লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিভে গেল চার প্রাণ, ভোলায় শোকের ছায়া

Views: 23

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় নেমে এসেছে গভীর শোক। নিহতদের সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য এবং অধিকাংশই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামগুলোর আকাশ-বাতাস।

নিহতরা হলেন—লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের কাজীরাবাদ গ্রামের সেরাজুল হকের ছেলে আব্দুল গনি (৩৫), একই উপজেলার কালু খাঁনের ছেলে মো. সাজু (৪৭), গজারিয়া ইউনিয়নের কচুয়াখালী গ্রামের মো. মিলনের স্ত্রী রিনা আক্তার (৩৫) এবং চরফ্যাশন উপজেলার আহম্মেদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামের মো. হানিফ (৬০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে চরফ্যাশনের ঘোষেরহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি। পথে বোরহানউদ্দিনের দেউলা ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে রাতের বেলা চাঁদপুরের হরিণা এলাকায় পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে লঞ্চটি। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির বরিশাল-ঝালকাঠিগামী এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি সজোরে ধাক্কা দেয়।

সংঘর্ষে জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটির এক পাশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ডেকে ঘুমিয়ে থাকা চার যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও কয়েকজন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত রাজমিস্ত্রি আব্দুল গনি ছিলেন তিন সন্তানের জনক। ঋণের বোঝা সামাল দিতে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তিনি। তার বৃদ্ধ মা শাহানুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেটা ছাড়া সংসার চলবে কেমনে? এখন আমার নাতি-নাতনিদের কে দেখবে?’

গনির স্ত্রী বলেন, ঋণ করে টিনের ঘর তুলেছিলেন। সেই ঋণ শোধ করতেই স্বামী ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একইভাবে মো. সাজুর বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। কৃষিকাজ ও দিনমজুরির মাধ্যমে সংসার চালানো সাজু ছোট মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ করতে ঢাকায় যাচ্ছিলেন বলে জানান তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘স্বামীকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’

নিহতদের স্বজনরা এ দুর্ঘটনাকে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার ফল বলে দাবি করে দোষীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মরদেহ শনিবার ভোরে নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 

image_pdfimage_print

Posted on: December 27, 2025 | Author: Chandradip News24