দেশের রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার প্রথমবারের মতো পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্তে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির (Deemed Export) অনুমোদন দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (মূসক আইন ও বিধি) ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি ৯ অক্টোবর জারি করা হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে প্রকৃত রপ্তানিকারকের কাছে পণ্য বা সেবা সরবরাহ করেন, তাহলে সেটি “মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২” এর ধারা ২(৬২) অনুযায়ী প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা দেশের অভ্যন্তরেই পণ্য বা সেবা সরবরাহ করে রপ্তানি সুবিধা ও প্রণোদনার আওতায় আসতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে সরবরাহকারীদের অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হবে।
প্রথমত, সরবরাহকৃত পণ্য বা সেবাটি অবশ্যই অনুমোদিত স্বত্বাধিকারক বা প্রকৃত রপ্তানিকারকের জন্য হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, পণ্য বা সেবার মূল্য লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে অর্থ লেনদেন স্বচ্ছ থাকে।
তৃতীয়ত, সরবরাহের আগে স্বত্বাধিকারক বা তার অনুমোদিত প্রতিনিধির সঙ্গে লিখিত চুক্তি থাকতে হবে।
চতুর্থত, প্রতিটি সরবরাহের জন্য সিস্টেমভুক্ত ইনভয়েস থাকতে হবে।
পঞ্চমত, সরবরাহ সংক্রান্ত লেনদেনের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে হবে, যাতে সরকার সহজে তথ্য যাচাই ও পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়ায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রচ্ছন্ন রপ্তানি নীতিমালা কার্যকর হলে স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদনকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হতে পারবেন। পাশাপাশি, রপ্তানি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও কর সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে—এই নীতিমালার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও (এসএমই) রপ্তানি সুবিধার আওতায় আসবেন, যা তাদের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির আওতা আরও বাড়ানো হবে এবং ডিজিটাল ভ্যাট সিস্টেমে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করা হবে।





