পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে আজ বুধবার সৌদি আরব গেছেন আরও ২ হাজার ২৪৮ জন হজযাত্রী। তাঁদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যাত্রা করেছেন ১ হাজার ৪৪৬ জন এবং সৌদি এয়ারলাইন্সে ৮০২ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ অফিসের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. লোকমান হোসেন।
হজ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৯ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম ফ্লাইটটি সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর আগে ২৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে হজ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের সফল হজযাত্রার জন্য শুভকামনা জানান।
হজযাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং উন্নত সেবা নিশ্চিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবার গ্রহণ করেছে বেশ কিছু আধুনিক উদ্যোগ। স্থাপন করা হয়েছে ‘হজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ এবং চালু করা হয়েছে হজ সংক্রান্ত একটি মোবাইল অ্যাপ। এর মাধ্যমে হজযাত্রীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা সহজেই পেতে পারবেন।
চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদি আরবের সৌদিয়া এয়ারলাইন্স সমানভাবে ৫০ শতাংশ হজযাত্রী বহন করবে, যার সংখ্যা প্রতি পক্ষের জন্য ৪৩ হাজার ৫৫০ জন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি সংস্থা ফ্লাইন্যাস এয়ারলাইন্স ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০ শতাংশ হজযাত্রী সরাসরি মদিনায় এবং ৮০ শতাংশ মক্কায় গমন করবেন।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবারের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ জুন। হজ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে ৯৪১টি হজ এজেন্সি, যারা দেশজুড়ে হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণের কাজ পরিচালনা করছে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের সাধারণ প্যাকেজ ১-এর খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা এবং প্যাকেজ ২-এর খরচ ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। অপরদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ প্যাকেজের সর্বনিম্ন ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনা হবে আরও সুসংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর।
এ বছর হজযাত্রীদের যাত্রা থেকে মক্কা-মদিনায় অবস্থান এবং ফেরার প্রতিটি ধাপে তাদের সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং এজেন্সিগুলোর প্রশিক্ষিত প্রতিনিধি দল।





