দেশের স্বর্ণবাজার আবারও দামের ঊর্ধ্বগতির মুখে। স্থানীয় বাজারে খাঁটি তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জুয়েলারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন দামের তালিকা ঘোষণা করেছে। তাদের সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে এক হাজার টাকার বেশি দাম বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের নতুন করে হিসাব-নিকাশে ফেলতে পারে।
রবিবার রাতে বাজুস থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দামের ওঠানামা চলমান। এর প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও পড়ছে। সম্প্রতি খাঁটি (পিওর) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বাধ্য হয়েই দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দামের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে নতুন যুক্ত মূল্য এক হাজার পঞ্চাশ টাকা। এর ফলে স্বর্ণ ক্রেতাদের জন্য বাজেট কিছুটা বাড়তে হবে। বিশেষ করে যারা বিয়েসহ বড় কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য নতুন মূল্য বেশ চাপের কারণ হতে পারে। তবে প্রয়োজনীয়তা ও বাজার চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
এদিকে, বিভিন্ন ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের দাম নতুন তালিকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দুই লাখ আট হাজার টাকার বেশি নির্ধারিত হয়েছে। একইভাবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কিছুটা কম হলেও তা এখনো উচ্চমুখী। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম অন্যান্য ক্যারেটের তুলনায় নিম্ন হলেও সেটিতেও বৃদ্ধি রয়েছে।
স্বর্ণের দামে হঠাৎ বৃদ্ধি অনেক ভোক্তার কাছে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য এই বাড়তি মূল্য ক্রয়ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়বে নাকি কমবে, তা অনেকটাই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
অন্যদিকে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের দামেই রুপা বিক্রি হচ্ছে। ফলে যারা কম দামে অলংকার খুঁজছেন, তাদের জন্য রুপা এখনো স্বস্তির জায়গা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ২২ ক্যারেট রুপা চার হাজার পাঁচশ টাকার ঘরে থাকায় রুপার চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে দেশের বাজারও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে পারে। সেক্ষেত্রে দাম কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আপাতত মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকেই যাচ্ছে।
স্বর্ণ দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। বিয়ে, উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বর্ণের ব্যবহার অপরিহার্য। ফলে দামের বৃদ্ধি আনন্দের মুহূর্তগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে অনেকে মনে করছেন, স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ হিসেবেও লাভজনক। তাই বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হলেও অনেকেই বিকল্প বিনিয়োগ পরিকল্পনায় স্বর্ণকে রাখবেন।
যদিও বাজারে স্থিতিশীলতা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাঙ্খিত, তবুও দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক প্রভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে নতুন দামে স্বর্ণ কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সচেতন ও হালনাগাদ তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”





