যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। এবার চূড়ান্ত হয়েছে মালিকানা সংক্রান্ত চুক্তি, যার মাধ্যমে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম পরিচালনা করবে একটি আমেরিকান মালিকানাধীন যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠান।
নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর ডেটা সুরক্ষা, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও সফটওয়্যার নিরাপত্তা জোরদার করা। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। যৌথ উদ্যোগের অধীনে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং নেতৃত্ব দলও ঘোষণা করা হয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধেছিলেন, যাতে চীনা মালিকানাধীন বাইটড্যান্স টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশ আলাদা করতে বাধ্য হয়। না হলে অ্যাপটি নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ত।
নতুন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হয়েছেন অ্যাডাম প্রেসার, যিনি আগে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ডেটা সুরক্ষা উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে আছেন উইল ফ্যারেল। পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন টিকটক ইউএস প্রধান শৌ চিউ, ওরাকলের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কেনেথ গ্লুক, সিলভার লেক, সকোয়েহানা ও এমজিএক্সের প্রতিনিধি।
চুক্তির পর ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে টিকটকের অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ এখন নতুন মালিকানার হাতে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ডেটা সংরক্ষণের দায়িত্বও পাবেন ওরাকল। বাইটড্যান্স বৈশ্বিক পর্যায়ে বিজ্ঞাপন, ই-কমার্স ও বিপণন কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
নতুন যৌথ উদ্যোগে ৫০ শতাংশ মালিকানা থাকবে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হাতে, যেখানে ওরাকল, সিলভার লেক ও এমজিএক্সের শেয়ার রয়েছে। ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকবে বাইটড্যান্স সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের হাতে, এবং ১৯.৯ শতাংশ থাকবে বাইটড্যান্সের নিয়ন্ত্রণে।
চুক্তি ঘিরে বিতর্কও থামেনি। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কি অ্যালগরিদমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নতুন প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স থেকে অ্যালগরিদম লাইসেন্স নেবে, যা পরে পুনরায় প্রশিক্ষণ ও পর্যালোচনা করা হবে। এটি ভবিষ্যতে আলোচনার বিষয় হতে পারে।
টিকটক ইস্যু কেবল প্রযুক্তি নয়, এটি কূটনীতি ও বাণিজ্য রাজনীতির অংশ হয়ে উঠেছে, যা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককেও প্রভাবিত করেছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





