ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে গতকাল (১৫ জুন) পাঠানো নোটিশে আগামী ২২ জুন সকাল ১০টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য টিউলিপ সিদ্দিককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নোটিশটি তার ঢাকার মোহাম্মদপুরের জনতা হাউজিং সোসাইটি, ধানমন্ডি ও গুলশানের একাধিক ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গুলশান ও ধানমন্ডি থানার মাধ্যমেও নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ মে একই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। সে সময় রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ খসরুজ্জামান ও সর্দার মোশাররফ হোসেনকেও তলব করা হয়। তবে ওই সময় টিউলিপসহ কেউই দুদকের ডাকে সাড়া দেননি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঢাকার গুলশানে এক বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি ইজারা চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের মধ্যে এ জমি হস্তান্তর বা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।
তবে ১৯৭৩ সালে বিচারপতি ইমাম হোসেন আমমোক্তারনামার মাধ্যমে মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার কাছে প্লটটি হস্তান্তর করেন। এরপর ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এ প্লটের ওপর ভবন নির্মাণ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং মামলাও শুরু হয়। মামলার চলমান অবস্থায় রাজউকের আইন উপদেষ্টারা ইস্টার্ন হাউজিংকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন দেয়। অথচ কোম্পানিটি লিজ হোল্ডার বা বৈধ প্রতিনিধি ছিল না।
এভাবে রাজউকের আইন উপদেষ্টাদের সহায়তায় ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ইস্টার্ন হাউজিংকে আমমোক্তার দিয়ে ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ঘুষ হিসেবে টিউলিপ সিদ্দিক একটি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০বি, ৪০৯, ১৬১, ১৬২, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(ক), ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুদকের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এর আগে পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। ওই মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি চার্জশিট দেওয়া হয়।
এই ছয় মামলার মধ্যে একমাত্র টিউলিপ সিদ্দিক পূর্বাচলের কোনো প্লট বরাদ্দ না নিয়েও আসামি হয়েছেন।





