শিশুর মোবাইল আসক্তি কমাতে বিশেষজ্ঞের কার্যকর পরামর্শ

Views: 35

জেন ও আলফা প্রজন্মের শিশুদের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তি। রিলস, কার্টুন, গেম—সব মিলিয়ে স্ক্রিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে তারা হয়ে পড়ছে জেদি, অমনোযোগী এবং শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়। এতে তাদের আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, কমে যাচ্ছে মনোযোগ ক্ষমতা। উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের জন্য এ বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান

তিনি বলেন, শিশুকে স্ক্রিনের নেশা থেকে দূরে আনতে সবচেয়ে আগে অভিভাবকদের নিজেদের আচরণ বদলাতে হবে। সন্তানের সামনে সবসময় ফোন হাতে থাকলে সে সেটাকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন বলে ধরে নেয়। তাই পরিবারের সদস্যদের উচিত সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তগুলোতে মোবাইল দূরে রাখা, তার পরিবর্তে গল্প বলা, একসঙ্গে খেলাধুলা করা কিংবা রান্নাঘরে সাহায্য নেওয়ার মতো কার্যক্রমে তাকে যুক্ত রাখা। এতে শিশুর মনোযোগ ধীরে ধীরে স্ক্রিন থেকে সরে আসবে।

অনেক মা–বাবা খাওয়ানোর সময় শিশুর হাতে মোবাইল দেন, যাতে খেতে সুবিধা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শিশুর খাবারের প্রতি মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং খাবার গ্রহণে অস্বাভাবিকতা তৈরি করে। পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেলে শিশুর সামাজিক দক্ষতা বাড়ে, সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়—যা মনোভাবেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সময়াভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলে ঘরের ভেতরেই একটি ছোট খেলাঘর তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেখানে থাকবে সৃষ্টিশীল ও শিক্ষামূলক খেলার উপকরণ—লুডো, ব্লকসেট, পাজল, গল্পের বই, রং করার সামগ্রী ইত্যাদি। এসব খেলায় মনোযোগ দিলে শিশু স্ক্রিন ভুলে সময় কাটাতে শেখে।

তবে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা—হঠাৎ মোবাইল কেড়ে নেওয়া যাবে না। এতে শিশুর আচরণ আরও জেদি ও চঞ্চল হতে পারে। তার পরিবর্তে প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে ধীরে ধীরে স্ক্রিন টাইম কমানোর পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর। যেমন—প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কার্টুন দেখার নিয়ম করলে সে ধীরে ধীরে নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই ফোন ব্যবহারের সময় কমে আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মোবাইল আসক্তি কমানো কোনো শাস্তির বিষয় নয়। তাকে বোঝানো প্রয়োজন যে ফোনের বাইরে আরও রঙিন, প্রাণবন্ত ও সৃষ্টিশীল একটি পৃথিবী রয়েছে। ধৈর্য, নিয়ম এবং ভালোবাসা—এ তিনটির সমন্বয়ই পারে শিশুকে আবারও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে ফিরিয়ে আনতে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

image_pdfimage_print

Posted on: December 3, 2025 | Author: Chandradip News24