পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কাজী মো. জাহিদুল ইসলামকে ঘুষ ফেরতের দাবিতে অবরুদ্ধ করেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আধঘণ্টা ধরে অন্তত ১৫–২০ জন ভুক্তভোগী তাকে অফিসে আটকে রাখেন। পরে উপজেলা সার্ভেয়ার মো. আনসার উদ্দীন ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাকির হোসাইন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থের নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় কয়েকজন লিখিত অভিযোগও জমা দেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, খাস জমির বন্দোবস্ত, ভেকু গাড়ি আটকের ছাড়পত্র, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর, হোল্ডিং অনুমোদন, মিউটেশন, এমনকি সরকারি খাল–পুকুর ইজারাসহ নানা কাজে জাহিদুল ইসলাম নিয়মিত ঘুষ দাবি করতেন। তার দালালদের মাধ্যমে টাকা নিতে বাধ্য করা হতো এবং টাকা না দিলে ভোগান্তির শিকার হতে হতো।
সরকারি কলেজের অফিস সহায়ক মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, “একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে কষ্ট করে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি।”
ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের মিজানুর রহমান জানান, “আমার জমি খাস খতিয়ানে নেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষমেশ ১৪ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই।”
স্থানীয় গোলাম রাব্বি অভিযোগ করে বলেন, “নতুন ভেকু কিনলে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেয় এবং খাস জমির বন্দোবস্তের জন্য আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করে।”
ভেকু গাড়ির মালিক সোহরাব মৃধা বলেন, “ইউএনওর নাম ব্যবহার করে আমার গাড়ির চাবি আটকানো হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা দিলে চাবি ফেরত দেওয়া হয়।”
অভিযুক্ত কর্মকর্তা কাজী মো. জাহিদুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাকির হোসাইন বলেন, “লোকজনের অভিযোগ ছিল জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে। বিষয়টি এসিল্যান্ডকে জানানো হয়েছে।”
উপজেলা সার্ভেয়ার মো. আনসার উদ্দীন জানান, “বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। এসিল্যান্ডকে জানিয়েছি, তিনি এলে ব্যবস্থা নেবেন।”
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদ উল আলম বলেন, “ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





