের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। এর আগে, ১ জুন আপিল বিভাগ জামায়াতের নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেয় এবং ৪ জুন নির্বাচন কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, “এই জয় ন্যায়বিচারের, এই জয় গণতন্ত্রের। দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই করেছি। আজকের এই অর্জনে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।”
তিনি গণমাধ্যম, আইনজীবী এবং দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা জাতির বিবেক। সংবাদ মাধ্যমে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকতার মহত্ত্ব অটুট রেখেছেন।”
গোলাম পরওয়ার আরও জানান, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামী বৈধভাবে নিবন্ধিত হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর এক আদালতের আদেশে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াত দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, “২০০৯ সালের একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে যে আদেশে আমাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল, তা ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। আজকের রায় এবং প্রজ্ঞাপন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের স্বীকৃতি।”
সংক্ষিপ্ত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের বিষয়টি দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে গঠনমূলক রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।





