পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত বাদুরতলী স্লুইস খালটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি শুধু পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নয়, আশপাশের বাদুরতলী, মধ্যটিয়াখালীসহ অন্তত চারটি গ্রামের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এ খালটির একাধিক জায়গায় অবৈধ দখল, বাঁধ এবং অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, খালের মাঝপথে দেওয়া হয়েছে একাধিক বাঁধ, যেগুলো পানির গতি রুদ্ধ করে দুই পাড়ে পলি জমিয়ে খালকে ধীরে ধীরে ভরাট করে ফেলছে। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, খাল দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ করছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী দখলদার। বিগত সরকারের আমলে এই খালটিতে মাত্র ৩০-৩৫ ফুট প্রস্থের একটি কালভার্ট নির্মাণ করে পানি চলাচলের একমাত্র পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ প্রকৃতপক্ষে খালটির প্রস্থ ছিল ২০০ ফুট।
কলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বড় সিকদারবাড়ি এলাকার খালপাড়ে নির্মিত কালভার্টের নিচেও মাটি ভরাট করে দিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এতে মাছ চলাচল তো দূরের কথা, পানির ন্যূনতম প্রবাহও আর সম্ভব হচ্ছে না। এ ঘটনাকে অনেকে বলছেন “সরকারি টাকায় খাল হত্যা”।
শিক্ষক ফোরকানুল ইসলাম সিকদার বলেন, গার্ডার ব্রিজ করলে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকত। কিন্তু কালভার্ট দিয়ে এভাবে খালের মুখ বন্ধ করে পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই কথা বলেন পরিবেশ সচেতন স্থানীয়রা। তাদের মতে, যারা খাল রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন, তারাই এখন পরিবেশের ক্ষতি করছেন।
চিঙ্গুরিয়া এলাকায়ও এক তৃতীয়াংশ খাল দখল করে গোরস্থানের দেয়াল নির্মাণ করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এতে জোয়ারের সময় পানির গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং খালটি সেখানে প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।
এমন চিত্র কুয়াকাটাতেও। কচ্ছপখালী-নবীনপুর খালের পাড় দখল করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে কুয়াকাটা পৌরসভার ভবনের পাশেই। ফলে ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের পথও আজ সংকুচিত।
পরিবেশ কর্মী কেএম বাচ্চু বলেন, যারা দখল রোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারাই পরিবেশ ধ্বংসে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এর বিরুদ্ধে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, দখল ও দূষণ রোধে চলমান রয়েছে মোবাইল কোর্ট। ইতোমধ্যে ১২টি খালের অন্তত ৬০টি বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া খালের খনন, পরিষ্কার কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত অভিযান চলছে।
তবে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান ও উচ্ছেদ কার্যক্রম চালালেও যারা খাল দখলের পেছনে রয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনাই হবে টেকসই সমাধান।





