হাদী হত্যা: মূল অভিযুক্ত মাসুদের অস্বাভাবিক লেনদেনে নজরদারি

Views: 24

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে—মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবগুলোতে ১২৭ কোটির বেশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২১৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক রেকর্ড ও লেনদেনের চেষ্টার তথ্যও পাওয়া গেছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী সিআইডি পৃথকভাবে অর্থপাচারের অনুসন্ধান শুরু করেছে, যা ঘটনাটিকে শুধু হত্যাকাণ্ড নয় বরং বড় ধরনের অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদী। ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তকারী টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিসিটিভি ফুটেজ, গুলির খোসা, ফরেনসিক নমুনা, নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে চলেছে। হত্যার পেছনে পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক, অর্থায়ন ও অস্ত্রব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে।

তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে গ্রেফতার অভিযানের সময় একাধিক ব্যাংকের চেকবই উদ্ধার করা হয়, যেখানে কোটি কোটি টাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও কিছু লেনদেন সম্পন্ন হয়নি, তথাপি রেকর্ড অনুযায়ী এগুলোর পরিমাণ প্রায় ২১৮ কোটি টাকা। একই সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।

মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এখনো পলাতক থাকলেও তার পরিবারের সদস্যসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে—আলামত ধ্বংস ও পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে। গোয়েন্দারা মনে করছে, এ ঘটনায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়নসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্তাধীন।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং তার সাথে বিপুল আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা—রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নির্বাচনী পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। অনুসন্ধানে সিআইডি জানিয়েছে—ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট চক্রের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য ও অর্থের উৎস উদ্ঘাটনে বহুমুখী টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা হত্যার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অপরাধী যত প্রভাবশালী হোক—গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মানিলন্ডারিং এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম
image_pdfimage_print

Posted on: December 22, 2025 | Author: Chandradip News24